নবগঙ্গার ভাঙনে পূঁজার আনন্দ পন্ড

জেলা প্রতিনিধি, নড়াইল: নড়াইলের কালিয়া পৌরসভার বড়কালিয়ায় নবগঙ্গা নদীর ভাঙন প্রতিরোধের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভাঙনের কারণে ওই এলাকার সনাতন ধর্মীয় লোকেদের পূজাঁর আনন্দ পন্ড হয়ে গেছে। বড় কালিয়ার ঘোষ পাড়ার নদীভাঙ্গন কবলিতদের আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় বক্তব্য রাখেন বড়কালিয়ার মণিষা ঘোষ, প্রফুল্ল বর্মন, লিটন কুমার ঘোষ, কল্যাণী বর্মন, মদন ঘোষ, ব্রিহাচলার উজ্জ্বল ঘোষ প্রমুখ। বক্তারা বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে কালিয়া পৌরসভাধীন বড়কালিয়া, ব্রিহাচলা-বাগবাড়িয়ায় নবগঙ্গা নদীতে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ দু’টি এলাকার বাড়িঘর, গাছপালা, আখক্ষেতসহ ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনের কারণে অন্তত ১০টি পাকা ঘর ও শতাধিক গাছপালা নদীতে চলে গেছে। কয়েকটি ঘর অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

এছাড়া নবগঙ্গা নদীর ভাঙনে ইতোমধ্যে কালিয়া উপজেলার শুক্তগ্রাম, বাহিরডাঙ্গা, দেবিপুর, পেড়লী, বড়কালিয়া, বেন্দাসহ কয়েকটি এলাকায় তীব্র নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনে প্রায় ৩ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর দাবি, নদী ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে ফসলি জমি, গাছপালাসহ বাড়িঘর রক্ষা করা হোক।
বড়কালিয়া এলাকার মণিষা ঘোষ ও কল্যাণী বর্মন বলেন, কয়েক বছর ধরে নদী ভাঙনে আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। এ বছর নদী ভাঙন আরো বেশি হওয়ায় শেষ আশ্রয়স্থল টুকুও চলে যাচ্ছে। বাড়ির পাশের সব জায়গা নদী গর্ভে চলে গেছে। ভিটাটুকু কখন চলে যায়, দেখার অপেক্ষা। এখন পূজাঁর সময়, কিন্তু পূজাঁর কথা চিন্তা করার সময় নেই,রাতের ঘুম পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেছে। নদী ভাঙন রক্ষায় যদি সরকার থেকে কোন ব্যাবস্থা না নেয় তাহলে পরিবার পরিজন নিয়ে কোথায় ঠাই নেব বুঝতে পারছিনে।কালিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান কৃষ্ণপদ ঘোষ বলেন, আমার উপজেলার শুক্তগ্রাম, বড়কালিয়া, ব্রিহাচলা-বাগবাড়িয়াসহ বিস্তীর্ন এলাকার ৩ হাজার পরিবার নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এরমধ্যে বেশির ভাগ এলাকাই হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা, তাদের এবারের পূজাঁ পন্ড হয়ে গেছে। তাদের বেলায় ঘুমাতে পর্যন্ত পারছে না।

সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তি বলেন, নদীভাঙন প্রতিরোধের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের উচ্চ পদস্থ কর্তকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। অতিসত্ত্বর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

স্বাআলো/এসএ