গাইবান্ধায় চেইনের নামে অতিরিক্ত চাঁদা, ৭ দিন ধরে বন্ধ প্রথম শ্রেণির বাস

শাহাদৎ হোসেন মিশুক, গাইবান্ধা : ৭ দিন ধরে গাইবান্ধা বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট রুটে প্রথম শ্রেণির বাস যোগাযোগ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন বাসযাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা। দ্বিগুণ হারে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে প্রথম শ্রেণির পরিবহন মালিকরা বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেন। ফলে গত শুক্রবার সকাল থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট রুটের যাত্রীরা ওই সব পরিবহনের শ্রমিকরা ভোগান্তিতে পড়েছে।

গাইবান্ধা থেকে ঢাকা, চট্টোগ্রাম ও সিলেটগামী বাস হতে গাইবান্ধা টার্মিনালে ১৮০ টাকার পরিবর্তে ২৬০ টাকা, পলাশবাড়িতে ৫০ টাকার পরিবর্তে ১০০ টাকা, গোবিন্দগঞ্জে ৬০ টাকার পরিবর্তে ১২০ টাকা চেইনের নামে চাঁদা নির্ধারণ করে। এসব চাঁদা নির্ধারণ করে জেলার গাইবান্ধা জেলা মটর মালিক সমিতি, গাইবান্ধা জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়ন, পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জ মটর শ্রমিক ইউনিয়ন সংগঠন।

ফলে বাস মালিকরা গত ৫ জুলাই শুক্রবার সকাল থেকে গাইবান্ধা থেকে ঢাকাগামী অরিন, শ্যামলী, হানিফ, আল-হামরা, এসআর, একতা পরিবহনের বাসগুলো বন্ধ করে দেন। তবে গাইবান্ধা থেকে চট্টগ্রামগামী সাধারণ বাস চলাচল করছে।

ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট রুটে বাস চলাচল না করায় বাস কাউন্টারগুলো বন্ধ থাকে। এতে করে যাত্রীবিহীন হয়ে পড়েছে গাইবান্ধা বাস টার্মিনাল। এর ফলে যাত্রীর চাপ বেড়েছে ট্রেনে। তারপরও অনেকেই বাধ্য হয়ে ট্রেনে যাতায়াত করছেন। আবার অনেকে গাইবান্ধা থেকে লোকাল বাস, ব্যাটারী চালিত অটো ও সিএনজি চালিত অটো যোগে পলাশবাড়ী উপজেলা শহরে গিয়ে রংপুর, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী ও পঞ্চগড় থেকে ঢাকা, চট্টোগ্রাম ও সিলেটগামী বাসে নির্দিষ্ট স্থানে যাচ্ছেন যাত্রীরা। এতে ভোগান্তি বেড়েছে যাত্রীদের।

অপরদিকে ৫ জুলাই ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে ছেড়ে আসা বাসের ড্রাইভার, সুপারভাইজার, হেলপার ও মেকানিকরা অলস সময় পার করছেন গাইবান্ধা বাস টার্মিনালে। দিন হাজিরার কর্ম হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারাও।

আরো পড়ুন>> গাইবান্ধায় পেপার মিলের বর্জ্যে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে

এসআর পরিবহনের চালক মনিরুজ্জামান বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে গাইবান্ধায় বাস নিয়ে আসি। বাসের চাকা ঘুরলে আমরা টাকা পাই, না ঘুরলে টাকা পাই না। ওই দিন থেকেই গাইবান্ধায় বসে আছি। কাছে টাকা না থাকায় পরিবারের কাছে টাকা পাঠাতে পারছি না। এই অবস্থা চলতে থাকলে বাস রেখে বিকল্প পথে ঢাকা যেতে হবে।

একাধিক পরিবহন কাউন্টারের ম্যানেজার বলেন, মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন হঠাৎ করেই চেইনের নামে দ্বিগুণ চাঁদা দাবি করছে। তাই বাধ্য হয়ে পরিবহন মালিকরা গাড়ি চালানো বন্ধ রেখেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শ্রমিক নেতা বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন ও পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়ার সাথে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। বর্তমানে গাইবান্ধায় কোন সমস্যা নেই।

জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন বলেন, বিষয়টি নিয়ে মটর মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের সাথে বসে সমস্যার সমাধানও করে দিয়েছিলাম। তবে গাইবান্ধার পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের অভিযোগ ঢাকার বাস মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়ন তাদের বাস চালাতে দিচ্ছে না। তাই তারা বাস চালাতে পারছেন না।  বিষয়টি নিয়ে আবারও বসবো।

স্বাআলো/এম