রংপুর উপ-নির্বাচনে ত্রি-মুখী লড়াইয়ের আভাস

উপ-নির্বাচনে জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও জাপার বিদ্রোহী

রংপুর ব্যুরো : রংপুর সদর-৩ আসনের উপ-নির্বাচনে জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও জাপার বিদ্রোহী প্রার্থীর ত্রি-মূখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। দলীয় কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় দুর্গখ্যাত আসনটি হাতছাড়া হতে পারে এমন আশংকা করছেন খোদ জাপার নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগের প্রার্থী  প্রার্থীতা প্রত্যাহার করায় বর্তমানে এই আসনে ৬ জন প্রার্থী মাঠে থাকলেও মূলত তুমুল লড়াই হবে বিএনপি প্রার্থী রিটা রহমান ও এরশাদের ছেলে রাহগীর আল মাহি সাদ ও জাপার সাবেক চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের ভাতিজা সাবেক এমপি আসিফ শাহরিয়ারের  সাথে।

দীর্ঘদিন ধরে এই আসনটিতে এইচএম এরশাদ নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন। গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটর প্রার্থী প্রয়াত এইচএম এরশাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন রিটা রহমান। তার প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ছিলো ৫৩ হাজারের বেশি।  যা মহাজোটকে বড় ধাক্কা দিয়েছিলো। সেই নির্বাচনে মহাজোটের একক প্রার্থী ছিলেন এইচএম এরশাদ । বর্তমানে এরশাদের পরিবার থেকে তার আপন ভাতিজা নির্বাচন করায় এই আসনটি হাতছাড়া হওয়ার আশংকা তৈরি হয়েছে। সম্ভবত সেই হিসাব মিলাতে গিয়ে আওয়ামী লীগ নিজেদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিলো।

এই উপ-নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ হতে পারছে না জাতীয় পার্টি। দলের অনেক নেতাকর্মীই ক্যাম্পেইনের পাশাপাশি ভোটদান থেকে বিরত থাকতে চান। অন্যদিকে কিছু নেতাকর্মী  হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ভাতিজা বিদ্রোহী প্রার্থী আসিফ শাহরিয়ারের পক্ষে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে গতবারের অভিজ্ঞতা কাছে লাগিয়ে এবার জয় লাভ করতে মাঠে নামতে প্রস্তুুতি নিচ্ছে বিএনপি। তবে এক্ষেত্রেও রয়েছে দলীয় কোন্দলসহ নানা বিপত্তি। সব মিলিয়ে এখানে এবার ভোটের লড়াই জমবে বেশ।

রংপুর মহানগর জাপার সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির বলেন,  রংপুরের সিটি মেয়র মোস্তফা যে ঘোষণা দিয়েছেন আমরা সেই ঘোষণাতেই রয়েছি। আমরা বহিরাগত কোনো প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামছিনে। আর ভোট দিতে যাওয়ারও কোনো কারণ নেই। আমরা কাকে ভোট দিতে যাব। তিনি আরো বলেন, আমার ব্যক্তি স্বাধীনতা রয়েছে, কারও পক্ষে কাজ করা বা না করার। আর পার্টি যদি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় নেবে। তাতে ভয় পাইনে।

রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা  জিএম সাহাতাব উদ্দিন জানান,  ১২ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছিলেন। এরমধ্যে ৯ জন জমা দিয়েছিলেন। বাছাইয়ে বাতিল হয়েছে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কাওছার জামান বাবলা, ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের একরামুল হক। শেষ দিনে গতকাল সোমবার প্রত্যাহার করলেন আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী  রেজাউল করিম রাজু। এখন মাঠে প্রার্থী থাকলেন ৬ জন।

স্বাআলো/আরবিএ