প্রেমিকার গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে প্রেমিকের বিরুদ্ধে মামলা

রংপুর ব্যুরো : রংপুরের গঙ্গাচড়ায় প্রেমিকার গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই প্রেমিকা তার পরিবারের লোকজনকে সাথে নিয়ে গর্ভপাতকৃত ৬ মাসের সন্তান ব্যাগে ভরে প্রেমিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার জন্য থানায় নিয়ে আসে। প্রেমিক জনি ও তার বন্ধু শিমুলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।

আজ বুধবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গঙ্গাচড়া মডেল থানার মশিউর রহমান। তিনি জানান, এ ব্যাপারে একটি মামলা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গঙ্গাচড়া  উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের লাঙ্গলেরহাট ঘাঘটটারী গ্রামের মেয়ে ও ধনতোলা আর ইউ স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণীর প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীর সাথে ঘাঘটটারী ভাংনী গ্রামের বিশাদুর ছেলে জনির সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তাদের সম্পর্ক গভীর হলে জনি প্রেমিকাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গোপনে একাধিক বার শারীরিক সর্ম্পক গড়ে তোলে। ফলে প্রেমিকা গর্ভবতী হয়ে পড়ে। নিরুপায় হয়ে প্রেমিকা প্রেমিক জনিকে বিষয়টি জানিয়ে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। কিন্তু প্রেমিক জনি বিভিন্নভাবে টালবাহনা করে সময় অতিবাহিত করে আসে।

আরো পড়ুন>> গ্রেনেড হামলায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে রংপুরে বিক্ষোভ

ভুক্তভোগী জানায়, ‘আমাকে বিয়ের কথা বলে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। আমার গর্ভে সন্তান এলে জনিকে বিষয়টি জানাই। জনি গর্ভের সন্তান নষ্ট করে বিয়ে কথা বললে আমি তার কথায় রাজি না হয়ে বিয়ের জন্য চাপ দেই। এভাবে জনি বিয়ে করার টালবাহনায় আমার গর্ভের সন্তানের বয়স ৪ মাস হলে জনি হঠাৎ ঢাকায় পালিয়ে যায়। ঢাকায় মোবাইলে জনির সাথে যোগাযোগ করলে সে আজকাল করে ২ মাসেরও বেশি সময় পার করে এবং আমার গর্ভের সন্তানের বয়সও ৬ মাস পার হয়। গত সোমবার বিকালে রংপুর শহরের একটি ক্লিনিকে কর্মরত জনির বন্ধু শিমুল আমার কাছে এসে জনির সাথে বিয়ের কথা বলে আমাকে শহরে নিয়ে যায়। সেখানে শিমুল তার কর্মরত ক্লিনিকে বসিয়ে রাখে এবং বলে জনি ঢাকা থেকে রওনা দিয়েছে তোমাকে এখানে অপেক্ষা করতে বলেছে। আমি তার কথায় বিশ্বাস করে অপেক্ষা করতে থাকি। অপেক্ষার এক পর্যায়ে শিমুল জনির কথামত সুকৌশলে খাবারের সাথে ওষুধ খাওয়ালে আমি ঘুমিয়ে পড়ি। পরের দিন মঙ্গলবার সকালে আমার গর্ভপাত হয়ে ৬ মাসেরও বেশি বয়সের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। আমি উপায় না পেয়ে ওই নষ্ট সন্তানকে কৌশলে ব্যাগে ভরে বাড়িতে নিয়ে আসি। পরিবারের লোকজনকে অবগত করে থানায় মামলা দায়ের করেছি।’

স্বাআলো/এম