সাতক্ষীরার সাবেক সিভিল সার্জন, ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

খুলনা ব্যুরো: কোনো যন্ত্রপাতি না কিনেই ১৬ কোটি ৬১ লাখ টাকার বিল উত্তোলনের অভিযোগে সাতক্ষীরার সাবেক সিভিল সার্জন ডা. তওহীদুর রহমানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আজ মঙ্গলবার দুদকের খুলনা সমন্বতি জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন প্রধান কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক জালাল উদ্দিন।

একইদিন গ্রামীণ ব্যাংকের এক লাখ ৬৯ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক সিনিয়র কেন্দ্র ব্যবস্থাপক কে এম মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। এই মামলার বাদি খুলনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তরুন কান্তি ঘোষ।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী এখন থেকে সমন্বিত জেলা কার্যালয়েই মামলা  করা যাবে। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী মঙ্গলবার খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে প্রথমবারের মতো দুটি মামলা দায়ের করা হলো।

সাতক্ষীরার সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সাবেক সিভিল সার্জন ডা. তওহীদুর রহমানসহ অন্যান্য আসামিরা সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যন্ত্রপাতির কোনো চাহিদাপত্র না থাকা সত্বেও দরপত্র আহ্বান, সংগ্রহ, মূল্যায়ন এবং কার্যাদেশ প্রদান করে তিনটি মিথ্যা বিলের বিপরীতে মোট ১৬ কোটি ৬১ লাখ ৩১ হাজার ৮২৭ টাকা আত্মসাত করেছেন। কোনো ধরনের যন্ত্রপাতি না কিনেই মিথ্যা দরপত্র ও ভাউচার দেখিয়ে এটা টাকা আত্মসাত করেন তিনি।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন সিভিজ সার্জন অফিসের স্টোর কিপার এ কে এম ফজলুল হক, হিসাব রক্ষক আনোয়ার হোসেন, মেসার্স বেঙ্গল সায়েন্টিফিক কোম্পানির মালিক জাহের উদ্দিন সরকার, আবদুর ছাত্তার সরকার, আসাদুর রহমান, কাজী আবু বকর উদ্দিক এবং স্বাস্থ্য প্রকৌশলের সাবেক সহকারী প্রকৌশলী আবদুল কুদ্দুস।

অন্যদিকে, গ্রামীণ ব্যাংকের টাকা আত্মসাতের মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গ্রামীণ ব্যাংকের সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর শাখার সিনিয়র কেন্দ্র ব্যবস্থাপক পদে কর্মরত ছিলেন কে এম মশিউর রহমান। তিনি ওই শাখায় ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের ১৪ আগস্ট পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। এই সময় গ্রামীণ ব্যাংকের বিভিন্ন কেন্দ্রের সদস্যদের নিকট থেকে ঋণের কিস্তি, সঞ্চয় জিপিএস এর টাকা এবং এককালীন ঋণের টাকা আদায় করে ব্যাংকে জমা না রেখে এক লাখ ৬৯ হাজার ৯০০ টাকা আত্মসাত করেছেন।

দুদকের খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নাজমুল হাসান বলেন, নতুন বিধিমালা অনুযায়ী খুলনাতেই মামলা গ্রহণ করেছি। এখন ঢাকা প্রধান কার্যালয়ের অনুসন্ধান বিভাগ থেকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে বিশেষ জজ আদালতে চার্জশিট দাখিল হবে।

স্বাআলো/ডিএম

.

Author