ঠাকুরগাঁওয়ে বাতাসে মুকুলের ঘ্রাণ

বাতাসে মুকুলের ঘ্রাণ

জেলা প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও : প্রতিবারের মতো এবারো ঠাকুরগাঁওয়ে গাছে গাছে আমের মুকুল শোভা পাচ্ছে। মুকুল দেখে বাম্পার ফলনের আশা করছেন জেলার আম বাগানের মালিক ও ব্যবসায়ীরা। আর এই মুকুলের সুঘ্রাণে মুখরিত বাগানগুলো। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে মুকুলের সুগন্ধ।

আজ শনিবার জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মুকুলে মুকুলে ছেয়ে আছে গাছের প্রতিটি ডালপালা। এ যেন হলুদ আর সবুজের মহামিলন। চারদিকে ছড়াচ্ছে সেই মুকুলের সুবাসিত পাগল করা ঘ্রাণ। বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে এ বছর আমের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন ঠাকুরগাঁওবাসী।

ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ  ‍অধিদফতরের তথ্য মতে, এবছর ঠাকুরগাঁওয়ে ৯ হাজার হেক্টর জমিতে আমের বাগান হয়েছে। এ জেলায় সূর্যপুরী, ল্যাংড়া, ফজলি, বাড়ি-৪, মল্লিকা, হাড়িভাঙ্গা ইত্যাদি জাতের আম চাষ হয়। আমের মুকুল আসার আগে-পরে যেমন আবহাওয়ার প্রয়োজন, এখানে তা বিরাজমান। ডিসেম্বরের শেষ থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত আম গাছে মুকুল আসার আদর্শ সময়। এ সময়ে মুকুলের প্রধান শত্রু কুয়াশা। এখন পর্যন্ত কুয়াশা কম এবং আকাশে উজ্জ্বল রোদ থাকায় আমের মুকুল সম্পুর্ণ প্রস্ফুটিত হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ।

আরো পড়ুন>> প্রথম দিনে দিনাজপুর বোর্ডে অনুপস্থিত ৫৪১ জন

হরিপুরের চৌরঙ্গী এলাকার সবচেয়ে বড় আমবাগানের মালিক আলী আকবর বলেন, গতবারের তুলনায় এবার আমার বাগানে বেশি মুকুল এসেছে। ভালো ফলন পেতে রাতদিন পরিশ্রম করছি। এখন পর্যন্ত গাছে কোনো ধরনের রোগবালাই দেখা দেয়নি। আশা করি এবার কোনো সমস্যা না হলে প্রতিটি আম গাছেই পর্যাপ্ত আম ধরবে এবং আমি ভালো লাভবান হবো।

ঠাকুরগাঁও কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আফতাব হোসেন বলেন, ঠাকুরগাঁও একটি কৃষিসমৃদ্ধ জেলা। এই জেলায় সূর্যপুরীসহ অন্যান্য জাতের আমের চাষ হয় এবং ফলনও ভালো পাওয়া যায়। তিনি আরো বলেন, গত কয়েক দিনে প্রতিকূল আবহাওয়া থাকলেও আমের মুকুলের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। আশা করি আমের ভালো ফলন হবে। সেই সাথে ভালো দাম পেলে ব্যবসায়ীরা লাভোবান হবেন।

স্বাআলো/এম