‘বুলবুল’ মোকাবেলায় বাগেরহাটে প্রস্তুত ২৩৪ আশ্রয় কেন্দ্র

জেলা প্রতিনিধি,বাগেরহাট : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আঘাত হানার আশংকা নিয়ে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। জেলায় ২৩৪টি ঘুর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। ঝড়ের পূর্বাভাস বৃদ্ধির সাথে সাথে এসব আশ্রয় কেন্দ্রে উপকূলের মানুষদের সরিয়ে নিতে কাজ করবে সেচ্ছাসেবকরা।

আজ শুক্রবার বেলা ১১ টায় দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি জরুরী সভা করেছে। সভায় ১০ নভেম্বর থেকে ৩ দিনব্যাপী সুন্দরবনের দুবলার চরে হতে যাওয়া রাস উৎসব বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থা কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এদিকে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে সকাল থেকে মেঘলা আকাশ গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। সাথে মৃদু ঠান্ডা বাতাস বইছে। বাগেরহাটের মোংলা সমুদ্র বন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।

তবে এই আবহাওয়ায় মোংলা বন্দরে অবস্থান নেওয়া জাহাজে পণ্য ওঠানামার কাজ স্বাভাবিক রয়েছে। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কামরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক দেবপ্রসাদ পাল, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আহাদ উদ্দীন হায়দার, বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের জেলা প্রতিনিথি মারুফ পারভেজ প্রমুখ।
জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ বলেন, জেলায় মোট ২৩৪টি ঘুর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে। এই আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় সোয়া দুই লাখ মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। তাদের জন্য এগুলো খুলে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া সকল উপজেলাতে একটি করে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে সব ধরনের প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে।

দুবলাচর রাস উৎসব জাতীয় কমিটির সহ-সভাপতি বাবুল সরদার বলেন বলেন, আগামী ১০ নভেম্বর থেকে সুন্দরবনের দুবলারচরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রাস উৎসব শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওইদিন ঘুর্ণিঝড় বুলবুল আছড়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। এ জন্য আমরা কমিটি রাস উৎসব বন্ধ ঘোষণা করেছি।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাষ্টার কমান্ডার শেখ ফখর উদ্দীন বলেন, মোংলা বন্দরে বর্তমানে কয়লা, ইউরিয়া সার, পাথর, সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল ক্লিংকারসহ ১২টি জাহাজ অবস্থান করছে। আরো দুটি নতুন জাহাজ বন্দরে ভেড়ার কথা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ধেয়ে আসার খবরে বন্দরে ৪ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। বন্দরে ৪ নম্বর সতর্ক সংকেতের মধ্যেও মোংলা বন্দরে অবস্থান নেয়া জাহাজে মালামাল ওঠানামার কাজ এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খুলেছি।

স্বাআলো/ডিএম