যশোরে দেবরের ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ খুন

দেবরের ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক,যশোর :  যশোরে দেবরের ছুরিকাঘাতে জিনিয়া ইয়াসমিন তুলি (২৪) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। পহেলা বৈশাখের সকালে যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

নিহত তুলি বাঘারপাড়া উপজেলার খাজুরা পান্তাপাড়া গ্রামের জুলফিক্কার আলীর স্ত্রী। তাদের বৈবাহিক জীবনে আড়াই বছর। তাদের ১১ মাসের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।

নিহতের ননদ সুরাইয়া খাতুন জানিয়েছেন, শনিবার রাতে তার ভাই শাহাবুদ্দিন ঘরের দরজা বন্ধ করে ভাবীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন। পরিবারের অন্য সদস্য কিছু বুঝে উঠার আগেই মাত্র তিন মিনিটেই এই ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে পরিবারের লোকজন রক্তাত্ব অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে আনেন।  তবে অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে পরদিন রবিবার  সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্যে ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতিকালে তার মৃত্যু হয়।

আরো পড়ুন>> যশোরে সোহাগ পরিবহন কাউন্টার অবরোধ

সুরাইয়া আরো জানান, বেশ কয়েক মাস ধরে তাদের বাড়িতে অশান্তি চলছিলো। প্রায়ই তুলি তার শাশুড়িকে মারধর করতেন। কয়েক বার তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়েছেও দিয়েছেন। একারণে শাহাব্দ্দুীন ঘরের দরজা বন্ধ করে ভাবীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যান।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার আরিফুজ্জামান বলেন, নিহতের শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিলো। প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম ও সহকারী ইনচার্জ কামরুজ্জামান জানান, নিহতে শরীরের ১২টি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। খবর পেয়ে বাঘারপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ জসিম উদ্দীন ওই রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। রবিবার রাতে ময়নাতদন্ত শেষে নিহত তুলির বাবার বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানার বারোবাজার ঝনঝনিয়া গ্রামে তাকে দাফন করা হয়েছে।

নিহত তুলির স্বামী জুলফিক্কার ও তার ভাই শাহাবুদ্দীন বিমান বাহিনীতে চাকরি করেন। এক মাসের ছুটিতে বাড়িতে আসেন শাহাবুদ্দীন।

স্বাআলো/এম