আজ সোমবার ২১ জানুয়ারি, ২০১৯ ইং ৮ মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ শীতকাল ১৪ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম :
বিপিএলসহ আজকের খেলা গোপালগঞ্জের অপরিকল্পিত স্লুইসগেট কৃষকের গলার কাটা ইয়াবাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী আটক মাগুরায় ট্রাক চাপায় ১ কলেজ ছাত্র নিহত বন্দুকযুদ্ধে টেকনাফে মাদকবিক্রেতা নিহত আজ পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ নাজমুল হুদার জামিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ওআইসি মহাসচিবের অভিনন্দন প্রতারণার অভিযোগে সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ গ্রেফতার ভাসুরকে ফাঁসাতে নিজের এক মাসের শিশুকে হত্যা!  ‘বই মানুষের বিবেক শক্তিকে জাগ্রত করে’ চাঁদের মালিকানা  নিয়ে  দ্বন্ধ জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে হবে-প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনীর প্রধান আওরঙ্গজেব মেডিকেল কলেজের ছাদ ধ্বসে হতাহতের সহায়তা কাল নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠক ডাকসু নির্বাচন : অছাত্রদের হল ছাড়ার নির্দেশ অটো রিক্সা খাদে: পুলিশকে গণপিটুনী নাগরিক অধিকার আন্দোলন’র সভা ভারতীয় দুই কবি যশোরে বাগেরহাটে  গার্লস স্কুলে গোপনে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ চর তাম্বুলপুরে নড়বড়ে সাঁকোই ভরসা খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দুইজন  গ্রেফতার পরিবেশ রক্ষায় চার প্রতিষ্ঠানকে পদক প্রদান

আল্লাহ প্রেমিক মানুষ ধৈর্যশীল

মাওলানা ইসরাফিল হোসেন : মহাগ্রন্থ আল কুরআনের বাণী : ‌‌‘আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।’ ধৈর্য  মানবিক নীতি নৈতিকতাপূর্ণ আচার আচরণের অন্তর্ভুক্ত। এই গুণের অভাবে মানুষ দৈনন্দিন জীবনে মারাত্মক ক্ষতির মুখোমুখি হয়ে পড়ে।

অন্য দিকে এই গুণের অবলম্বনে মহাবিপদেও সাফল্যের স্বর্ণ শেখরে অবস্থান করতে পারে। জীবনে চাওয়া পাওয়ার ক্ষেত্রে বিষয়টির গুরুত্ব আরো বেশি। কাজেই অভাব হলে সার্বিক ক্ষেত্রে অমানিশার কালো মেঘে জীবনের গতিকে থমকে দেয়। যারা ঈমানদার পরকালমুখি ও আল্লাহগতপ্রাণ তাদের জন্য বিষয়টির গুরুত্বের কথা বলে শেষ করা যায় না। আল্লাহগত পরকালমুখি মানুষতো দুনিয়াকে স্থায়ী বাসের স্থান বলে মনে করতে পারে না। বরং তাদের জন্য দুনিয়ার জীবন তো পরকালের জীবনের উপার্জনের ক্ষেত্র। এখানকার উপার্জন হবে পরকালের মুক্তির একমাত্র সাফল্যের নেয়ামক।

মহানবীর (স.) ঘটনাবহুল জীবনের প্রতিটি বিষয়ে আমাদের জন্য  শিক্ষনীয়  রয়েছে। সে ঘটনাগুলো যদি আমরা অনুসরণ করতে পারি তবেই আমরা জীবনকে সর্ব অবস্থায় সার্থক করে তুলতে সক্ষম হবো। নতুবা জীবন জীবনই থাকবে, সে জীবনের কোনো মূল্যই হবে না। মানুষ-মানুষই, পশু নয়। পশুরও একটা জীবন আছে। মানুষেরও একটি জীবন আছে। জীবন আছে বলে পশুতে ও মানুষের মধ্যে যে পার্থক্য তা ব্যাপক। একটু খেয়াল করলে আমরা অবশ্য বুঝতে পারবো। যে খাওয়া-দাওয়া, পেশাব- পায়খানা, দেখা-শোনা, সন্তান জন্ম, ভালোবাসা, রাগ-বিরাগ,আবেগ, অনুভুতি প্রভৃতি সব ক্ষেত্রে মানুষে পশুতে কোনো পার্থক্য নেই বললে চলে। যেটুকু আছে তা হচ্ছে শালিন ও অশালিন। বিষয়টিকে এভাবেও বলা যেতে পারে। এর সব ক্ষেত্রে মানুষের জন্য ¯্রষ্টা কর্তৃক আরোপিত বাছাইকৃত কিছু নিয়ম-নীতি, আইন-কানুন যার সবই ঐশীগত। আর এর কোনোটির প্রয়োজন হয় না পশুর ক্ষেত্রে। আর এখানেই মানুষ আর পশুতে মৌলিক পার্থক্য।

