৭৮ বছর ধরে ভুক্তভোগীদের সেতুর দাবি, মেলেনি আজও

জেলা প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়ীয়া-বামানগর ফেরিঘাটে সেতু না থাকায় দীর্ঘ ৭৮ বছর ধরে এলাকাবাসীকে নানা ধরইের দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। বাধাগ্রস্থ হচ্ছে এলাকার কৃষি, বানিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ নানাবিধ উন্নয়ন তৎপরতা।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ইউনিয়ন পরিষদ ভাংবাড়ীয়া। এ ইউনিয়নের পাশেই মাথাভাঙ্গা নদী। নদীটি পার হতে ভাংবাড়ীয়া, চিৎলা, গাংনী, হারদী, কুমারী ও বারাদীসহ মেহেরপুর জেলার ষোলটাকা ইউনিয়নের প্রায় চার লাখ মানুষকে দৈনন্দিন কাজে ফেরিঘাটে ভীড় করতে হয়। বর্ষাকালে নদীর পানি বেশি থাকায় পারাপারে জনগণের অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। কৃষিনির্ভর এলাকার কৃষক তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য বিক্রির জন্য উপজেলা শহর আলমডাঙ্গায় যেতে সমস্যার মুখোমুখি হয়। সেই সঙ্গে এলাকার শিক্ষর্থীদের উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে তাদেরকে যেতে হয় হারদী ও আলমডাঙ্গা এবং কুষ্টিয়া কলেজে। মৌলিক সমস্যার মধ্যে রয়েছে চিকিৎসা। এই চিকিৎসা নিতে হারদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে নদী চরম বাধা। অনেক সময় ঘাটে পারাপারের কেউ না থাকলে বা কোনো সমস্যার সৃষ্টি হলে মুমুর্ষ রোগীদের নিয়ে পড়তে হয় মহা বিপাকে।

স্থানীয় সেবা বাগ মাধমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্বাস উদ্দিন বলেন, ভাংবাড়িয়া-বামানগর অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ ফেরিঘাট। ভাংবাড়িয়া, বামানগর, বাঁশবাড়িয়া, সেখপাড়া, গোপালদিয়াড়, হারদী, কাঠাভাঙ্গা, উদয়পুরসহ নদীর পাশের গ্রামে প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়াও ব্যবসা বানিজ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসা যাওয়া করতে হয়। আবার ভাংবাড়িয়া গ্রামে মাদ্রাসা, সরকারি -বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাশের গ্রাম হাটবোয়ালিয়ায় কলেজ থাকায়  ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হয়ে পশ্চিমপাড়ে যেতে হয়।

ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান কাওসার আহমেদ জানান, ভাংবাড়ীয়া গ্রামটি একটি অতি পুরাতন এবং  ঐতিহ্যবাহী গ্রাম। এই গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদের পাশে একটি বৃহৎ সাপ্তাহিক হাট ও বাজার  রয়েছে। রয়েছে স্কুল ও মাদ্রাসা। তাছাড়া এই  ইউনিয়নের উপর দিয়ে এলাকার ৮টি ইউনিয়নের প্রায় ১৫০টি গ্রামের প্রায় চার লাখ মানুষ ভাংবাড়ীয়া ঘাট ব্যবহার করে আলমডাঙ্গা উপজেলাসহ কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ এবং ঢাকায় যাওয়া আসা করে। এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে চাহিদা। শুধুমাত্র একটি সেতুর অভাবে এলাকার সকল প্রকার উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ভাংবাড়ীয়া ঘাটের দুধারের সড়ক নির্মাণ করা রয়েছে। শুধুমাত্র সেতু নির্মাণ করা হলে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে।

চুয়াডাঙ্গা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারি প্রকৌশলী আসানুল হক জানান, ভাংবাড়ীয়া ইউপি অফিস হতে উদয়পুর হাট ভায়া বাঁশবাড়ীয়া সড়কে চার কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮৪ মিটার সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করার প্রক্রিয়া চলছে। সমস্ত প্রক্রিয়া শেষে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

স্বাআলো/ডিএম