রংপুর অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি

রংপুর ব্যুরো : ভারী বর্ষণ আর অব্যাহত উজানের ঢলে রংপুর বিভাগের রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। বন্যা দুর্গতরা ঘর-বাড়ি ছেড়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও গবাদি পশু নিয়ে সড়ক এবং উঁচু বাধে আশ্রয় নিচ্ছে। বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে নলকূপ তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি বসতঘর ও রান্নাঘরে পানি প্রবেশ করায় রান্না বাড়ার কাজ বন্ধ রয়েছে বন্যা দুর্গত এলাকাগুলোতে।

বন্যায় প্লাবিত অনেক জায়গায় ত্রাণ না পৌঁছায় দুর্গতরা ত্রাণের জন্য হাহাকার করছে। কুড়িগ্রামে বন্যার পানিতে ডুবে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এইসব জেলায় ৫ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়াও রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার তিস্তার তীরবর্তী গ্রামগুলোতে বন্যা কবলিত মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। অনেকেই খেয়ে না খেয়ে দিনানিপাত করছে। সরকারিভাবে কিছু ত্রাণ দেয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল্য। পানিবন্দি মানুষেরা পার্শ্ববর্তী উঁচু বাঁধ, পাকা সড়ক ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে। এদিকে নদী তীরবর্তি বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে ভাঙ্গনও দেখা দিয়েছে।

আরো পড়ুন>> এরশাদের কবর খোঁড়া হচ্ছে রংপুরের পল্লীনিবাসে

আজ সোমবার সরেজমিনে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার তালুক সাহাবাজ, হরিচরনশর্মা, হয়বৎখাঁ, আজমখাঁ, গনাই, চরটাবু, প্রানণাথ, চরনাজিরদহ, ঠাকুরদাস, ঢুষমারা, গোপিডাঙ্গা, পাঞ্জরভাঙ্গা, আরাজি হরিশ্বর ও পীরগাছা উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে এমন দৃশ দেখা গেছে।

কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার উলফৎ আরা বেগম জানান, ইতোমধ্যে ১৪ মেট্রিক টন চাল ও শুকনো খাবার বিরতণ করা হয়েছে।  সোমবার আরো ১৫ মেট্রিক টন চাল ও শুকনো খাবারসহ অন্যান্য সামগ্রি বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা ও গবাদি পশুর চিকিৎসা সেবা দিতে এলাকায় মেডিকেল টিম ও স্বাস্থ্য সহকারী কাজ করছেন। স্বাস্থ্য কর্মীদের সাথে প্রয়োজনীয় ওষুধও দেয়া হয়েছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদি হাসান জানান, আজ সোমবার বিকেলে কাউনিয়ায় তিস্তার পানি ডেঞ্জার পয়েন্টের ১৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি বলেন, উজানের এই পানির ঢল সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। কাউনিয়া পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

স্বাআলো/এম

.

Author