নতুন তালিকা ধরে শুরু হচ্ছে ভৈরবের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর : নানা জঠিলতায় আটকে যাওয়া ভৈরব নদের যশোর শহর অংশের খনন কাজ অবশেষে শুরু হচ্ছে। কয়েক দফা দরপত্রের পর ঠিকাদার মিলেছে। অবৈদ দখলদার উচ্ছেদ নিয়ে ভাবা হচ্ছে নতুন করে। এরই মধ্যে যশোরে স্কেভেটর পৌঁছে গেছে। আর দুই একদিনের মধ্যেই শুরু হবে কাজ। একই সাথে শুরু হবে উচ্ছেদ অভিযান।

সূত্র বলছে, দ্রুত অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করে ভৈরব খনন কাজ শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই নির্দেশনা মেনেই যশোর জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড যৌথভাবে কাজ করছে।

যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী বলেন, নানা কারণে ভৈরবের যশোর শহর অংশের খনন কাজের জন্য ঠিকাদার পাওয়া যাচ্ছিলনা। তবে ষষ্টবারের চেষ্টায় ঠিকাদার মিলেছে। অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ অভিযানও শুরু হবে। আর দুই একদিনের মধ্য শুরু হচ্ছে খনন কাজ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ভৈরব রিভার বেসিন এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় যশোর শহর অংশের চার কিলোমিটার খননে ব্যয় হবে প্রায় ১১ কোটি টাকা। ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি করবে।

জানা যায়, মূলত অবৈধ স্থাপনার কারণে মিলছিলো না যশোর শহর অংশের ঠিকাদার। গত ২৮ মার্চ দড়াটানা এলাকার শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর ফের আটকে যায় উচ্ছেদ অভিযান। উচ্চ আদালতের মামলা আর তদবিরের কারণে এই অভিযান থমকে যায় বলে বলছে একাধিক সূত্র। উচ্ছেদ বন্ধ করতে দখলদাররা উচ্চ আদালতে সবমিলে ৬৪টি মামলা করে। তবে সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় নতুন উদ্যোগ। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে ফের সীমানা নির্ধারণ করা হয়। যশোর শহর অংশের সেই সীমানার মধ্যে ৫০টির মতো অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। ইতোমধ্যে সেই তালিকা ধরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে জঠিলতা এড়াতে তালিকাটি ‘সিক্রেট’ হিসেবে রাখছে প্রশাসন।

এব্যাপারে যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী বলেন, নতুন তালিকা অনুযায়ী দ্রুত ভৈরব পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হচ্ছে। উচ্চ আদালতে মামলার কারণে আগের অভিযান শেষ করা যায়নি। এবার আমরা সাংবাদিকসহ যশোরবাসীর সহযোগিতা চাই।

স্বাআলো/এএম

.

Author