এই মানুষের কর্মক্ষেত্রে ধৈর্যের প্রয়োজন হয়। বিপদ-আপদে মানুষ হতহ্বিল হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে সর্বঅবস্থায় মানুষ যদি ধৈর্যশীলতার পরিচয় দিতে সক্ষম হয় তাহলে ঈমানদার মুমিনের পরাজয়ের কোনো  সুযোগ নেই। তবে তার জন্য কিছু সময় ও অর্থের ক্ষতি হতে পারে এবং এটাই তার জীবনের জন্য পরীক্ষা। এভাবেই তার জীবনের সফলতা এবং ব্যর্থতা আসে। এর বিকল্প মানুষের জীবনই নয়Ñএটাও মানুষ ও পশুর জীবনের মধ্যে আর একটি পার্থক্য।

রসুল (স.) কোনো এক সময় এক ইহুদির কাছ থেকে কিছু ধার করেছিলেন এবং তা পরিশোধও করেছিলেন। তার পরও ওই ইহুদি রসুলের (স.) কাছে ধার পরিশোধের তাগিদ দিল।

রসুল(স.) বললেন, আমি তোমার ধার পরিশোধ করেছি।

ইহুদি বললো, না, আপনি আমার ধার পরিশোধ করেননি।

রসুল (স.) বললেন, করেছি।

এমন সময় একজন সাহাবি সেখানে হাজির হয়ে ঘটনাটি শুনে তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি জানি আপনি ধার পরিশোধ  করেছেন।

রসুল (স.) বললেন, তা কি করে হয়। আপনি তো ধার পরিশোধের সময় সেখানে ছিলেন না। আর আপনি বলছেন, আমি তার ধার পরিশোধ করেছি।

সাহাবি বললেন, এটা সত্য যে আপনি তার ধার পরিশোধ করেছেন। কারণ আমরা মুশরিক ছিলাম। আল্লাহকে চিনতাম না। পরকালের কোনো ধারণা আমাদের ছিল না। কবরের আজাব সম্পর্কে আমাদের কোনো জ্ঞান ছিল না। আপনি আমাদের এসব বিষয়ে বলেছেন। আপনার কথা শুনে বিশ্বাস করেছি এবং মুসলমান হয়েছি। আল্লাহকে আমরা দেখিনি, আপনার কথায় তা বিশ্বাস করে নিয়েছি। অতএব এতগুলো বড় বড় কথা যদি আমরা বিশ্বাস করে নিতে পারি তবে আপনি ইহুদির সামান্য ধার যে পরিশোধ করেছেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। নিশ্চয় আপনি তার ধার পরিশোধ করেছেন।

একজন সাহাবি সুদীর্ঘ সময় রসুলের (স.) সাহচার্যে জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। তিনি বলেন, এই দীর্ঘ সময়ে রসুল (স.) আমাকে কোনো দিন বলেননি, তুমি এটা করনি কেন এবং এটা করলে কেন?

সামাজিক মানুষ হিসেবে সামাজিক পরিমন্ডলে ধনী দরিদ্র সহায় সম্পদশালী আরো অনেকের সাথে আমাদের চলতে হয়। এ ক্ষেত্রে সবার কথা মনে রেখে আমাদের চলতে হয়। আমাদের কর্মক্ষেত্রে আমরা একা একা সময় পার করেতে পারিনে। আনেকের সাথে আমাদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এখানে আমার চাওয়া পাওয়ার বিষয়গুলোর প্রতি বিশেষ খেয়াল রেখে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারলে আমি সবাইকে আমার সহযোগী হিসেবে কাছে পাবো।

কর্মক্ষেত্রে ধৈর্য ও সহনশীলতা ধারণ করতে পারলে জীনের পূর্ণতা আসে। যে পূর্ণতা আর্থিক প্রাচুর্যে মূল্যায়নের নয়। সমাজে যারা ভোগবাদী তারা তারা সব সময় অতৃপ্ত থাকে। চাওয়া-পাওয়ার ক্ষেত্রে তারা দারুণভাবে কাতরতা নিয়ে সব শেষ করে। অপরিমিত আয়-ব্যয় তাদের জীবনে সীমাহীন দুঃখ-দুর্দশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। জীবনের আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্রে একটা ভারসাম্য সৃষ্টি করতে হবে এবং তা নিজেকেই করতে হবে। এ কাজটা কেউ করে দেবে না। সব কাজে আল্লাহর ওপর ভরসা ও পরকালের ভয় অন্তরে লালন করতে পারলে জীবনের সব ক্ষেত্রে শান্তি আশা করা যায়।

আজকের তারিখ

  • আজ সোমবার, ২১শে জানুয়ারি, ২০১৯ ইং
  • ৮ই মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ (শীতকাল)
  • ১৪ই জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী
  • এখন সময়, দুপুর ১২:১৩