কালিগঞ্জে তাঁতে উৎপাদিত গজ ব্যান্ডেজ যাচ্ছে সারাদেশে

গ্রামের তাঁতীরা কাপড়, গামছা, চাদর ও লুঙ্গী বুনত

জেলা প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা: এক সময় সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতাসহ বিভিন্ন গ্রামের তাঁতীরা কাপড়, গামছা, চাদর ও লুঙ্গী বুনত। সময়ের বিবর্তনে বর্তমানে তারা গজ ও ব্যান্ডেজ বুনছে। এতেই ফিরে এসেছে তাদের পরিবারের স্বচ্ছলতা।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাট এলাকার তাঁতীরা সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের নলতা, পূর্ব নলতা, ইন্দ্রনগর, মার্কা, ভাড়াসিমলাসহ বিভিন্ন এলাকায় এসে বসবাস শুরু করে। তারা হাতে চালিত তাঁতে কাপড়, লুঙ্গি, গামছা ও চাদর তৈরির কাজ করতো।

১৯৯০ সালের দিকে সিরাজগঞ্জ, পাবনা, রংপুর, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন জেলায় বিদ্যুৎ চালিত অত্যাধুনিক তাঁত চালু হওয়ায় সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে উৎপাদিত কাপড় ও গামছার কদর কমে যায়। এক পর্যায়ে নলতার ইমান কারিকর ও নরিম কারিকরসহ  বিদ্যুৎ চালিত তাঁত এনে তাতে গজ ও ব্যান্ডেজ তৈরি শুরু করেন। বর্তমানে নলতায় রয়েছে ৪০০ এর অধিক তাঁত (পাওয়ারলুম) । নারায়নগঞ্জ ও মাগুরা থেকে নিয়ে আসা সূতা এ কাজে ব্যবহার করা হয়।

এখানে দু’ হাত বহরের ১২গজ, ১৮ গজ ও ২০ গজ দৈর্ঘের গজ ও ব্যান্ডেজ তৈরি করা হয়। দু’ হাত বহরের ১২ গজ দৈর্ঘের  গজ তৈরি করে একজন শ্রমিক মহাজনদের কাছ থেকে পেয়ে থাকে সাত টাকা। একই বহরের ১৮ থেকে ২০ গজ দৈর্ঘের গজ তৈরি করে পাওয়া যায় ২০ টাকা। বিদ্যুৎ ঘাটতি না হলে একজন শ্রমিক দিনে ১৮ থেকে ২০ গজ দৈর্ঘের গজ বুনতে পারে ১২ থেকে ১৫টি।

সে ক্ষেত্রে সে প্রতিদিন অনায়াসে আড়াইশ’ থেকে তিনশ’ টাকা উপার্জন করতে পারে। গজ ও ব্যান্ডেজ বুনে সংসারে স্বচ্ছলতা আসায় নলতা ছাড়াও পূর্ব নলতা,মার্কা, ইন্দ্রনগর, ভাড়াসিমলাসহ কয়েকটি গ্রামে কমপক্ষে দেড় হাজার তাঁত বসেছে। নিজেরা তাঁত কিনে বা অন্যের তাঁতে কাজ করায় ওইসব এলাকার পাঁচ হাজরের বেশি পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে।

কালিগঞ্জে তৈরি গজ ও ব্যান্ডেজ পাঠানো হয় ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও যশোহরসহ বিভিন্ন জেলায়। হাসপাতাল, ক্লিনিকে চিকিৎসাকাজে ব্যবহৃত হয় ব্যান্ডেজ। এ ছাড়াও গজ ব্যান্ডেজ বিজি প্রেসে খাম তৈরির কাজে, বাড়িতে পরিষ্কার পরিচ্ছনাতার কাছে ও কারখানা পরিচ্ছনতার কাজে ব্যবহৃত হয়। পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও সরকারি পৃষ্টপোষকতা পেলে  তাঁত শিল্পকে আরো বেশি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

এখান থেকে সারা  বাংলাদেশে এ গজ ও ব্যান্ডেজ যায়। যদি গজ ব্যান্ডেজের ওপর কোন প্যাকেজ প্রকল্প হাতে নেয়া যায় তবে এ শিল্পটি  আরো সমাদৃত হবে। দেশের আর্থিক উন্নয়নে সহায়তা করবে।

সাতক্ষীরা বিসিকের সহকারি ব্যবস্থাপক গোলাম সাকলায়েন জানান, জনসংখ্যা ও শিল্প কারাখানা যতই বাড়বে ততই বাড়বে গজ  ব্যান্ডেজের ব্যবহার। সরকারি পৃষ্টপোষকতা পেলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে গজ ব্যান্ডেজ বিদেশে রফতানি করা সম্ভব হবে।

স্বাআলো/আরবিএ