হাসপাতালে মারপিটের শিকার সন্তানের বাবাকে এবার পিটালেন ইউপি সদস্য

বরগুনা গণহত্যা দিবস

জেলা প্রতিনিধি, বরগুনা :  অসুস্থ মাকে হাসপাতালের বেডে তোলায় ছেলেকে পিটিয়েছিলেন হাসপাতালের চিকিৎসক আনোয়ার উল্লাহ। আজ বুধবার দুপুরে সেই হাসপাতালেই ইউপি সদস্য  বাদল পেটালেন বাবাকে ও তার চাচাকে। ওই ইউপি সদস্য হাসপাতালে ডুকে তাদের মারধর করেছেন। তিনি উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের  সদস্য। আহতদের পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  ভর্তি করা হয়েছে।

আহতরা হলেন, চিকিৎসকের হাতে মারধরের শিকার উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের খাসতবক এলাকার কিশোর জিলানের বাবা  নাসির ও চাচা আবুল কালাম।

আহত নাসির জানান, আমার স্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় সকালে আমি ও আমার ভাই তাকে দেখতে আসি। একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরেক রোগীকে দেখতে আসেন আমাদের ইউনিয়নের ইউপি সদস্য  বাদল। এ সময় বাদলের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কথার কাটাকাটি হয়। এক পর্যায় ইউপি সদস্য বাদল ও তার সহযোগীদের নিয়ে আমাকে ও আমার ভাইকে মারধর করেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য বাদল বলেন, আমি হাসপাতালে এক রোগীকে দেখতে গেলে নাসির ও তার ভাই আবুল কালাম আজাদ আমাকে চরম ভাবে অপমান করে। এ সময় আমি একটি থাপ্পর দিয়েছি। আমাকে তারাও মারধর করে জামা ছিঁড়ে দিয়েছে।

আরো পড়ুন>> ডাকাত সর্দার ইদ্রিস মোল্লা  গ্রেফতার

এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানা অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) হানিফ শিকদার বলেন, ঘটনা শোনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত. গত সোমবার অসুস্থ মাকে ফ্লোর থেকে হাসপাতালের বেডে তোলায় জিলান নামে ওই কিশোরকে পেটান পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার আনোয়ার উল্লাহ । পরে ওই মারধরের ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হলে আজ বুধবার বেলা ১১টায় পাথরঘাটা হাসপাতালে পরিদর্শনে আসেন বরগুনা সিভিল সার্জন ডা. হুমায়ূন শাহীন খান।

এ সময় বরগুনা সিভিল সার্জন ডা. হুমায়ূন শাহীন খান বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক ও অনাকাঙ্খিত। আমরা যারা সরকারি কর্মচারি আছি আমাদের আচারনে কাউকে আক্রমন করতে পারিনা। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্তের প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

স্বাআলো/এম