চলে গেছে মেয়ে কিন্তু রেখে গেছে স্মৃতি: নুসরাতের মা

ডেস্ক রিপোর্ট : দুর্বৃত্তদের আগুনে দগ্ধ হওয়া ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি নেই, তাতে কি তার বই, খাতা, পড়ার টেবিল, খাট ও আলমিরা পড়ে আছে। প্রিয় কন্যার হাজারো স্মৃতি নিয়ে নুসরাতকে হারানোর দুঃসহ বেদনা নিয়ে নুসরাতের শয়নকক্ষে নির্বাক হয়ে বসে আছেন তার মা শিরিন আক্তার।

আত্মীয়স্বজনরা এসে তার সঙ্গে সমব্যথিত হচ্ছেন। কিন্তু কেউ তাকে নুসরাতের কক্ষ থেকে সরাতে পারছেন না।আগন্তুকদের জানান মাকে ভালোবাসার কথা। মাকে ভালোবেসে মায়ের ওপর নুসরাতের লেখা কবিতা সবাইকে দেখান তিনি। নুসরাতের মতো কারো এমন পরিণতি দেখতে চান না তার মা।তিনি জানান, মা নুসরাত আজ আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু নুসরাতের পরিধানের বস্ত্র বই খাতাই যেন তার কাছে একজন নুসরাত।নুসরাতের ওপর যৌন নিপিড়নকারী অধ্যক্ষের ফাঁসি আর আগুন সন্ত্রাসীদের আগুনে পুড়িয়ে নুসরাতের মতো করে হত্যার দাবি জানান মা শিরিন আক্তার। তিনি দাবি করেন এবার আলিম পাসের পর নুসরাত উচ্চশিক্ষার জন্য ফেনীতে ভর্তি হবেন।

ওই অধ্যক্ষের কাছে আর পড়বে না এবং ফাজিল শ্রেণিতে ভর্তি হবেন না। কিন্তু আমার বুকের ধনকে আর ওরা বাঁচতে দিলেন না।একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে শিরিন আক্তার পাগলের মতো সবার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন আর বিলাপ করছেন।বৃহস্পতিবার জ্ঞান হারানো ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। শত চেষ্টা করেও কেউ তাকে কিছু খাওয়াতে পারছে না।

আরো পড়ুন>>> নুসরাতের হত্যাকারীদের ছাড়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী

বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান জানান, নুসরাত সারা দেশব্যপী একটি প্রতিবাদের নাম। আমার বোনের মতো যেন কেউ আর হারতে না হয় সেই ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।৬ এপ্রিল নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়। গত বুধবার রাতে নুসরাত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় মারা যান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দাদির কবরের পাশে চিরনিন্দ্রায় শায়িত করা হয়েছে।

স্বাআলো/এসএ