চৌগাছায় বোরোর বাম্পার ফলনেও কৃষকের মাথায় হাত

যশোরের চৌগাছায় অনুকুল আবহাওয়া, সময়মত সার,

আজিজুর রহমান, চৌগাছা : যশোরের চৌগাছায় অনুকুল আবহাওয়া, সময়মত সার, বীজ, কীটনাশক কৃষকের হাতের নাগালে থাকায় বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় এক লাখ দশ হাজার মেট্রিকটন ধান উৎপাদন হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস। তবে বাজারে ধানের মূল্য অনেক কম থাকায় এই বাম্পার ফলনেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। তাদের মাথায় হাত উঠেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা করা হয়েছিল ১৮ হাজার হেক্টর। সে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে কৃষকরা চাষ করেছেন ১৮ হাজার ৩শ’ হেক্টর জমিতে। যা থেকে এক লাখ দশ হাজার মেট্রিকটন ধান উৎপাদন হবে। ধান চাষ লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় উৎপাদনও লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলেই মনে করছে কৃষি অফিস। সব মিলিয়ে উপজেলায় এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে সরকারিভাবে কৃষকদের নিকট থেকে ধান ক্রয় না করায় কৃষকরা দারুণ ক্ষতির মুখে পড়বেন। বাম্পার ফলনেও তাদের মাথায় হাত উঠতে শুরু করেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস ও সরেজমিনে উপজেলার সলুয়া, আন্দুলিয়া, বর্ণি, রামকৃষ্ণপুর, পুড়াপাড়া, সিংহঝুলি, বাড়িয়ালী, পাশাপোল, বুন্দেলিতলা, খড়িঞ্চা এলাকার মাঠ ঘুরে জানা যায়, উপজেলার কৃষকরা বাসমতি, তেজ গোল্ড, এসি আই-২, হাইডিব্রিড ১২০৩, শুভলতা, কাজললতা, মিনিকেট, ব্রি-২৮, ব্রি-৫০, ব্রি-৫৮ ব্রি-৬৩, ব্রি-৫৮, ৮১ প্রভৃতি জাতের ধান চাষ করেছেন। উপজেলায় সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে বাসমতি ও শুভলতা ধানের। তবে বোরো বাম্পার ফলনেও বাজারে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার কৃষকের মাথায় হাত উঠেছে। বর্তমানে ব্রি-৬৩ ও শুভলতা ধানের বাজার মূল্য ৬৮০-৭০০ টাকা, মিনিকেটের ৮০০-৮১০, বাসমতি ৮৪০-৮৫০।

অন্যদিকে বিঘাপ্রতি (৩৩ শতাংশে) এলাকাভেদে কৃষকের উৎপাদন খরচ হয়েছে ১৩ হাজার ৮শ’ টাকা থেকে ১৮ হাজার ৮ শ’ টাকা পর্যন্ত। তাদের উৎপাদন হয়েছে ২২ থেকে ৩৪ মণ পর্যন্ত । যেসব প্রান্তিক চাষি জমি লিজ নিয়ে ধান চাষ করেছেন তাদের উৎপাদন খরচের সাথে বিঘাপ্রতি লিজমূল্য চারহাজার টাকা যোগ করলে বিঘাপ্রতি ২-৩ হাজার টাকা করে লোকসান হচ্ছে । উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রটিও কৃষকদের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান বাজারে ন্যায্য মূল্য নেই। কৃষকরা অবশ্যই ধানের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না।

উপজেলার আড়ারদহ গ্রামের জামাল উদ্দিনের হিসাবে তার বিঘাপ্রতি ধানের উৎপাদন খরচ হয়েছে ১৩ হাজার ৮শ’ টাকা (চাষ-১ হাজার, নিড়ানো-১ হাজার, ধানের চারা ক্রয়-১ হাজার ৫শ’, রোপন-১ হাজার, সার ৩ হাজার, পানি-১ হাজার ৫শ’, ধান কাটা ও ঝাড়া-৪ হাজার, পরিবহন-৮শ’ টাকা)। অবশ্য ধানের চারা নিজের হলে খরচ একহাজার কমেছে। আবার লিজ নিলে পাঁচ হাজার বেড়েছে। আর বিঘাপ্রতি ব্রি-৬৩ জাতের ধান উৎপাদন হয়েছে ২০-২২ মন।

তবে শেষ সময়েও ধানকাটা শ্রমিকের সংকট অব্যাহত রয়েছে। খরচের হিসেবে দেখা যাচ্ছে একবিঘা জমির ধান কাটা-ঝাড়াতেই প্রায় চার হাজার টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। যা মোট খরচের একচতুর্থাংশ।

চাষিরা বলছেন, চলতি মৌসুমে সার, বীজ, কীটনাশক বা ডিজেল পেতে কোনো সমস্যা হয়নি। বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল ভালো। তাছাড়া মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে পরিমাণ মত বৃষ্টিপাত হওয়ায় ধানের ভালো ফলন হয়েছে। সরকারিভাবে ধানের যে ক্রয় মূল্য সেটা পর্যাপ্ত হলেও চাষিদের কাছ থেকে তো সরকারিভাবে ধান ক্রয় করা হয় না। একারণে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন তারা। বাজারে এক হাজার থেকে এগারশ’ টাকা মূল্যে ধান বিক্রি করতে পারলে তাদের পরিশ্রম সার্থক হতো। তবে ঘূর্ণি ঝড় ফণী কৃষকদের মধ্যে প্রবল শংকা জাগালেও তেমন ক্ষয়ক্ষতি না হওয়ায় এদিক থেকে তারা স্বস্তি বোধ করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রইচ উদ্দীন জানান, আমরা সব সময় কৃষকের পাশেই আছি। মৌসুম জুড়ে আমার সহকর্মীরা কৃষকদের সহযোগিতা করেছেন। এ বছর ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রার চাইতে ৩ হেক্টর জমিতে বেশি চাষ হয়েছে।

স্বাআলো/আরবিএ