তীব্র গরমে স্বস্তি পেতে যা করবেন

ডেস্ক রিপোর্ট: ঘূর্ণিঝড় ফণী চলে যাওয়ার পর আবারো অসহ্য হয়ে উঠছে গরমের তীব্রতা। আবহাওয়া অফিস বৃষ্টির সুখবর দিতে পারছে না। গরমে আবার সর্দি-কাশি, জ্বর, পেটে ব্যথার মতো রোগের সমস্যাও বাড়ছে। এই সময় শরীর ভাল রাখতে কিছু বাড়তি যত্ন নেওয়া দরকার, জানিয়েছেন এক দল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ।

গরমে স্বস্তি পেতে যা করবেন:

১/ দুপুরের রোদ্দুরে না বেরনোর চেষ্টা করবেন। জেনে রাখুন দুপুর দুটো পর্যন্ত তাপমাত্রা সব থেকে বেশি থাকে। এই সময় বাইরে গেলে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। খুব কষ্ট হয়। তাই চেষ্টা করবেন দুপুর বারোটা থেকে দুপুর তিনটের মধ্যে অফিসে বা কোনও ঘরে থাকার।

২/ গরমে শরীর অস্থির লাগলে চোখে মুখে ঠাণ্ডা জলের ঝাপটা দিতে হবে। সম্ভব হলে গোসল করে নিতে পারলে ভাল হয়। অন্যান্য শারীরিক অসুবিধা না থাকলে গরম কালে ৩ থেকে ৪ বার গোসল করলে গরমের কষ্ট অনেক কম হয়।

৩/ পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ও পানীয় খাবার খেতে হবে। বাড়িতে পাতা দইয়ের ঘোল, নুন লেবুর শরবৎ, ডাবের জল, যে কোনও টাটকা ফলের রস ( ক্যান বন্দি চিনি দেওয়া ফলের রস নয়) খেলে চট করে ক্লান্ত হবেন না।

৪/ শসা, জামরুল, তরমুজ, আঙুর-সহ যে কোনও টাটকা ফল খেলে ভাল হয়। এই সময়ে বেশি মশলাদার খাবার ও বেশি মাংস খেলে হজমের সময় শরীরে বাড়তি তাপ উৎপন্ন হয়। তাই হালকা খাবার খেতে হবে। রোজকার ডায়েটে রাখুন টক দই, যা হজমশক্তি বাড়বে।

৫/ হালকা রঙের সুতির ঢিলে পোশাক পরতে হবে। আর সকলেরই উচিত সানস্ক্রিন মেখে বাইরে বেরনো।

৬/ গরমে ব্যায়াম করলে কষ্ট বাড়ে। চেষ্টা করুন সাঁতার কেটে বা সন্ধেবেলা ব্যায়াম করে ফিট থাকার।

৭/ যাদের ক্রনিক কিডনির অসুখ বা হার্টের সমস্যা আছে, তাদের জল খেতে হয় মাপ অনুযায়ী। কষ্ট হলে চিকিৎসককে অসুবিধার কথা জানান। আর শশা, জামরুল, পাকা পেঁপে জাতীয় ফল খেয়ে জলের ঘাটতি মেটানোর চেষ্টা করুন।

৮/ গরমে ভয়ানক ঘাম হলে, চোখে অন্ধকার দেখলে অথবা শ্বাসের কষ্ট হলে দেরি না করে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।

৯/ গরমে ভয়ানক বিপদে পড়তে হয় পার্কিং করা গাড়ির মধ্যে বসে থাকলে। এর থেকে মারাত্মক বিপদের ঝুঁকি থাকে। রোদ্দুরে গাড়ি পার্ক করে রাখলে ১০ মিনিটের মধ্যেই গাড়ির মধ্যেই গাড়ির ভিতরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় প্রায় ২০ ডিগ্রি ফারেনহাইট। এতে প্রবল গরমে মানুষ বেহুঁশ হয়ে যান, প্রাণ হারানোর মতো ঘটনাও ঘটে। সুতরাং এই ব্যাপারটা ভুলবেন না।

স্বাআলো/এসএ