যশোরে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে তরিকুল পুত্র অমিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর : সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে যশোরে বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টা-পাল্টি সভা স্থগিতের সিদ্ধান্ত হলেও মানেননি আহবায়ক নার্গিস ইসলাম পক্ষ। তারা আহবায়ক কমিটির নির্ধারিত প্রথম সভাটি করেন দলীয় কার্যালয়ে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু পক্ষ। তারা এখন তরিকুল পরিবারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

জেলা বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, রাজনীতিতে একক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত যা ইচ্ছা তাই করছেন। ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে সর্বত্র তিনি পকেট কমিটি বানাতে চান। কিন্তু এভাবে চলতে পারে না। আমরা অবশ্যই তার এই কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবো।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বর্ধিত সভার সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিশেষ কৌশলে জেলা কমিটি অনুমোদন করিয়ে আনায় তরিকুল ইসলাম পরিবারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন যশোরের বিএনপি নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ। তারই অংশ হিসেবে জেলা বিএনপির আহবায়ক তরিকুলপতী নার্গিস ইসলামের শনিবারের ডাকা বৈঠকের পাল্টা বৈঠক ডাকেন সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু। তবে শুক্রবার রাতে সিনিয়র নেতারা দুইটি সভাই স্থগিত করার পক্ষে মত দেন। তাদের সেই সিদ্ধান্ত দুই পক্ষই মেনে নেয়। কিন্তু শনিবার যথারীতি সভা করেন নার্গিস পন্থীরা।

এনিয়ে ক্ষুব্ধ অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু গত রাতে সংবাদ মাধ্যমে একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছেন। তাতে তিনি বলেছেন, ঐক্যের স্বার্থে আমরা আমাদের নির্ধারিত সভা বাতিল করি। কিন্তু একটি পক্ষ সভা করেছে। যা নেতাকর্মীদের ঐক্যের ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। ঐক্যের স্বার্থে এমন কর্মকান্ড থেকে দায়িত্বশীলদের বিরত থাকার আহবান জানাচ্ছি।

তবে সদস্য সচিব সংবাদ মাধ্যমে এমন বিবৃতি পাঠালেও তার পক্ষীয় নেতাকর্মীরা যশোর সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা নেতাদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন। তরিকুল পরিবারের এই আধিপত্য ও স্বেচ্ছাচারিতার জবাব দিতে তারা মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সূত্র বলছে, ইতোমধ্যে নানা বিতর্কিত কর্মকান্ড ও স্বেচ্চাচারিতার কারণে যশোরে বিএনপির একটি বড় অংশ তরিকুল ইসলাম পরিবারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বিশেষ করে তরিকুল পুত্র খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিরোধী হয়ে উঠছেন নেতাকর্মীরা। যাদের মধ্যে যশোর নগর বিএনপি, বাঘারপাড়া, মণিরামপুর ও চৌগাছার সব শীর্ষ নেতা তার বিরুদ্ধে। এছাড়া শার্শা, কেশবপুর ও ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির অর্ধেকের বেশি নেতা সাবুর পক্ষে। তারা এখন প্রকাশ্যে অমিতের বিরুদ্ধে আবস্থান নেয়ার পরিকল্পনা করছেন।

গত ২১ এপিল মূলতবী বর্ধিত সভা থেকে দীর্ঘদিনের কমিটি বাতিল করে যশোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ৫৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে আহবায়ক করা হয় নার্গিস ইসলামকে। আর সদস্যসচিব মনোনীত হন সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু। যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয় সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনকে। এছাড়া জেলা বিএনপির সব সহ-সভাপতি, জেলার সব উপজেলা ও পৌর বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরে দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তরা ও কেন্দ্রীয় কমিটিতে দায়িত্বে আছেন যশোরের এমন সব নেতাকে আহবায়ক কমিটির সদস্য করার সিন্ধান্ত হয়। সভার এই সিদ্ধান্ত নিজ হাতে লেখেন খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর মাধ্যমে কৌশলে মহাসচিবকে দিয়ে কমিটি অনুমোদন করিয়ে এনেছেন তরিকুল ইসলামের ছেলে খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

বর্ধিত সভার সিদ্ধান্ত থাকলেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে জেলা বিএনপির কমিটিতে রাখা হয়নি। আর সিদ্ধান্তের বাইরে কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নয়ন চৌধুরী ছেলে রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুুক চাঁদ, জেলা বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক হাজী আনিসুর রহমান মুকুল, আরবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, শরফুদ্দৌল্লাহ ছটলু ও জাহানারা বেগমকে।

সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী নতুন কমিটি অনুমোদনের জন্য বর্ধিত সভার রেজুলেশন সাবেক কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠানোর কথা। তবে এমন কিছুই হয়নি। অমিত নিজ উদ্যোগে কেন্দ্র থেকে কমিটি অনুমোদন করে এনেছেন। তবে সেই কমিটি সদস্য সচিব হিসেবে মেনে নেননি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু। তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে বর্ধিত সভার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে অভিযোগ দাখিল করেছেন। এ নিয়ে প্রকাশ্যে বিএনপির রাজনীতিতে দ্বিধাবিভক্ত সৃষ্টি হয়েছে।

স্বাআলো/আরবিএ

.

Author