বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃতি, ক্ষমা চাইলেন যবিপ্রবি ভিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : ঘটনার পর থেকে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেস্ক ক্যালেন্ডারে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃতির বিষয়টি অস্বীকার করে আসলেও অবশেষে আদালতে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন ভিসি প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেনসহ তিন কর্মকর্তা।

আজ সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে শুনানি চলাকালে ভিসি, রেজিস্ট্রার ও জনসংযোগ কর্মকর্তা নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

তবে আদালত আগামী ২০ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন। একই সঙ্গে তাদের সতর্ক করে বলেছেন, ‘অভিযোগ প্রমাণ হলে ছাড় দেয়া হবে না।’

সংশ্লিষ্ট কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

যবিপ্রবির ২০১৮ সালের ডেস্ক ক্যালেন্ডারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি এবং চলতি বছরের ডেস্ক ক্যালেন্ডারে জাতির পিতা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি বিকৃত করার অভিযোগ উঠে। এজন্য চলতি বছরের শুরুতে যশোর সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল হাইকোর্টে রিট পিটিশনটি দাখিল করেন।

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী এম কে রহমান। আর যবিপ্রবির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কে এম সাইফুদ্দিন আহমেদ এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

এর আগে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রমাণ মেলে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের দায় এড়াতে পারেন না বলে মন্তব্য করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালের ডেস্ক ক্যালেন্ডারে জাতির পিতার ছবি এবং ২০১৯ সালের ডেস্ক ক্যালেন্ডারে জাতির পিতা ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করা হয়নি। এছাড়া ২০১৮ সালের ক্যালেন্ডারে জাতির পিতার ছবির ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির নাম লেখাও সমীচীন হয়নি।

বলা হয়, ২০১৯ সালের ডেস্ক ক্যালেন্ডার পুনঃমুদ্রিত। আগের (প্রথম) প্রিন্ট করা কপিতে জাতির পিতার ছবি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ছিদ্র করে স্পাইরাল বাইন্ডিং করা হয়। এছাড়া জাতির পিতা ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি (ছবির মাথা কেটে) বিকৃত করা হয়, যা প্রথম মুদ্রিত  ডেস্ক ক্যালেন্ডার থেকে স্পষ্টতই প্রমাণ পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, জাতির পিতা ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত ছিল ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ দায়িত্বপ্রাপ্তরা তা করেননি। এ ক্ষেত্রে কোনোভাবেই তারা দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। তাদের ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত ছিল।

আরো পড়ুন>>> জাতির পিতার ছবি অবমাননায় যবিপ্রবি ভিসির বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল

আরো পড়ুন>>> যবিপ্রবিতে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃতির প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল

স্বাআলো/এসএ