আবদুল কাদির সিটি কলেজে ধারাবাহিক সফলতা উদযাপন

জেলা প্রতিনিধি, নরসিংদী : উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় ধারাবাহিক সাফল্য উদযাপন করেছে নরসিংদীর আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ।

আজ শনিবার দুপুরে কলেজ প্রাঙ্গনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নেচে-গেয়ে তাদের সাফল্য উদযাপন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা ও থার্মেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাদির মোল্লা।

এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কলেজ থেকে মোট ৯৩৯ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ৫৭০ জন জিপিএ ৫ পেয়েছেন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৫০৪ জন অংশ নিয়ে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪২৮ জন, ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে ২৩৬ জন অংশ নিয়ে ৮১ জন ও মানবিক শাখা থেকে ১৯৯ জন অংশ নিয়ে ৬১ জন জিপিএ ৫ পেয়েছেন। পাশের গড় ও জিপিএ ৫ এর সংখ্যা বিচারে দেশসেরা কলেজগুলোর কাতারে তাদের অবস্থান বলে জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, নরসিংদীতে মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাববোধ থেকে থার্মেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাদির মোল্লা ২০০৬ সালে নিজের নামে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০৮ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় কলেজটির পাশের হার ছিল ৯৯ শতাংশ। পরের বছর শতভাগ পাসসহ কলেজটি ঢাকা বোর্ডে পঞ্চম স্থান অর্জন করে। ২০১০ সালে শতভাগ পাসসহ জেলায় প্রথম, ২০১১ সালে শতভাগ পাসসহ ঢাকা বোর্ডে সপ্তম, ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত শতভাগ পাসসহ ঢাকা বোর্ডে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে। ২০১৫ সাল থেকে সেরাদের তালিকা না করা হলেও ফলাফলে নিজেদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে কলেজটি।

জিপিএ ৫ পাওয়া ইসরাত শারমিন নামের এক শিক্ষার্থী জানান, কলেজের সকল শিক্ষকই সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে আমাদের লেখাপড়া করান। তাই আমাদের ফলাফল ধারাবাহিকভাবেই এতো ভালো হয়েছে। এভাবে ভালো ফলাফল হতে থাকলে একসময় আমাদের কলেজটি দেশের সেরা কলেজ হয়ে যাবে।

আরো পড়ুন>> তিন বছর পর নরসিংদী-গুলিস্তান রুটে বিআরটিসি এসি বাস

অধ্যক্ষ মাহমুদুল হাসান বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ছাড়াও খেলাধুলা, স্বাস্থ্য, বিনোদন ইত্যাদি বিষয়ে ভূমিকা রাখি। ৬০ শতাংশ আবাসিক শিক্ষার্থীর পরিপূর্ণ যত্ম নেয়ার পাশাপাশি অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও গাইড টিচারের মাধ্যমে পরিচর্যা করি। এরকম একঝাঁক তরুণ মেধাবি শিক্ষকের সকাল থেকে মধ্যরাত অবধি নিরন্তর পরিশ্রমে এই ধারাবাহিক সাফল্য এসেছে। আমাদের বিশ্বাস, সারাদেশের শ্রেষ্ঠ কলেজগুলোর ফলাফলের তালিকায় আমরা প্রথম সারিতে থাকবো। এই কলেজের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ কলেজ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা।

কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা আবদুল কাদির মোল্লা জানান, শুধুমাত্র সার্টিফিকেটধারী না করে কলেজটির মাধ্যমে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে এক একটি সম্পদে পরিণত করতে চাই আমরা। টেকসই শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে নৈতিকতাসমৃদ্ধ একটি প্রজন্ম তৈরি করতে পারলেই তো আমাদের দেশ সামনে এগিয়ে যাবে। বলতে ভালো লাগছে, বর্তমানে ৫৩টি জেলার শিক্ষার্থী আছে আমাদের কলেজে। এই প্রতিষ্ঠানটি দেশসেরা কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে যা যা করা দরকার, আমি তাই করবো।

স্বাআলো/এম

.

Author