শিরোনাম :
যশোর জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত মিয়ানমারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের পাল্টা আক্রমণ সেই ঘাতক বাসের নিবন্ধন বাতিল যশোরে তালা প্রতীকের লিফলেট বিতরণ বাংলাদেশ-ভারত ফাইনালে ওঠার লড়াই আগামীকাল মণিরামপুরে হত্যা মামলায় যুবলীগ নেতা আটক দেশীয় সফটওয়্যার ব্যবহারের আহ্বান সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আবারো স্কুল ছাত্রীকে শ্লীলতাহানী করার অভিযোগ যশোরের চার ইউনিয়নে তালা-ফুটবলের নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন সিভিল সার্জন এর কার্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাংলাকে বিকৃত করছে গুগল ও ফেসবুক ওরশ মাহফিলে যাওয়ার সময় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ যশোর জেস টাওয়ারে আগুন ঢাকার কোনো রুটে চলবে না সু-প্রভাত বাস! আন্দোলনের মুখে বাগেরহাটের সেই শিক্ষককে বরখাস্ত ট্রাক চাপায় প্রাণ হারালেন সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী-ছেলে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে মেসির একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী এমবাপে কিশোর খুনের ১২ বছর পর ৩ আসামির যাবজ্জীবন গাইবান্ধায় প্রায় ৫ শতাংশ ভোট বাতিল যশোরে ড্রাইভিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণের শর্ত ফাইল প্রতি দুই হাজার চৌগাছায় নির্বাচনী সহিংসতায় ৩ আ.লীগ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার আগামীকাল ক্লাস বর্জন ও সড়ক অবরোধে শিক্ষার্থীদের আহ্বান জবিতে ১০৩ পদে আবেদনের বাকি ২ দিন রংপুরের স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মহাসড়ক অবরোধ ৫ ইটভাটাকে ১৮ লাখ টাকা জরিমানা : ভেঙে দেয়া হলো ৩ টি

সরোজগঞ্জে সপ্তাহে ২ কোটি টাকার খেজুর গুড় বিকিকিনি

সপ্তাহে দেড় কোটি থেকে দুই টাকার গুড়

জেলা প্রতিনিধি চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জে খেজুর গুড়ের হাট জমে উঠেছে। সপ্তাহে দেড় কোটি থেকে দুই টাকার গুড় বেচাকেনা হচ্ছে এ হাটে। সরোজগঞ্জ খেজুর গুড়ের হাট দেশের বৃহত্তম খেজুর গুড়ের হাট।

চুয়াডাঙ্গার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আজিজুল হক জানান, ১৯৬০ সালের শেষের দিকে যশোরে ব্রিটিশদের কারখানা ছিলো। সেখানে গুড় থেকে চিনি উৎপাদন হতো। সেগুলো বিভিন্ন জায়গায় রপ্তানী হতো ট্রেনে। চুয়াডাঙ্গার পুরাতন বিডিআর ক্যাম্পের কাছে বসতো গুড়ের হাট।

সেখান থেকে নৌকা ও ঘোড়ার গাড়িতে করে খেজুর গুড় পাবনা, সাভার, বরিশাল, ফরিদপুর, গোয়ালন্দঘাটসহ বিভিন্ন হাটে বাজারে চলে যেতো। বর্তমানে প্রতিটি হাটে ক্রেতারা খেজুর গুড় কিনে ট্রাকযোগে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায়। দুদিনের হাটে ৬০০ হতে ৮০০টি মাটির ভাড়ে দেড় কোটি  থেকে দুই কোটি টাকার গুড় বেচাকেনা হয়। চলতি মৌসুমে এই হাট থেকে প্রতি সপ্তাহে ২০ থেকে ৩০ ট্রাক গুড় দেশের বিভিন্ন শহরে ও হাট বাজারে রপ্তানি হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ধুতোরহাটের খলিল জানান, গত কয়েক হাটে খেজুর গুড় বিক্রি হয়েছে ৭৫ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে । ব্যাপারীরা কেজি দরের চেয়ে ভাড় ধরে কিনতে অধিক আগ্রহী। প্রতি ভাড় (১০ থেকে ১২ কেজি) গুড় ৯০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ।

দশমাইলের গুড় ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ জানান, ভাড়ের নীচে তাত রস জালিয়ে নিন্ম মানের গুড় ও ভাড়ের ওপর অংশে ভালো গুড় দিয়ে ভাড় ভর্তি করায় গুড়ের মান কমে যাচ্ছে ।

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুর রহমান বলেন, বেশ ক’বছর কিছু খেজুর গুড় উৎপাদনকারীরা চিনি দিয়ে গুড় বানাচ্ছেন। বর্তমানে ১ কেজি খেজুর গুড় ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু ১ কেজি চিনির দাম পড়ছে ৫০ টাকা। সেকারণে ব্যবসায়ীরা অধিক লাভের আশায় গুড় তৈরির সময় গোপনে চিনি ব্যবহার করছেন। তাছাড়া তাত রসে গুড়ের মান খারাপ হচ্ছে। এতে গুড়ের চাহিদা ও দাম কমে যাচ্ছে। গুড় তৈরি করে মাটির ভাড়ে ঢালার পর মুখের অংশে ভাল গুড় দেয়া হয়। এ কারণে বোঝা যায় না ভাড়ে গুড় ভালো নাকি খারাপ। নিন্ম মানের খেজুর গুড় হাটে আনার কারণে সেগুলো ভেঙে দেয়া হয়েছে। মাইকিং করে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। তবুও কিছু নিন্ম মানের গুড় বিক্রি হচ্ছেই। চুয়াডাঙ্গায় উৎপাদিত খেজুর গুড় অত্যন্ত ভালো। সে কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিন্মমানের খেঁজুর গুড় বাজারজাত ঠেকাতে গুড় পরীক্ষার মেশিন ব্যবহার জরুরি। চুয়াডাঙ্গার গুড় ইংল্যান্ডে রফতানি করার প্রক্রিয়া করেছিলো চট্টগ্রাম ও সিলেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী। তারা কয়েক চালান গুড় সেখানে পাঠিয়েছিলো। গুড়ের মান খারাপ হওয়ায় গুড় রফতানি বন্ধ হয়ে গেছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলায় ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৬০টি খেজুর গাছ থেকে খেজুর রস সংগ্রহ হচ্ছে। গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা এবার ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫০০ মেট্রিকটন।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাঈম আস সাকীব জানান, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ৯৩ হাজার ৪৫০টি, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৩৫ হাজার ৩১০টি, দামুড়হুদা উপজেলায় ৮৩ হাজার ৭০০টি এবং জীবননগর উপজেলায় ৩৬ হাজার৫০০টি খেজুরের গাছ রয়েছে। শীত মৌসুমে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ১ হাজার ৫০ মেট্রিক টন, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ২৫০ মেট্রিক টন, দামুড়হুদা উপজেলায় ৯০০ মেট্রিক টন এবং জীবননগর উপজেলায় ৩০০ মেট্রিক টন খেজুর গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এ জেলায় গুড় স্বাস্ব্যসম্মত ও মানসম্মত করে তৈরি হয়। এখানকার গুড় ও পাটালি মানসম্পন্ন। তাই সারা দেশে এর কদর বেশি।এ গুড় বিক্রির ফলে চুয়াডাঙ্গা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হলে দেশ লাভবান হবে। আশা করা যায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে গুড় বেশি উৎপাদন হবে।

স্বাআলো/আরবিএ