ফুল চাষ করে স্বাবলম্বী হাকিম

আব্দুল হাকিম মিয়া

রংপুর ব্যুরো : আব্দুল হাকিম মিয়া বিগত ৭ বছর বছর আগে বগুড়ার মহাস্থানগড়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানকার ফুলের বাগান দেখে আকৃষ্ট হন তিনি। কথা বলেন বাগানের মালিক ও মালির সঙ্গে। পরে নিজ বাড়ীতে ফিরে এসে শখের বসে ফুল চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তিনি বাণিজ্যিক ভাবে ফুল চাষ কর তা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন। এতে তার পরিবারে ফিরে এসেছে সচ্ছলতা।

আব্দুল হাকিম মিয়া রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমে করতোয়া নদী ঘেষা টুকুরিয়া ইউনিয়নের ছাতুয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম  আব্দুল জব্বার মিয়া। ৭ বছর আগে  তিনি তার সম্বল ৩৩ শতক জমির একাংশে ফুল চাষ করেন । তার বাগানের ফুল বাজারে বিক্রি করে ভাল আয় হওয়ায়পরের বছরপুরো জমিতে ফুলচাষ করেন। ফুল চাষ ও বিক্রি করে তার সংসারেও সচ্ছলতা নিয়ে এসেছেন।

গত ৭ বছরে ফুল বিক্রি করে তার যে লাভ হয়েছে তা দিয়ে ১ একর জমি বন্ধক এবং ১ একর জমি লিজ নিয়েছেন। লিজের জমিতেই ফুলের চাষ করছেন। তার মতে এক একর জমিতে ফুল চাষ করতে বছরে খরচ হয় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা । এই ফুল সারা বছর বিক্রি করা যায়। এই ফুল বিক্রি করে আয় হয় থাকে ৩ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা।

তিনি পীরগঞ্জ উপজেলা ছাড়াও দিনাজপুর, নবাবগঞ্জ, দাউদপুরসহ বিভিন্ন হাট বাজার ফুল ও চারা বিক্রি করেন। হাকিমের নার্সারিতে বিভিন্নপ্রকারের গোলাপ,গাদা, স্টার, দোপাটি, ক্যালেন্ডুলা, ডালিয়া, রঙ্গন, হাসনাহেনা, ভারত থেকে আনা এ্যানকাসহ নানান প্রজাতীর ফুল ও ফুলের চারা এবং সাথী চারা হিসেবে উন্নত জাতের বিভিন্নপ্রকার আম, পেপে, কাঠাল লিচু, থাই পেয়ারা, ডালিম নটকো, জাম্বুরার চারা তৈরি ও বিক্রি করেন। এসব ফলের চারা থেকেও তার বাড়তি আয় হয়ে থাকে।

আর এ আয় দিয়ে তিনি মাটির ঘর ভেঙে আধা-পাকা বাড়িও করেছেন। স্ত্রী, ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতী নাতনীসহ তারপরিবারের সদস্য ৯ জন। এক ছেলে এইচএসসি ও আর এক ছেলে এসএসসিপাশ করেছে। লেখা-পড়ার পাশাপাশি তারাও বাবাকে সহযোগিতা করেন। হাকিমের সংসারে এখন আর অভাব নেই। তার সংসারের সচ্ছলতা ফিরেছে এসেছে।

স্বাআলো/এইসএম