রাজপথের সৎ নেতা তাসবীরুল হক অনুকে ঢাকা উত্তর যুবলীগের শীর্ষ পদে চান নেতাকর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: গণতন্ত্র রক্ষা, ভোট রাজনীতি, উন্নয়নের প্রচার বা আত্মমানবতার সেবা-সর্বত্র তিনি থাকেন অগ্রভাগে। প্রায় তিন দশকের রাজনৈতিক জীবনে দলের প্রতি আনুগত্যের পাশাপাশি প্রমাণ দিয়েছেন সামাজিক দায়বদ্ধতারও।ক্ষমতার কাছাকাছি থেকেও কাজ করেছেন সততার সাথে। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান তাকে স্পর্শ করেনি।

সংগত কারণে আগামী যুবলীগের সম্মেলনে ঢাকা মহানগর উত্তরের শীর্ষ পদের জন্য যারা আলোচনায় আছেন তাদের মধ্যে অন্যতম এই তাসবীরুল হক অনু। যিনি বর্তমানে সংগঠনটির ১নং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে আছেন।

জানা যায়, পরিবার থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির হাতেখড়ি ১৯৭৪ সালে জন্ম নেয়া তাসবীরুল হক অনুর। বাবা-মার কাছে মুক্তিযুদ্ধ আর বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনে বড় হওয়া অনু ছাত্রজীবনে যুক্ত হন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে। দলের প্রতি আনুগত্যে আর সাংগঠনিক দক্ষতা বিবেচনায় ১৯৯২ সালে তাকে ধানমন্ডি থানার ৪৮নং ওয়ার্ড (বর্তমানে ১৪নং) ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়। পরে অবিভক্ত ধানমন্ডি থানা ছাত্রলীগের সভাপতি, ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতেও।ছাত্র রাজনীতি শেষে অনু সক্রিয় হন যুবলীগের রাজনীতিতে। আর এখন পালন করছেন ঢাকা উত্তর যুবলীগের বর্তমান কমিটিতে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, ‘নব্বই দশকের শুরুতে আমি তখন ঢাকার নিউমডেল ডিগ্রী কলেজের ছাত্র। কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বায়েজিদ ও সাধারণ সম্পাদক লিটনের নেতৃত্বে আমরা ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে নেত্রী শেখ হাসিনার কাছে যেতাম। তিনি ছাত্রজীবনে লেখাপড়া ও রাজনীতির গুরুত্ব সম্পর্কে আমাদের বোঝাতেন। তার কাছ থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পেয়েছি। যে আদর্শ বুকে নিয়ে রাজনীতি করছি। দেশকে, দেশের মানুষকে ভালবেসেছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৈনিক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি।’

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকার সময় আওয়ামী লীগের ডাকা সব আন্দোলনে অংশ নেন তাসবীরুল হক অনু। এজন্য তাকে চারবার কারাবরণ করতে হয়েছে। আওয়ামী লীগের বর্ষিয়ান নেতা প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাক,শাহ এ এম এস কিবরিয়া, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, মোহাম্মদ নাসিম, তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে ঢাকা শহরের মিছিলে ছাত্রাবস্থায় শ্লোগান দিয়ে নেতাদের আস্থাভাজন হন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির প্রহসনের নির্বাচন বানচাল, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে পরে বিএনপি-জামায়াত জোটের আগুন সন্ত্রাস প্রতিরোধে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে রাজপথে অবস্থান নেন। এর আগের বছর ৫ মে হেফাজত ইসলামের শাপলা চত্বরের অগণতান্ত্রিক আন্দোলন প্রতিহতেও রাখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের নেতৃত্বে কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি প্রস্তত করার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় নামেন। সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের নেতৃত্বে ঢাকার ৮টি সংসদীয় আসনের সমন্বয়ক কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেন। নিজ এলাকা ঢাকা-১০ আসনে নৌকার প্রার্থী ব্যারিষ্টার শেখ ফজলে নুর তাপসের জয় নিশ্চিত করতে দিন-রাত কাজ করেন।

ঢাকা উত্তরের ৩৪নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি বিল্লাল হোসেন জানান, ২১ আগস্ট শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে কাফনের কাপড় পড়ে মিছিলে নামেন অনু। শ্লোগানে শ্লোগানে রাজপথ প্রকম্পিত করেন। এছাড়া ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠা মিছিল, ২০০৭ সালের জানুয়ারির অগণতান্ত্রিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূয়া নির্বাচন পরে শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তারের পর রাজপথে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন এই যুবলীগ নেতা।

তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেমন পরিচ্ছন্ন নেতা খুঁজছেন, তfসবীরুল হক অনু তেমননি। তাকে শীর্ষ পদে দায়িত্ব দেয়া হলে দল সংগঠিত হবে।’

ঢাকা উত্তরের ১৮নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সুমেরুল রানা বলেন, ‘তাসবীরুল হক অনু শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথেও যুক্ত। তিনি সমাজের সুবিধা বঞ্চিত শিশু-কিশোরদের সুন্দর জীবন গঠনে প্রতিষ্ঠা করেন ধানমন্ডি গণশিক্ষা স্কুল। পথ শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠিত স্কুলটিতে বিনা বেতনে পাঠাদন করা হয়। ১৯৯৮ সালের ভয়াবহ বন্যার সময়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে এগিয়ে যান অনু। তৃণমূলের কর্মীদের খোঁজ-খবর নেন। সর্বশেষ ২০১৭ সালে যুবলীগের নেতৃত্বে রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি সফল করতে অনুর ভূমিকা ছিলো গুরুত্বপূর্ণ।’

তাসবীরুল হক অনু বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আদর্শ মেনে রাজনীতি করছি। চেষ্টা করেছি সততার সাথে দায়িত্ব পালন করতে। যুবলীগের ৬ষ্ঠ কংগ্রেসে ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলাম। পরে যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের সব কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি। আগামী ৭ম কংগ্রেসে জননেত্রী শেখ হাসিনা যাকে সংগঠনের দায়িত্ব প্রদান করবেন তাদের নেতৃত্বে অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করব। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত।’

স্বাআলো/এসএ