কে পাচ্ছেন জাপা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব?

ডেস্ক রিপোর্ট : জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জীবনাবসান হয়েছে। তার মৃত্যুর পর নতুন করে আলোচনায় সূত্রপাত হয়েছে, এরশাদের অবর্তমানে জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ চেয়ারম্যান কে হচ্ছেন।

আজ রবিবার সকাল পৌনে ৮ টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এরশাদ।

কে হচ্ছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান?

হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পরে দলের হাল ধরা নিয়ে পূর্বেই কয়েকবার বিভক্ত হয়েছিল জাতীয় পার্টি। ভাই জিএম কাদের ও বর্তমান স্ত্রী রওশন এরশাদের গ্রুপিংয়ের বিষয়টি দল ছাড়িয়ে মিডিয়াতেও এসেছিল তখন। পার্টির চেয়ারম্যান ও কো-চেয়ারম্যান বদল নিয়েও হয়েছে তুলকালাম।

এরশাদের অবর্তমানে দলের মধ্যে নেতৃত্বে নিয়ে সংকট তৈরি হওয়ারও সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

এদিকে এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা আবার রাজনীতিতে ফেরার কথা বলছেন। বিদিশা বলেছেন, ‘জাতীয় পার্টির কর্মীরা আমার সন্তানের মতো। এই মহাজোট আমার হাত দিয়েই গড়া। যার কারণে বিএনপি আমাকে থাকতে দেয়নি। জাতীয় পার্টির একটি গ্রুপ ছিল যারা তখন বিএনপির পক্ষে কাজ করত। তারা এখনো এই সরকারের সঙ্গেও সক্রিয় রয়েছে। আমি আবার জাতীয় পার্টিতে ফিরতে চাই।’

দুই কান্ডারী আগে থেকে জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে এগিয়ে থাকলেও বিদিশার রাজনীতিতে ফেরার সংকেত আরও সংকট তৈরি করতে পারে জাতীয় পার্টিতে।

বর্তমানে জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জিএম কাদের। কিন্তু এর আগে দীর্ঘদিন দেশের বাইরে চিকিৎসা শেষে ফিরেই দলের কো-চেয়ারম্যানের পদ থেকে জিএম কাদেরকে সরিয়ে দেন এরশাদ। ঠিক এর পরের দিন বিরোধী দলের উপনেতার পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয় সাবেক মন্ত্রী জিএম কাদেরকে। এ পদে নতুন করে এরশাদ দায়িত্ব দেন স্ত্রী রওশনকে। এ ঘটনার পর থেকেই দলে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। ক্ষুব্ধ হয় নেতাকর্মীরা। রংপুর বিভাগের নেতাকর্মীরা জিএম কাদেরকে সকল দায়িত্ব ফিরিয়ে দিতে এরশাদকে আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন তখন।

আরো পড়ুন>>> স্বামীর জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন রওশন এরশাদ

জিএম কাদের ওই সময় গণমাধ্যমে বলেছিলেন, দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পর এরশাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তিনি। এরশাদ অব্যাহতির কারণ সম্পর্কে কিছু বলেননি। তবে বলেছেন, দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়া যায়।

দলের শীর্ষ নেতাদের অনেকেই বলছিলেন, রওশনপন্থীদের চাপের মুখেই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছেন এরশাদ। তখন থেকেই জিএম কাদের গ্রুপ ও রওশন এরশাদ গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘসময় ধরে মনমালিন্য প্রকাশ্যে আসে।

আবার এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশার রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার খবরে জাতীয় পার্টিতে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

জিএম কাদের সম্পর্কে বিদিশা বলেন, ‘জাতীয় পার্টিতে এরশাদের বিকল্প কেউ নেই। তার অনুপস্থিতি কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। জাতীয় পার্টি একটি ক্লান্তি লগ্ন পার করছে। তবে তার ভাই জিএম কাদের কতটুকু তার ঘাটতি পূরণ করতে পারবে তা সময়ই বলে দিবে। রাজনীতি একটি অনেক বড় জায়গা। আমি আমার স্বামীর হাত ধরে রাজনীতিতে এসেছিলাম। আমার তো এখনো প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়নি।’

আরো পড়ুন>>> যেখানে হবে সাবেক রাষ্ট্রপতির জানাজা ও দাফন

তিনি আরও বলেন, ‘এখন জাতীয় পার্টিতে অনেকেই আসতে চায়। আমার সাথে অনেকে যোগাযোগ করছেন। অনেকে আমাকে বলে, আপা আপনি রাজনীতিতে আসেন। আপনি সক্রিয় হোন, আমরা আপনার সঙ্গে রাজনীতি করতে চাই। আগে যখন রাজনীতিতে ছিলাম, তখন অনেক কিছু বুঝতাম না। এখন অনেক কিছুই শিখেছি।’

বিদিশা বলেন, ‘এরশাদ সাহেব যে ওনার ভাইকে তার জায়গায় বসিয়েছেন এটিকে স্বাগত জানাই। আমি আশা করবো উনিও এরশাদ সাহেবের মতো সারা দেশ ঘুরবেন, সব নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করবেন। এ ছাড়া যাদের জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে তাদেরও ফিরিয়ে আনবেন।’

স্বাআলো/এসএ

.

Author