পারল না বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক : বাংলাদেশকে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৩০ রানে হারিয়ে সিরিজ জিতে নিল ভারত।

চাহারের পঞ্চম

শেষ ওভারের প্রথম বলে মুস্তাফিজুর রহমানকে ফিরিয়ে দিপক চাহার পেলেন ম্যাচে ৫ উইকেটের স্বাদ। অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের বল মুস্তাফিজ তুলে দিলেন কাভার সীমানায় ফিল্ডারের হাতে।

বাংলাদেশ ৯ উইকেটে ১৪৪।

চাহারের চতুর্থ

দিপক চাহারের স্লোয়ার বাউন্সারে উড়িয়ে মেরেছিলেন শফিউল ইসলাম। টাইমিং খুব ভালো হয়নি। লং অন সীমানায় ক্যাচ নিয়েছেন রাহুল।

৪ রানে ফিরলেন শফিউল। বাংলাদেশের ইনিংস শেষের পথে। রান ৮ উইকেটে ১৩৫।

৩ ওভারে চাহারের এটি চতুর্থ উইকেট। ৭ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথমবার পেলেন ৪ উইকেট।

পারলেন না মাহমুদউল্লাহ

বাংলাদেশের শেষ আশা হয়ে ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু অধিনায়ক পারলেন না দারুণ কিছু করতে। তার সঙ্গে মাঠ থেকে বেরিয়ে গেল হয়তো বাংলাদেশের আশাও।

দ্রুত রানের তাড়নায় যুজবেন্দ্র চেহেলকে বেরিয়ে এসে স্লগ করতে চেয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। ব্যাটে-বলে হয়নি। বল লাগল স্টাম্পে।

১০ বলে ৮ রান করে বিদায় নিলেন মাহমুদউল্লাহ। ১৬.৫ ওভারে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ১৩০।

টি-টোয়েন্টিতে এটি চেহেলের ৫০তম শিকার। ভারতের হয়ে সবচেয়ে কম ম্যাচে খেলে ৫০ উইকেটের রেকর্ড গড়লেন এই লেগ স্পিনার (৩৪ ম্যাচ)।

আরেকটি গোল্ডেন ডাক

নাঈমকে বিদায়ের পরের বলেই বাংলাদেশকে আরেকটি বড় ধাক্কা দিলেন শিবম দুবে। আফিফ হোসেনকে ফিরিয়ে দিলেন প্রথম বলেই। বাংলাদেশের ইনিংসে তৃতীয় গোল্ডেন ডাক!

নাঈমের মতো আফিফও খেলতে চেয়েছিলেন জায়গা বানিয়ে। দুবে সেটি খেয়াল করে ক্রস সিম ডেলিভারি করলেন আফিফের শরীর সোজা, শর্ট অব লেংথ। আফিফ পারলেন না ঠিকমতো খেলতে। ব্যাটের কানায় লেগে গেল ফিরতি ক্যাচ। সহজ ক্যাচ নিয়ে উল্লাসে ভাসলেন দুবে।

ভারতের পঞ্চম বোলার দুবের তৃতীয় শিকার এটি। বাংলাদেশ ৬ উইকেটে ১২৬।

দুর্দান্ত নাঈমের সমাপ্তি

বাংলাদেশের আশা টিকে ছিল মোহাম্মদ নাঈম শেখের ব্যাটে। কিন্তু দুর্দান্ত খেলতে থাকা তরুণ ওপেনারকে দারুণ ইয়র্কারে বোল্ড করে দিলেন শিবম দুবে।

দুবের স্পেলের এটি শেষ ওভার। রান-বলের টানাপোড়েন মেটাতে তার বোলিংকে কাজে লাগাতে চাইছিলেন নাঈম। বাঁহাতি নাঈম খেলতে চেয়েছিলেন জায়গা বানিয়ে। দুবে নিজের গড় গতির চেয়ে একটু বেশি গতিতে করলেন ইয়র্কার। প্রায় নিখুঁত ইয়র্কার। নাঈম ব্যাট নামিয়েও থামাতে পারেননি বল। উড়ে গেল বেলস।

১০ চার ও ২ ছক্কায় ৪৮ বলে ৮১ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে ফিরলেন নাঈম। বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ১২৬।

