‘আপসহীন’ নেত্রীর নিয়তি কী?

সুমন পাটোয়ারী : দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার কথা বলে আসছে বিএনপি। এজন্য  তাদের নেতাকর্মীরা বছরের পর বছর আন্দোলন করেছেন।হয়েছেন মামলার শিকার। সেই মামলায় অনেকের সাজাও হয়েছে। তাদের এই দাবির সাথে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর তার মুক্তি যুক্ত হয়েছে। আর সম্প্রতি বিএনপি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে যৌথভাবে সাত দফা দাবি উত্থাপন করেছে।

কিন্তু এখন বড় খবর হচ্ছে সংলাপের কারণে তাদের এই দীর্ঘদিনের আন্দোলন, নেতাকর্মীদের ত্যাগ কি বৃথা যাবে? যদি তাই হয়, তাহলে বিএনপিকে তাদের আগের সিদ্ধান্ত ভুল বলে স্বীকার করতে হবে। কারণ তাদের ওই সিদ্ধান্তের কারণে দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী এখনো বিপদে আছেন।

যদিও সংলাপের নামে কোনো ফাঁদ বা ধোঁকায় বিএনপি পড়বে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

দুর্নীতির মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের মেয়াদ বাড়ানোর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাজধানীতে গণঅনশনে একথা বলেন বিএনপির এই প্রভাবশালী নেতা।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘আমরা সাতদফা দিয়েছি। ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছে জনগণের কল্যাণে। আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অনেক কথা হচ্ছে। লোক দেখানো সংলাপ, আমাদের ফাঁদে ফেলানোর সংলাপ। অনেক দিন যাবত রাজনীতি করি। যারা বসবেন তাদেরকেও আমরা চিনি। তাই আপনারা আমাদের ফাঁদে ফেলবেন, ধোঁকা দিবেন আর এটা সম্ভব হবে না।’

‘আমাদের পরিষ্কার কথা। আগামী নির্বাচন যদি করতে হয় সাত দফাকে মানতে হবে। সাত দফাকে বাস্তবায়ন না করে এদেশে কোনো নির্বাচন হতে দেব না, সম্ভব হবে না।’

তবে মুখে যা বলুক না কেন, বিএনপি নেতারা ড. কামাল হোসেনদের কাছে যেভাবে আত্মসমর্পণ করেছেন তা ‘আপনহীন নেত্রী’ দলের কাজ থেকে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আশা করেন না।

 

লেখক : শিক্ষার্থী, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়।

(মতামতের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ি নয়)