শিরোনাম :
নগর পিতার আশ্বাসে তিনদিনের জন্য অবরোধ স্থগিত, বৈঠক সোমবার বাঘারপাড়ায় যুবলীগের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত দুই উপজেলায় নির্বাচনী সংঘাতে রণক্ষেত্র চৌগাছায় হাটু থেকে ফেনসিডিল উদ্ধার ডিজিটাল উপজেলা গড়তে তালা-ফুটবলে ভোট চাইলেন বিপুল সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে রবিবার থেকে মাঠে নামছে পুলিশ সিঙ্গাপুরে নিহত জনির মৃতদেহ চৌগাছায় পারিবারিক গোরস্থানে দাফন সড়ক দুর্ঘটনার শিকার নিপার সরকারি খরচে চিকিৎসা দাবি সুন্দরগঞ্জে গলা কাঁটা ব্রিজ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ  নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারী আইসক্রিম তৈরির ঘরোয়া পদ্ধতি শেখ হাসিনার আজীবন সদস্য পদে নুরুর ‘না’ বিআরটিএ’র বিভিন্ন পদে নিয়োগ মোবাইল ফোন চার্জের অভিনব পদ্ধতি রওশন এরশাদ এবার বিরোধী দলীয় উপনেতা স্বতন্ত্রদের নিয়ে নৌকা-লাঙলের প্রার্থীরা বিপাকে জামা্ইয়ের লাঠির আঘাতে শাশুড়ির মৃত্যু রাজনীতিতে যুক্ত হলেন সানি লিওন ‘চলতি বছরেই খুলনায় হাইটেক পার্ক নির্মাণ কাজ শুরু হবে’ বাগেরহাটে স্বামীকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা ‘১০ সহস্রাধিক নারীকে প্রযুক্তিতে দক্ষ করতে ২১ জেলায় প্রকল্প গ্রহণ’ চীনে কারখানায় বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪ কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার কি? সুবর্ণচরে গণধর্ষণের আসামি রুহুলের জামিন বাতিল ওরিয়ন গ্রুপে সরাসরি সাক্ষাৎকারে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

রসুলের (স.) অনুসরণে আল্লাহর ভালোবাসা লাভ

রসুলের (স.) প্রতি ভালোবাসা নয়

মাওলানা ইসরাফিল হোসেন : রসুলের (স.) প্রতি ভালোবাসা নয়,  তাকে পূর্ণমাত্রায় অনুসরণে মহান আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়া যায়।কুরআনে এ কথাটি বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেছেন : ক্কুল ইন কুনতুম তুহিব্বু নাল্লাহা ফাত্তাবিইয়ুনি ইয়ুহব্বি কুমুল্লাহা। অর্থাৎ, হে নবী আপনি বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও তবে  তোমরা রসুলকে (স.) অনুসরণ করো।

এখানে আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার জন্য রসুলের (স.) ভালোবাসার কথা বলা হয়নি, বলা হয়েছে রসুলের (স.) অনুসরণের কথা।

আয়াতটিতে আল্লাহর ভালোবাসার ক্ষেত্রে রসুলের (স,) ভালোবাসার পূর্বশর্ত হিসেবে আসেনি। বরং পূর্বশর্ত হিসেবে যে শব্দটির উল্লেখ পাওয়া যায় সেটি হচ্ছে অনুসরণ।

আবু তালিব রসুলের (স.) আপন চাচা ছিলেন। রসুলকে (স.) ছোট থেকে আবু তালেব কোলে পিঠে করে লালন-পালন করেছিলেন। সেই চাচার মৃত্যুর সময় তার বিছানায় মাথার পাশে বসে রসুল (স.) নিজের মাথা চাচার মুখের কাছে নিয়ে বলেছিলেন, চাচা আপনি আমার কানে কানে পড়–ন ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসলুুল্লাহ’। তাহলে আমি আপনাকে হাসরের মাঠে আল্লাহর সঙ্গে ঝগড়া করে আপনাকে জান্নাতে নিয়ে যাবো। চাচা আবু তালিব কলেমা পড়েননি। সেখানে অনেক মুশরিক উপস্থিত ছিল। তারা বলেছিল, জীবনে আমাদের নেতৃত্ব দিয়ে শেষ মুহূর্তে মুসলমান হয়ে মরবে? এত দিন তো আমরা তোমাকে নেতা মেনেছি। এখন কাপুরুষের অপবাদ নিয়ে বিদায় নেবো, এ ভয়ে আবু তালিব কলেমা পড়েননি। আবু তালিবের ভালোবাসা ছিল রসুলের (স.) প্রতি। কিন্তু তার জীবনে রসুলের (স.) অনুসরণ ছিল না। কাজেই অনুসরণশূন্য ভালোবাসা সারশূন্য আমল ছাড়া আর কিছুই না।

