সংবাদ সম্মেলনে এসে কাঁদলেন চাকরিপ্রত্যাশী যুবক

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর : নিজের সহায়-সম্বল সব বিক্রি করে চাকরির জন্য প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির কাছে দিয়েছিলেন নূর ইসলাম নামে এক যুবক। যশোরের রূপদিয়া ওয়েলফেয়ার একাডেরির প্রধান শিক্ষক বিএম জহিরুল পারভেজ ও কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন তার সাড়ে আট লাখ টাকার পুরোটায় হজম করে নিয়েছেন। তবে বিনিময়ে সহকারি গ্রন্থগারিক পদে নূর ইসলামকে চাকরিটাও দেননি।

২০১৫ সালের এই ঘটনার পর টাকা ফেরত পেতে নূর ইসলাম নানাভাবে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। ছেলের অনিশ্চিত ভবিষ্যত দেখে দুইবার স্ট্রোকে আক্রান্ত বাবা আব্দুল গণি এখন বেশ অসুস্থ্য। একমাত্র ছেলেটিও প্রতিবন্ধী। যাদের চিকিৎসা করাতে না পেরে বেকার নূর ইসলাম এখন দিকভ্রন্ত। তাই টাকা ফেরত পেতে আজ মঙ্গলবার প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলনে এসে অঝরে কাঁদতে থাকেন তিনি।

এসময় নূর ইসলামের বাবা আব্দুল গণি, মা ফরিদা বেগম, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এমএ আকরাম, প্রতিবেশি গোলাম কুদ্দুস, হাসেম আলী মোল্যা, আজিম বিশ্বাস, ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সদর উপজেলার বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দা নূর ইসলাম বলেন, আমি একজন অসহায় মানুষ। আমার বাবা দীর্ঘদিন অসুস্থ্য। আমার ছেলেটি প্রতিবন্ধী শিশু। যশোরের রুপদিয়া ওয়েলফেয়ার একাডেমীর সভাপতি অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন ও প্রধান শিক্ষক বিএম জহিরুল পারভেজ সহকারি গ্রন্থগারিক পদে আমাকে চাকরি দেয়ার কথা বলে সাড়ে ৮ লাখ টাকা নেন। কিন্তু টাকা নিলেও আমার পরিবর্তে চিন্তা সেন নামে অন্য একজনকে নিয়োগ দিয়েছেন তারা। এখন আমার টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সহকারি গ্রন্থগারিক পদে নিয়োগের জন্য ২০১৫ সালে ৬ মার্চ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। এরপর আমাকে চাকরি দেয়ার কথা বলে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক ৭ লাখ টাকা নেন। কিন্তু নিয়োগ না দিয়ে একই বছর ১০ অক্টোবর ও ২০১৬ সালের ২০ জুন একই পদে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। এরপর নিয়োগ বোর্ড গঠন করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা হয়। পরীক্ষায় আমি প্রথম হই। তখন আমাকে বলা হয় রেজ্যুলেশন করতে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা লাগবে। টাকা ছাড়া শিক্ষা অফিসার ও নিয়োগ বোর্ডের কর্মকর্তারা স্বাক্ষর করবেন না। এর আগে আমার কাছ থেকে সাত লাখ টাকা নিয়েছেন তারা। পরীক্ষার পর এক লাখ ৫০ হাজার টাকা দেয়ার কয়েকদিন পর আমি জানতে পারি সহকারি গ্রন্থাগারিক পদে চিন্তা সেন নামে একজনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

নূর ইসলাম বলেন, জমিজমা বিক্রি করে চাকরির আশায় আমি সাড়ে ৮ লাখ টাকা দিয়েছি। এখন অসহায়ভাবে মানবেতর জীবন-যাপন করছি। টাকা দেয়ার সময় সভাপতির ছোট ভাই ফেরদৌস, সাবেক মেম্বর মোমিন উদ্দিন, নজরুল ইসলাম, এলাকার আনোয়ার হোসেন ও মিজানুর রহমান স্বাক্ষি ছিলেন। বর্তমানে আমার বাবা ও ছেলে প্রচন্ড অসুস্থ্য। তাদের আমি ঠিকমতো চিকিৎসাও করাতে পারছি না।

স্বাআলো/আরবিএ