রানুকে নিয়ে আসছে আবারও নতুন চমক

বিনোদন ডেস্ক : রেলস্টেশনে গান গেয়ে দুই-চার টাকা সাহায্য নিয়ে খাবারের জোগাড় করা রানাঘাটের রানু মন্ডলের জীবন বদলে যাচ্ছে একটু একটু করে।  রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম থেকে ভারতের বিখ্যাত সংগীত পরিচালক হিমেশ রেশমিয়ার ঝাঁ চকচকে স্টুডিওতে পৌঁছে গেছেন তিনি। তাকে দিয়ে একটি বলিউড ছবির গান গাইয়েছেন হিমেশ। বদলে যাওয়া সেই রানুকে নিয়ে আবারও নতুন চমক।

বলিউড সূত্রে খবর, নদিয়ার বোগোপাড়ার বাসিন্দা রানুর জীবনযুদ্ধ এবার উঠে আসবে রুপালি পর্দায়। সবকিছু ঠিক থাকলে সেপ্টেম্বর মাস থেকেই শুরু হয়ে যাবে এ ছবির শুটিং। পরিচালক নবাগত হৃষীকেশ মন্ডল। তবে এই পরিকল্পনার পিছনে যার মস্তিষ্ক, তিনি ক্যাকটাসের গায়ক সিদ্ধার্থ রায় ওরফে সিধু। ছবির সংগীত পরিচালকও তিনি। ছবিতে একাধিক গান গাইবেন রানু নিজেই।

বর্তমান মুম্বাইয়ে হিমেশ রেশমিয়ার সঙ্গে গানের রেকর্ডিংয়ে ব্যস্ত রয়েছেন রানু। সঙ্গে আছেন এই গায়িকাকে তুলে আনার নেপথ্য নায়ক অতীন্দ্র চক্রবর্তী। ঘটনা সম্পর্কে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘হ্যাঁ, সিধুদার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। এখন ২ তারিখ পর্যন্ত সম্ভবত এখানে থাকতে হবে। ফিরে গিয়ে বিস্তারিত কথা বলব। এখানকার কয়েকজন পরিচালকও এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।’

পরিচালক হৃষীকেশ বলেন, ‘ছবিতে রানুর চরিত্রে অভিনয়ের জন্য টলিউডের জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এক অভিনেত্রীর সঙ্গে প্রাথমিক কথা হয়েছে। ছবির মূল চরিত্র দুজন। রানু আর অতীন্দ্র। আপাতত ছবির নাম ভাবা হয়েছে, ‘প্ল্যাটফর্ম সিঙ্গার রানু মন্ডল’। ছবিটি শুরু হবে সাংবাদিকদের সামনে রানু সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন এমন দৃশ্য দিয়ে। আশা করছি অনুমতি পেতে সমস্যা হবে না।’

অন্যদিকে গায়ক ও সংগীত পরিচালক সিধুর বক্তব্য, ‘আমি রানু মন্ডলের গান শুনেছি। বেশ ভালো গাইছেন। তার চেয়েও বড় কথা হিমেশ রেশমিয়া রানুদিকে একটা সুযোগ দিয়েছেন। ফলে এটা আশা করা যেতেই পারে, আগামী ছয় মাস অন্তত এই ক্রেজটা থাকবে। এই সময়ের মধ্যে তিনি এই ধারাটা বজায় রাখলে অবশ্যই তা গানের জন্য ভালো খবর।’

দীর্ঘদিন আগে স্বামীর সঙ্গে কাজের সন্ধানে মুম্বাই গিয়েছিলেন রানু মন্ডল। অভিনেতা ফিরোজ খানের বাড়িতে তিনি কাজও করতেন। সেখানে থাকার সূত্রে হিন্দি বলা এবং শব্দ উচ্চারণে দক্ষতা অর্জন করেন। তারপর নদিয়াতে ফিরে আসার কিছুদিন পর স্বামী চলে যান। বিয়েও হয়ে যায় মেয়েদের। নিজের মাসি-মেসো একা হয়ে যাওয়া রানুকে নিজেদের বাড়িটি দিয়ে দেন। কিন্তু থাকার জায়গা হলেও খাবেন কী? তাই রানু খাবারের সন্ধানে প্রতিদিন হাজির হতেন রানাঘাট রেলস্টেশনে।

স্বাআলো/এসএ