নিখোঁজ জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আব্দুল আজিজ

জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আব্দুল আজিজ

বিনোদন ডেস্ক: জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আব্দুল আজিজকে দেখা মেলছে না। বেশ কিছু দিন ধরে গা ঢেকা দিয়েছে আজিজ। তার ৯১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বিদেশে পাচার কারা জন্য শুল্ক গোয়েন্দারা খুঁজছেন। এই জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্মকর্তারা আত্মগোপন থাকা প্রযোজকের ব্যাপারে মুখ খুলতে রাজি হচ্ছে না।

এদিকে ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ কাদেরকে গ্রেপ্তার করার পর আত্নগোপনে আছেন আব্দুল আজিজ। তার মোবাইল নাম্বারে ফোন করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

জাজ মাল্টিমিডিয়ার এক কর্মকর্তা মঙ্গলবার বিকাল বলেন, আজিজ স্যারের সাথে আমার কোন যোগাযোগ নেই। ‍তার কোন খবর  আমার কাছে নেই। তিনি কোথায় আছে , কী করছে, আমি কিছুই জানি না। আমার কাছে এসব জানতে জানতে চাইবেন না প্লিজ।

অনেকেই মনে করছে তিনি দেশের বাইরে চলে গেছে। তাই আব্দুল আজিজের জায়গায় জাজ মাল্টিমিডিয়ার কার‌্যক্রম দেখা শোনা করছে সিইও আলিমুল্লাহ খোকন। কিন্তু খোকনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

আজিজের বিরুদ্ধে মামলার পরপরই আলিমুল্লাহ খোকন ২ ফেব্রুয়ারি এক ফেইসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘চলচ্চিত্রের স্বার্থে জাজ নতুন ঘোষণা দিতে যাচ্ছে শিগগিরই।’ কিন্ত সেই ঘোষণা কী? এখনো সবার অজানা।

তবে এই বিষয়ে জাজের এক কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘জাজ আগে যেমন চলছিল তেমনই চলছে। নতুন কেউ হাল ধরেনি।’

গত সপ্তাহে ৯১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে এমএ কাদের ও তার ভাই আব্দুল আজিজসহ ক্রিসেন্ট গ্রুপ সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি ১৩ জন ব্যাংক কর্মকর্তাকে আসামি করে মামলা দায়ের করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ক্রিসেন্ট গ্রুপের তিনটি প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি বিলের বিপরীতে জনতা ব্যাংক থেকে নেওয়া অর্থের মধ্যে ৯১৯ কোটি ৫৬ লাখ দেশে ফেরত আসেনি।

এর মধ্যে ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস ৪২২.৪৬ কোটি টাকা, আবদুল আজিজের রিমেক্স ফুটওয়্যার ৪৮১.২৬ কোটি টাকা ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ ১৫.৮৪ কোটি টাকা অর্থাৎ মোট ৯১৯.৫৬ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

আরো পড়ুন>>> জাজসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে ৫ মামলা : দুদক

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাব্যবস্থাপক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, মুদ্রাপাচারের প্রমাণ পেয়ে ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ কাদের, রিমেক্স ফুটওয়্যারের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক লিটুল জাহান (মিরা), ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতানা বেগম মনিসহ জনতা ব্যাংকের ১৩ জন কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়।

এই আসামিদের মধ্যে এম কাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি কারাগারে আছেন। বাকি আসামিদেরও খোঁজে মাঠে নেমেছেন শুল্ক গোয়েন্দারা।

স্বাআলো/এএম