রাসেল-ফুয়াদের রিমান্ডে বের হলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

ডেস্ক রিপোর্ট: আবরার হত্যাকাণ্ড নিয়ে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। বুয়েট ভর্তির পরপরই ছাত্রলীগের রোষানলে পড়তে শুরু করেন আবরার। ফেসবুকে ভিন্নমত প্রকাশ করাই ছিল এর একমাত্র কারণ। খুনিদের কয়েকজন রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য দিয়েছে।

মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি সূত্র জানায়, ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় অনেক দিন ধরেই নজর রাখা হয়েছিল আবরার ফাহাদের ওপর। ‘শিবিরপন্থী’ হিসেবে শনাক্ত করে তাকে ‘ট্রিটমেন্ট দিতে’ (নির্যাতন চালাতে) বলেছিলেন বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহতাসিম ফুয়াদ।

আরো পড়ুন>>> আবরার হত্যাকাণ্ড: ছাত্রলীগ নেতা অমিত সাহা গ্রেফতার

গত রবিবার আবরারকে তার রুম থেকে ২০১১ নম্বর রুমে নিয়ে যান ছাত্রলীগকর্মী ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মুনতাসির আল জেমি এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এহতেশামুল রাব্বি তানিম। আবরারের ওপর দফায় দফায় নির্যাতনের নেতৃত্ব দেন তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার। আবরার হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতারকৃত ১৩ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে (বহিষ্কৃত) জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা প্রমাণ গায়েবের চেষ্টা করেছেন বলেও আলামত পাওয়া গেছে।

আরো পড়ুন>>> এবার গ্রেফতার করা হলো আবরারের রুমমেটকে

সূত্র জানায়, আবরারের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁর মৃতদেহ ২০০৫ নম্বর কক্ষে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষটি পরিষ্কার করা হয়। ওই কক্ষ থেকে নির্যাতনের আলামত সরিয়ে আবরারের কক্ষ থেকে তার নতুন পোশাক আনা হয়। হত্যাকাণ্ডকে গণপিটুনি বলে চালাতে প্রথমে আবরারকে শিবিরের নেতা বলে প্রচার করা হয়। একপর্যায়ে কৌশল পাল্টে আবরার মাদক কারবারি বলেও গুজব ছড়ানো হয়। আবরারের কক্ষে মাদকদ্রব্য রাখার চেষ্টা পাহারা দিয়ে রুখে দিয়েছেন বলে দাবি করেন কয়েকজন সহপাঠী। এ ছাড়া ঘটনার পরে পুলিশকে শেরেবাংলা হল থেকে আলামত সংগ্রহে বাধা দেওয়া হয়।

বুয়েটের একাধিক সূত্র বলছে, বেশ কিছুদিন ধরেই আবরারের ফেসবুকে নজরদারি করছিলেন বুয়েট ছাত্রলীগের কিছু নেতা। তারা আবরারকে কট্টর শিবির বলে সন্দেহ করেন। এ ছাড়া ভিন্ন মতাদর্শীদের কক্ষে ডেকে নিয়ে হুমকি ও নির্যাতন চালাতেন তারা। ৩ অক্টোবর একটি ফেসবুক পোস্টের কারণে আবরারকে ২০১১ নম্বর রুমে ডেকে সতর্ক করেছিলেন ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক এবং পুরকৌশল বিভাগের ছাত্র অমিত সাহা। হত্যাকাণ্ডের দিন রাসেল ও ফুয়াদ আবরারকে মারধর করার কথা বলেন। এটাকে তাদের ভাষায় ‘ট্রিটমেন্ট দিতে’ বলা হয়। তবে হত্যা-নির্যাতনের সময় প্রকাশিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে অমিত, রাসেল ও ফুয়াদকে প্রথমে দেখা যায়নি। কারণ তারা রুম থেকে বের হননি।

স্বাআলো/এসএ