যবিপ্রবি থেকে নৌকা সরালেন শিক্ষক, ক্যাম্পাসে উত্তেজনা

যবিপ্রবি থেকে নৌকা সরালেন শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর: যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নৌকা প্রতীক সরিয়ে দিলেন ইকবাল কবির জাহিদ নামে এক শিক্ষক। ‘প্রশাসনিক ক্ষমতা’ ব্যবহার করে কয়েক মাস আগে থেকে ছাত্রলীগের টানানো ওই নৌকা প্রতীক ক্যাম্পাস থেকে বিতারিত করেছেন তিনি। এ নিয়ে ছাত্রলীগসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) প্রতিষ্ঠান শুরু থেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে শক্তি ক্যাম্পাসে সংগঠিত। এ কারণে কোন আন্দোলনের কারণে ক্যাম্পাসে লেখাপড়ার পরিবেশ বিঘ্ন ঘটে না। বেশ কয়েক মাস আগে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীরা মিলে ক্যাম্পাসে একটি নৌকা প্রতীক টানিয়ে দেন। কিন্তু কোন ধরনের আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ করে গত সোমবার তা সরিয়ে ফেলেছেন মাইক্রোবাইলোজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইকবাল কবীর জাহিদ। পরে সেখানে একটি র‌্যাগিং বিরোধী পোস্টার লাগিয়ে দেওয়া হয়। এনিয়ে ছাত্রলীগসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা বিষয়টির সমাধাণে প্রক্টর প্রফেসর ড. মিজানুর রহমানের সাথে দেখা করেন।

যবিপ্রবি শেখ হাসিনা হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হুমাইয়া আজমিরা এরিন বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়েই আমরা নৌকা টানিয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করেই ক্যাম্পাস থেকে তা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। নৌকা সরিয়ে সেখানে একটি র‌্যাগিং বিরোধী পোস্টার টানানো হয়েছে। অথচ আমাদের ক্যাম্পাসে ইভটিজিংয়ের ঘটনা ঘটে না। খুব পরিকল্পিতভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অপমান করতেই এই চক্রান্ত করা হচ্ছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

আরো পড়ুন>>> যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি

জানা যায়, ঘটনার পর পরই ছাত্রলীগ নেতাদের পাশাপাশি ইকরামুল কবির দ্বিপ, শাওন পারভেজ, ওমর ফারুক, শরিফউদ্দিনসহ একদল সাধারণ শিক্ষার্থী প্রক্টর প্রফেসর ড. মিজানুর রহমানের সাথে দেখা করেন। কিন্তু সেখানে উপস্থিত সহকারী অধ্যাপক ইকবাল কবীর জাহিদ শিক্ষার্থীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ।

ইকরামুল কবির দ্বিপ বলেন, ‘ক্যাম্পাসে অনেক জায়গা রয়েছে। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে নৌকা নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এজন্য আমরা প্রক্টর স্যারের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানেও আমাদের অপমান করা হয়েছে।’

এনিয়ে সন্ধ্যায় মোবাইল ফেনে একাধিকবার রিং করেও  প্রক্টর ড. মিজানুর রহমান এবং সহকারী অধ্যাপক ইকবাল কবীর জাহিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্বাআলো/এএম