ঔষুধে আগাছা না মরে ধান মরছে!  দু্জনকে গণধোলাই

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর : টোটাল এগ্রো. লি. কোম্পানির দুই ফিল্ড অফিসারকে মারপিট করে আটকে রেখে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। যশোর সদর উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা তাদেরকে উদ্ধার করেছে। পরে দিনভর কৃষি অফিসে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ও কোম্পানির প্রতিনিধিদের আলোচনা করে বিঘা প্রতি ১০ হাজার টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

যশোর সদর উপজেলার ভায়না এলাকার কৃষকরা জানান, ধানের আগাছা দমনের জন্য টোটাল এগ্রো. কোম্পানির টোটা মাইন্ড ব্যবহার করে। এরপর ধানের মধ্যে আগাছা না মরে ধান গাছ আস্তে আস্তে ছোট হয়ে আসছে। বিষয়টি বুঝতে পেরে কৃষকরা যশোর সদর উপজেলার কৃষি অফিসে যোগাযোগ করে। তারা কোন পরামর্শ দিতে না পারায় আজ বুধবার সকালে টোটাল এগ্রো. লি. কোম্পানির ফিল্ড অফিসার আব্দুল্লাহ ও ফজলুর রহমানকে  গণধোলাই দিয়ে ভায়না বাজারে আটকে রেখে। এসময় তারা ক্ষতিপূরণ দাবি করে।

আরো পড়ুন>> বেনাপোল বন্দরে আমদানি রফতানি বাণিজ্য বন্ধ

বিষয়টি জানতে পেরে সদর উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভিদ কর্মকর্তা শ্যামল কুমার নাথ ও অসীম কুমার ঘটনাস্থলে যান এবং তাদেরকে উদ্ধার করে কৃষি অফিসে নিয়ে আসেন। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা এসময় কৃষি অফিসে যান।

যশোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম খালিদ সাইফুল্লাহর উপস্থিতিতে কৃষি অফিসে দিনভর আলোচনা শেষে কৃষকদের দাবির মুখে বিঘা প্রতি ১০ হাজার টাকা দিতে স্বীকার করেন কোম্পানির  প্রতিনিধি। তবে, আগামি ৭/৮ দিন টোটাল কোম্পানির প্রতিনিধি ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের ধান পরিচর্যা করবেন। তাতে কোন প্রকার ধান উৎপাদন না হয় তাহলে বিঘাপ্রতি ১০ হাজার টাকা  এবং পরিচর্যার পর যদি ধানের উৎপাদন হয় তাহলে বিঘাপ্রতি ৫ হাজার টাকা দিতে অঙ্গীকার করেন।

এ ব্যাপারে কোম্পানির ফিল্ড অফিসারকে উদ্ধারকারী কর্মকর্তা শ্যামল কুমার নাথ টোটাল কোম্পানির কৃষকদের ১৮-১৯ বিঘার ধান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে স্বীকার করেন এবং উভয় পক্ষের সাথে আলোচনা শেষে ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান।

স্বাআলো/এম