গাইবান্ধা শহরে পানি : ৬ লাখ মানুষ বন্দি

জেলা প্রতিনিধি, গাইবান্ধা : কয়েক জায়গায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ছয় লাখ মানুষ।

গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র নদ, ঘাট ও আলাই নদীর  পানি কুঠিপাড়া ও পূর্বপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা দিয়ে ঢুকে গাইবান্ধা পৌর এলাকার পুরাতন বাজার, সবুজপাড়া, মুন্সিপাড়া ও ডেভিড কোম্পানীপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে করে ডুবে গেছে রাস্তাঘাট, ফসলি জমি। ভেসে গেছে পুকুর ও মৎস্য প্রকল্পের মাছ। বন্যার পানি শহরে প্রবেশ করায় হতাশায় পড়েছেন ব্যবসায়ী ও দিন হাজিরার ভিত্তিতে কাজ করা মানুষজন। অতিরিক্ত পানির স্রোতে তলিয়ে গেছে গাইবান্ধা-বালাসীঘাট সড়কসহ বেশ কয়েকটি সড়ক। জেলায় বন্যায় প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে অনেক এলাকায়। ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ায় মানুষ আশ্রয় নিচ্ছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ বিভিন্ন সড়কে ও আশ্রয় কেন্দ্রে। অনেক স্থানে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে বন্যাকবলিতরা। খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন কয়েক লাখ মানুষ।

আরোপড়ুন>>>কুড়িগ্রামে বন্যার আরো অবনতি : ১০ জনের মৃত্যু

জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা যায়, সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার ৩২টি ইউনিয়নের ২২৪টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুই লাখ ৮৭ হাজার ৯৬৬ জন মানুষ। কাঁচা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৯২ কিলোমিটার ও বাঁধ চার কিলোমিটার। বন্যার পানিতে কালভার্ট ধসে গেছে ছয়টি, ফসল নিমজ্জিত রয়েছে এক হাজার ২৪৬ হেক্টর ও ৩১৪টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। ঘরবাড়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৯ হাজার ২৩০টি, আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে ১১৪টি। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ২০ হাজার ৭২৬ জন। প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা রয়েছে সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা, গোবিন্দগঞ্জ ও সাদুল্লাপুর উপজেলায় ১৩০টি। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ অন্যান্য বাঁধের অনেকগুলো এলাকা। বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র নদসহ তিস্তা ও ঘাঘট নদীর পানি। ৪০০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য ও ছয় লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হচ্ছে জেলার বন্যাকবলিত মানুষদের মধ্যে।

স্বাআলো/এম

.

Author