ইতিহাসের পাতায় ডা. দীপু মনি

ডেস্ক রিপোর্ট: নারী শিক্ষার অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের বাংলাদেশ পেলো একজন নারী শিক্ষামন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ সোমবার  ৪৭ সদস্যের নতুন এই মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া ২৪ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী ও তিনজন উপমন্ত্রী শপথ নিয়েছেন।

এর মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন ডা. দীপু মনি, যিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া প্রথম নারী। এর আগে নবম সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে  তিনি প্রথম নারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

শিক্ষাক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উচ্চ শিক্ষিত নবনির্বাচিত এই শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ।

ডা. দীপু মনি ১৯৬৫ সালের ৮ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও ভাষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের প্রথম কাউন্সিল-নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এম.এ ওয়াদুদের কন্যা দীপু মনি । তিনি হলিক্রস কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস এবং বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হতে এলএলবি পড়েন। এমবিবিএস ডিগ্রি লাভের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব পাবলিক হেলথ থেকে এমপিএইচ ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমঝোতা ও দ্বন্দ্ব নিরসন এর ওপর একটি কোর্স সম্পন্ন করেন। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের একজন আইনজীবী ।

২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের জয়লাভের পর বাংলাদেশে প্রথম মহিলা পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি নিয়োগ পান। দশম জাতীয় সংসদে ডা: দীপু মনি চাঁদপুর-৩ আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন। সামাজিক উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে তাঁর অনন্য অবদানের জন্য তিনি মাদার তেরেসা আন্তর্জাতিক পুরষ্কারে ভূষিত হন। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ২০তম কাউন্সিলে তিনি পুনরায় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন।  ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি তিনি একাদশ জাতীয় সংসদের অধীনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এর দায়িত্ব পান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি কমনওয়েলথ মিনিস্ট্রেরিয়াল অ্যাকশন গ্রুপ-এর প্রথম নারী এবং দক্ষিণ এশীয় চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন। এছাড়া তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ সমুদ্র জয় করে। এতে করে বাংলাদেশ সরকার প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার এবং ভারতের সাথে প্রায় চার দশকের সমুদ্র সীমা সংক্রান্ত অমীমাংসিত বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় চূড়ান্ত ভাবে নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করে।

বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের অ্যাডভোকেট তৌফীক নাওয়াজ দীপু মনির স্বামী। তিনি আন্তর্জাতিক একটি ল’ফার্মের প্রধান। তিনি উপমহাদেশের দু’ হাজার বছরের ঐতিহ্য মন্ডিত ধ্রুপদী সঙ্গীতের উৎস হিসেবে পরিচিত ‘আলাপ’ এর একজন শিল্পী। তাঁদের রয়েছে দু’সন্তান। পুত্র তওকীর রাশাদ নাওয়াজ ও কন্যা তানি দীপাভলী নাওয়াজ।

ডা. দীপু মনি বাংলাদেশের প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের জয়লাভের পর বাংলাদেশে প্রথম মহিলা পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি নিয়োগ পান।

আরো পড়ুন: নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি

দীপু মনি চাঁদপুর-৩ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়- প্রতিবেশী দেশসমূহের সাথে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীণ সময়ে তিনি কমনওয়েলথ মিনিস্ট্রেরিয়াল অ্যাকশন গ্রুপ-এর প্রথম নারী এবং দক্ষিণ এশীয় চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন। এছাড়া তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ সমুদ্র জয় করে। এতে করে বাংলাদেশ সরকার প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার এবং ভারতের সাথে প্রায় চার দশকের সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত অমীমাংসিত বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করে ।

গণতন্ত্র ও বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ঘনিষ্ঠ সঙ্গী এবং আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতাকালীন সদস্য মরহুম এম.এ. ওয়াদুদের কন্যা তিনি। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ছিলেন।

স্বাআলো/ডিএম