বিয়ের পর স্বামী জানতে পারলেন স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা

জেলা প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের নান্দাইলে শরীফ মিয়া (২২) নামে এক যুবক বিয়ের প্রলোভনে এক দিনমজুরের যুবতী মেয়েকে (১৯) একাধিকবার ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় অভিযুক্ত যুবকের হুমকির মুখে তাকে অন্যত্র বিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু অন্তঃসত্ত্বা বুঝতে পেরে দ্রুতই তার স্বামী তাকে তালাক দেয়।

পরে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণের বিচার চাইলে গ্রাম্য সালিস কর্তারা যুবতীর সন্তান না হওয়া পর্যন্ত আইনি সহায়তা না নেয়ার সিদ্ধান্ত দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। অতঃপর ঘটনার শিকার মেয়েটির মা এ ব্যাপারে নান্দাইল মডেল থানায় অভিযুক্ত শরীফ মিয়ার নামে গত শুক্রবার রাতে মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

আরো পড়ুন>>>  হত দরিদ্র সেই তানিয়া এবার ঢাবির মেধা তালিকায়

এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে অভিযুক্ত ধর্ষককে রাজধানীর কাফরুল থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।

অভিযুক্ত শরীফ মিয়া নান্দাইল উপজেলার রাজগাতি ইউনিয়নের বাসিন্দা।

নির্যাতিতার পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নান্দাইল উপজেলার রাজগাতি ইউনিয়নের বিলভাদেরা গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে শরীফ মিয়া কিছুটা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ওই যুবতীকে প্রায় এক বছর ধরে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বিয়ের প্রলোভনে ফেলে গত ২৬ মার্চ রাতে ঘর থেকে বের করে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে এ বিষয়টি জানা জানি হলে শরীফ ঘটনা অস্বীকার করে বিভিন্ন হুমকি দেয়। এ ঘটনার পর শরীফের পরিবারের কাছে বিচার চাইলে তারা বিভিন্ন অজুহাত দেখায়। ওই যুবতীকে অন্যত্র বিয়ে দেয়ার পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি বিয়ের জন্য খরচের টাকাও দিতে চায়। এ অবস্থায় পরে ওই যুবতীর পরিবার গত ২ আগস্ট যৌতুক দিয়ে মেয়েটিকে অন্যত্র বিয়ে দেয়। কিন্তু ‘সন্তানসম্ভবা’ বুঝতে পেরে বিয়ের পরদিনই তার স্বামী তাকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।

মামলার বাদী ভুক্তভোগীর মা জানান, স্বামীর বাড়ি থেকে মেয়ে আমাদের বাড়ি চলে আসার ৪৫ দিন পর তার স্বামী তালাকনামা পাঠান। পরে মেয়েটি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে এক অনিশ্চয়তায় দিন যাপন করতে থাকলে বাধ্য হয়ে গ্রামের লোকজনের কাছে বিচার প্রার্থী হই। পরে গ্রাম্য সালিসে দুই পরিবারের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত শরীফের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে শরীফ এ ঘটনা অস্বীকার করে। পরে সালিস কর্তারা মেয়ের সন্তান প্রসব হলে ডিএনএ পরীক্ষার পর বিচারকাজ করার সিদ্ধান্ত জানালে চরম বেকায়দায় পড়ে থানায় মামলা দায়ের করতে হয়।

নান্দাইল মডেল থানার এসআই সুভ্র সাহা জানান, এ ঘটনায় গত শুক্রবার রাতে মামলার হওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত শরীফ মিয়া পলাতক ছিলেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে রাজধানী ঢাকার কাফরুল থানা এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের শ্রমিকের কাজ করার সময় মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

স্বাআলো/এসএ