উন্নতি নেই গাইবান্ধার বন্যার

জেলা প্রতিনিধি, গাইবান্ধা : গাইবান্ধার বন্যা পরিস্থিতির নেই কোন উন্নতি। বন্যার পানি বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে প্রবেশ করায় ওই সব এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এছাড়াও গাইবান্ধা পৌর এলাকার ৬টি ওয়ার্ডেও এই বন্যার পানি। এতে করে ডুবে গেছে রাস্তাঘাট, ফসলি জমি। ভেসে গেছে পুকুর ও মৎস্য প্রকল্পের মাছ। এখনও পানিবন্দি আছে লাখ লাখ মানুষ।

বন্যার পানি শহরে প্রবেশ করায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে অনেক এলাকায়। ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ায় মানুষ আশ্রয় নিচ্ছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ বিভিন্ন সড়কে ও আশ্রয় কেন্দ্রে। অনেক স্থানে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে বন্যাকবলিতরা। খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন কয়েক লাখ মানুষ।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সাদুল্লাপুর উপজেলার ৩৭টি ইউনিয়নের ২৫৩টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তিন লাখ ৯৭ হাজার ০৯৮ জন মানুষ। কাঁচা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫১৭ কিলোমিটার ও বাঁধ ৫৭.৫০ কিলোমিটার। বন্যার পানিতে কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্থ হয় ১৮টি, ফসল নিমর্জ্জিত রয়েছে নয় হাজার ৮২১ হেক্টর ও ২৯৪১ টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৯ হাজার ১৪২টি, আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে ১৬৬টি। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ৭১ হাজার ০২৪ জন। প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা রয়েছে সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা, গোবিন্দগঞ্জ ও সাদুল্লাপুর উপজেলায় ৩০৯টি। চারটি বিদ্যালয় নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। ২৬৪০টি ক্ষতি গ্রস্থ টিউবওয়েল হয়েছে।

আরো পড়ুন>> কাদা পানিতে বন্দী ২০ হাজার মানুষ

গত দু’দিনদিনে সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের গোদারহাট এলাকার সোহাগ (৫) বন্যার পানিতে ডুবে ও সাঘাটার কুন্ডুপাড়ায় উজ্জল কুমার (১৫) সর্প দর্শনে মারা যায়। মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে ৭৫ টি। বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র নদসহ তিস্তা ও ঘাঘট নদীর পানি। ৯৫০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য ও ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা, শুকনা খাবার ছয় হাজার কার্টুন  গাইবান্ধা জেলার জন্য বরাদ্ধ রয়েছে। এর মধ্যে সুন্দরগঞ্জে ১৪৫ মে: টন চাল, এক লক্ষ ৭৫ হাজার নগদ টাকা, শুকনা খাবার ৮৫০কার্টুন, গাইবান্ধা সদরে ১৪৫ মে: টন চাল, এক লক্ষ ৭৫ হাজার নগদ টাকা, শুকনা খাবার ৮০০ কার্টুন, সাঘাটায় ১৪৫ মে: টন চাল, দুই লক্ষ ২৫ হাজার নগদ টাকা, শুকনা খাবার ৮৫০ কার্টুন, ফুলছড়িতে ১৪৫ মে: টন চাল, তিন লক্ষ ২৫ হাজার নগদ টাকা, শুকনা খাবার ৮৫০ কার্টুন, সাদুল্লাপুরে ৫ মে: টন চাল, শুকনা খাবার ২০০ কার্টুন বিতরণ করা হয়েছে বন্যাকবলিত মানুষদের মধ্যে। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত মজুদ ছিল ৩৬৫ মে: টন চাল, ছয় লক্ষ ৫০ হাজার নগদ টাকা, শুকনা খাবার ২০০০ কার্টুন।

ব্রহ্মপুত্র ১৫০ সে:মি:, ঘাঘট ৯৪ সে: মি: বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

স্বাআলো/এম