১০ বছর অনুপস্থিত থেকে বেতন নিচ্ছেন শিক্ষক রেজাউর

১০ বছর অনুপস্থিত থেকে বেতন নিচ্ছেন শিক্ষক রেজাউর

বিশ্বাস আমিন, যশোর : যশোরের গাজির দরগাহ ফাজিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক রেজাউর রহমান ১০ বছর ধরে বাড়ি বসে বেতন উত্তোলন করছেন। একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের ননকোয়ালিফাইড শিক্ষককে দিয়ে তার কয়েকটি ক্লাস করানো হচ্ছে। বাকি ক্লাসগুলো অন্য শিক্ষকদের দিয়ে করাতে বাধ্য করা হচ্ছে। এসব অপকর্ম আড়াল করতে এ শিক্ষক প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মাওলানা বজলুর রহমানকে মাসিক মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা, গাজির দরগাহ ফাজিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক রেজাউর রহমান প্রায় ১০ বছর যাবদ মাদ্রাসায় আসেন না। ক্লাস সহ কোন প্রকার অফিসিয়াল দায়িত্ব পালন করেন না। তিনি সব সময় শহরের রাজারহাট এলকায় গোড়াগাছা গ্রামে নিজ বাড়িতে থাকেন। তার পরিবর্তে তিনি প্রাইভেটভাবে গাজির দরগাহ এতিমখানায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ননকোলিফাইড শিক্ষক ইদ্রিস আলীকে দিয়ে ক্লাস করান। শুধুমাত্র বেতন-ভাতা সহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধা নেওয়ার সময় এ শিক্ষক মাদ্রাসায় আসেন। সেই দিনই হাজিরা খাতা সহ সকল আর্থিক সুবিধা নিতে বিল-ভাউচারে পুরো মাসের স্বাক্ষর করেন। ইদ্রিস আলী একটি এতিমখানার শিক্ষক হওয়ায় তাকে দিয়ে সকল গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস করানো সম্ভব হয় না। এতে শিক্ষার্থীদের দুভোর্গে পড়তে হয়। সেই কারণে প্রতিষ্ঠানের চাপে অন্য শিক্ষকদের রেজাউর রহমানের ক্লাস অতিরিক্ত হিসেবে নিতে বাধ্য করা হয়। তাই এ বিষয়ের শিক্ষকরা মানসিক বেশ চাপের মধ্যে আছেন।

আরো পড়ুন>>> যশোর জেলা পরিষদ কর্মকর্তা-কর্মচারি সমিতির নির্বাচন শনিবার

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষ মাওলানা শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রায় বছর দশেক আগে থেকে রেজাউর রহমান অসুস্থতার কারণে মাদ্রাসায় আসেন না। সপ্তাহে এক বা দুইদিন এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। শারীরিক ভাবে রেজাউর রহমান খুবই অসুস্থ। তার সকল ক্লাস করানোর জন্য তিনি একজন অপশনাল শিক্ষক রেখেন। সেই সময়ের প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ডাক্তার মোস্তাফিজুর রহমান মুসা রেজুলেশনের মধ্যে তাকে এ সুবিধা দিয়েছেন। সেই সময় থেকে তিনি এ সুবিধা পাচ্ছেন।

অধ্যক্ষ মাওলানা বজলুর রহমান বলেন, রেজাউর রহমান ছুটিতে আছেন। তিনি ক্লাসে আসেন না এসব ভিত্তিহীন। আমি তাকে অনৈতিক কোন সুবিধা দিই না। রেজাউর রহমানের কাছ থেকে মাসিক সুবিধা গ্রহণ করে এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

অভিযুক্ত সহকারি অধ্যাপক রেজাউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করতে অধ্যক্ষ মাওলানা বজলুর রহমানের কাছে তার মোবাইল নম্বর চাওয়া হলে তিনি দিতে অস্বীকার করেন।

  স্বাআলো/এএম