গাইবান্ধার নদ-নদীতে ফের পানি বৃদ্ধি

জেলা প্রতিনিধি, গাইবান্ধা : উজান থেকে নেমে আসা পানি ও দুই দিনের প্রবল বৃষ্টিপাতে ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি পুনরায় বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। গত ১৫ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি ৬ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩৫ সে.মি. এবং ঘাঘট নদীর পানি ৪ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৮ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে ইতোপূর্বে বন্যা কবলিত যে সমস্ত এলাকা থেকে পানি সরে গিয়েছিল সে সমস্ত এলাকাসহ নতুন নতুন এলাকায় পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এতে দ্বিতীয় দফায় বন্যায় মানুষের দূর্ভোগ আরও বেড়েছে।

বন্যায় গাইবান্ধা থেকে বোনারপাড়া রেলওয়ে জংশন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন বন্যার পানি সরে না যাওয়া পর্যন্ত সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না বলে রেলওয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ওই এলাকা পরিদর্শন শেষে জানিয়েছেন। ত্রিমোহিনী রেল স্টেশন থেকে বাদিয়াখালী রেলস্টেশন পর্যন্ত একাধিক পয়েন্টে রেললাইনের স্লিপারের নিচের পাথর ও মাটি বন্যার পানিতে সরে গেছে। ওই সমস্ত এলাকায় রেল লাইন ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে।

কমপক্ষে তিন সপ্তাহের আগে এই রুটে ট্রেন চলাচল চালু করা সম্ভব হবে না। একটানা আটদিন যাবত লালমনিরহাট-সান্তাহার সকল রুটে সরাসরি ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় রেল যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের কবলে পড়তে হয়েছে।

গাইবান্ধা পৌর এলাকার বিভিন্ন এলাকার রাস্তা-ঘাট, বসতবাড়ি আবারও জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বাঙ্গালি ও করতোয়া নদীর বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় পলাশবাড়ি ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পৌরসভাসহ কয়েকটি গ্রামে নতুন করে পানি প্রবেশ করছে। এছাড়া ঘাঘট নদীর শহর রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় খোলাহাটি ইউনিয়নের পশ্চিম কোমরনই, চকমামরোজপুর, কাজীপাড়া, বাহারবন পশ্চিমপাড়া, সরকারপাড়ার কিছু অংশ এবং ডেভিডকোম্পানীপাড়ার পশ্চিম অংশে নতুন করে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

আরো পড়ুন>> গাইবান্ধায় বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংকট চরমে

এছাড়া গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল এখনও জলমগ্ন অবস্থায় রয়েছে। চরাঞ্চলসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার অনেক ঘরে পানি রয়েছে। তাই বাঁধসহ বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থানরত বানভাসি মানুষরা এখনও ঘরে ফিরে যেতে পারছে না। গবাদি পশুর খাদ্য সংকট, বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং স্যানিটেশন সমস্যা প্রকট। ফলে জনগণকে নানা দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন অফিস জানিয়েছে, বন্যায় জেলার সাত উপজেলার ৫১টি ইউনিয়নের ৪২৪টি গ্রাম ও ২টি পৌরসভার ৫ লাখ ৮৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়ির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬৯ হাজার ৮৭০টি। তাদের বেশির ভাগই নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে এসে উঠছে। আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে ১৯৭টি।

স্বাআলো/এম

 

.

Author