গাইবান্ধায় বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংকট চরমে

জেলা প্রতিনিধি,গাইবান্ধা : গাইবান্ধার সকল নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে কয়েক দিন থেকে। ব্রহ্মপুত্র নদ ও ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার এখনও ওপর এবং করতোয়া নদীর পানি অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। এবারের বন্যায় আট জনের প্রাণহানির ঘটনা  ঘটেছে।

বন্যার পানি কমতে শুরু হলেও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল জলমগ্ন অবস্থায় রয়েছে। এখনও অনেক ঘরে পানি রয়েছে। তাই বাঁধসহ বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থানরত বানভাসি লোকজন এখনও ঘরে ফিরে যেতে পারছে না। গবাদি পশুর খাদ্য সংকট, বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং স্যানিটেশন সমস্যা প্রকট। ফলে জনগণকে নানা দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

গাইবান্ধা কৃষি বিভাগ জানায়, বন্যায় জেলার ভিন্ন এলাকায় ১৪ হাজার ২১ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত রয়েছে। এসব ফসলের মধ্যে রয়েছে আউশ, আমন বীজতলা, আমন, পাট ও শাকসবজি।

আরো পড়ুন>> গাইবান্ধায় বনার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, গাইবান্ধা ও গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভা এবং ৪৯টি ইউনিয়নের ৪২৪টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে পড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৩৯৭ জন। ৫৯ হাজার ৮৭০টি বসতবাড়ি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৯৭টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৭৯ হাজার ৯৯৭ জন অসহায় মানুষ আশ্রয় নিয়ে আছে। কাঁচা রাস্তা ৫৯৩ কি. মি., পাকা রাস্তা ২৬৬ কি. মি., বাঁধ ৯৯ কি. মি. এবং কালভার্ট ৩৯টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সদরে এক জন, সাঘাটায় ২ জন এবং গোবিন্দগঞ্জে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৩৪৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১০৫ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। ৬২৯০টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। ১০০৫৯টি নলকূপের ক্ষতি হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ৩২ সে.মি., ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার ১২ সে.মি. উপর দিয়ে এবং করতোয়া নদীর পানি বিপদসীমার ২১ সে.মি. নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

স্বাআলো/এম

.

Author