চাচা আবু তালিবের মৃত্যুর পর তার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া করার উদ্দেশ্যে হাত তোলার সাথে সাথে হজরত জিব্রাইল (আ.) আগমন করলেন এবং বললেন, আপনি হাত নামান। সে তো মুশরিক ছিল। দোয়ায় কোনো কাজ হবে না। এ সব কথা রসুলের (স.) জানা ছিল। তবুও এ কাজ থেকে বিরত থাকতে পারেননি। কারণ তিনি তো মানুষ ছিলেন, তাও সাধারণ মানুষ নয় সৃষ্টির সেরা মানুষ। মানবিক বোধের কারণে চাচা আবু তালিবের প্রতি তাঁর অসীম মমত্বের বহির্প্রকাশ মৃত্যুর সময় কানে কানে কলেমা, মৃত্যুর পর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়ার উদ্দেশ্যে হাত তোলা।

আরো পড়ুন>>>  কোরআন প্রতিযোগিতায় এগিয়ে বাংলাদেশ

অনুসরণের মাধ্যমে ভালোবাসার সৃষ্টি হয়। রসুলের (স.) অনুসরণ ছাড়া আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার সম্ভাবনা আশা করা যায় না। এখন প্রশ্ন হলো রসুলের (স.) অনুসরণ কি ভাবে কতটুকু বা পূর্ণাঙ্গ করা যাবে? এক কথায় উত্তরে বলা যায়, তা হলো জীবনের সব ক্ষেত্রে অনুসরণ করতে হবে। যেমন, প্রতিটি কাজ বিসমিল্লাহ বলে শুরু করা, একে অন্যের সাথে দেখা হলে সালাম বিনিময় করা, খাদ্য গ্রহণের শুরুতে বিসমিল্লাহ ও শেষে আলহামদুল্লিাহ বলা প্রভৃতি। খাবার শেষে আলহামদুলিল্লাহ বললে খাদ্যের কোনো হিসাব আল্লাহর কাছে দিতে হবে না। আরো আছে, যেমন ঘরে ও মসজিদে প্রবেশে ও আসার সময় ডান পায়ের ব্যবহার আগে হতে হবে, আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি যাবার ক্ষেত্রে খালি হাতে না যাওয়া অর্থাৎ কিছু না কিছু উপঢৌকন নিয়ে যাওয়া। ব্যক্তিগত জীবন থেকে পরিবারের সবাইর ক্ষেত্রে এসব অনুসরণ হওয়া দরকার। তাহলে পারিবারিক জীবন সুখী ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ হবে।

দুঃখ-দুর্দশায়, অভাব-অনটনে এক কথায় জীবনের সার্বিক ক্ষেত্রে কুরআন ও হাদিসের মৌলিক আদেশ নিষেধগুলো যদি আমরা কাজে লাগাতে পারি তাহলে আশা করা যায় একটি সহনশীল পরিবেশ সৃষ্টি হবে। এক বৃদ্ধ মহিলা রসুলের (স.) দরবারে হাজির হলেন সাথে তার একটি সন্তানকে নিয়ে। ছেলেটি বেশি বেশি মিষ্টি খায়। কিন্তু মহিলা ওই মিষ্টির পয়সা জোগাড় করতে পারে না।

মহিলার ধারণা রসুলের (স.) কাছ থেকে দোয়া নিয়ে আসতে পারলে ছেলের অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়া কমতে পারে। রসুলের (স.) কাছে মহিলা বিষয়টি খুলে বললেন। রসুল (স.) ছেলেটিকে নিয়ে এক সপ্তাহ পরে আসতে বলেন বৃদ্ধাকে। সাত দিন পার হয়ে গেলে বৃদ্ধা ছেলেটিকে নিয়ে আবার হাজির হন। রসুল (স.) ছেলেটিকে কাছে টেনে নিয়ে গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, তোমার মা মিষ্টি কেনার টাকা জোগাড় করতে পারেন না। তুমি মিষ্টি খাওয়া কমিয়ে দাও। বৃদ্ধা সেখান থেকে চলে গেলে সাহাবীরা জানতে চাইলেন, ইয়া রসুল্লাহ (স.) এ কথাটুকু তো ওই দিনই বলে দেয়া যেত।

উত্তরে রসুল (স.) বললেন, আমি ওই দিন পর্যন্ত ছেলেটির মতো মিষ্টি খওয়ায় অভ্যস্ত ছিলাম। তাই আমি নিজে যে কাজটি করি তা অন্যকে নিষেধ করতে পারিনে। আমি এ কদিনে মিষ্টি খাওয়া কমিয়ে দিয়েছি। তারপর ছেলেটিকে মিষ্টি খাওয়া কমাতে বলেছি। রসুল (স.) নিজের চরিত্রের সাথে সঙ্গতি রেখে মানুষকে  উপদেশ দিয়েছেন।

পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করা হয়েছে : হে ঈমানদারেরা, তোমরা সেইকথা বল কেন যা তোমরা নিজেরা কর না। এটা একটি ঘৃণীত অপরাধ।