রিভিউ হারাল ভারত

অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বল। ব্যাট চালিয়ে দিলেন নাঈম। ব্যাটে-বলে লাগল না, আম্পায়ার সঙ্কেত দিলেন ওয়াইডের। কিন্তু বল গ্লাভসে নিয়ে আবেদন করলেন কিপার রিশাভ পান্ত।

কিপার পান্ত ও বোলার খলিল চাইলেন রিভিউ নিতে। কিছুক্ষণ ভেবে অধিনায়ক রোহিত সায় দিলেন। কিন্তু রিভিউয়ে দেখা হেল, ব্যাটে লাগেনি বল। ভারত হারাল একমাত্র রিভিউ।

শুরুতেই শেষ মুশফিক

প্রথম ম্যাচের নায়ক মুশফিকুর রহিমের জন্য মঞ্চ ছিল প্রস্তুত। কিন্তু অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ফিরে গেলেন নিজের প্রথম বলেই।

শিবম দুবের ডেলিভারিটি ছিল অফ স্টাম্পের বাইরে। নির্বিষ এক বল। মুশফিক চেয়েছিলেন থার্ডম্যানে গ্লাইড করে রান নিতে। কিন্তু বলটি ছিল স্লোয়ার। ব্যাটের কানায় লেগে বল লাগল স্টাম্পে।

অলরাউন্ডার দুবে পেলেন প্রথম আন্তর্জাতিক উইকেটের স্বাদ। মুশফিক ফিরলেন তৃতীয়বার টি-টোয়েন্টিতে গোল্ডেন ডাকের শিকার হয়ে।

১৭৫ রান তাড়ায় বাংলাদেশ ৪ উইকেটে ১১০।

জুটি গড়ে ফিরলেন মিঠুন

তৃতীয় উইকেট জুটির শতরানের মুখে বিদায় নিলেন মোহাম্মদ মিঠুন। ভারতকে আবারও উইকেট এনে দিলেন দিপক চাহার।

নিজের প্রথম ওভারেই ২ উইকেট নিয়েছিলেন চাহার। এরপর বাংলাদেশ গড়েছে বড় জুটি। সেই জুটি ভাঙতে মরিয়া ভারত অধিনায়ক ফিরিয়ে আনলেন চাহারকে। তার স্লোয়ার ডেলিভারি উড়িয়ে মেরে লং অফে ক্যাচ দিলেন মিঠুন।

২৯ বলে ২৭ রানে ফিরলেন মিঠুন। ভাঙল নাঈমের সঙ্গে ৯৮ রানের জুটি।

তৃতীয় উইকেটে বাংলাদেশের এটি তৃতীয় সেরা জুটি। ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১১২ রানের জুটি গড়েছিলেন সাকিব ও মুশফিক। ২০০৭ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১০৯ রানের জুটি গড়েছিলেন আশরাফুল ও আফতাব।

ভারতের বিপক্ষে তৃতীয় জুটিতে অবশ্য এটিই বাংলাদেশের সেরা। আগের সেরা ছিল এই সিরিজের প্রথম ম্যাচে মুশফিক ও সৌম্য ৬০।

বাংলাদেশের ১০০

নাঈম শেখ ও মোহাম্মদ মিঠুনের দারুণ জুটিতে রান তাড়ায় এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। ১১.৫ ওভারের দলের রান স্পর্শ করেছে ১০০। তাতে নাঈমের রানই ৬৪।

নাঈমের ফিফটি

শুরুর অস্বস্তি কাটিয়ে দারুণ ব্যাটিংয়ে ফিফটি করে ফেললেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। দেখালেন নিজের প্রতিভা ও সামর্থ্যের বিজ্ঞাপন। তৃতীয় আন্তর্জাতিক ম্যাচেই প্রথম ফিফটির দেখা পেলেন ২০ বছর বয়সী ওপেনার।

৫ ওভার শেষে নাঈমের রান ছিল ১৫ বলে ৮। ষষ্ঠ ওভারে যুজবেন্দ্র চেহেলের বলে টানা তিনটি বাউন্ডারি মেরে গতিময়তার শুরু। এরপর দারুণ খেলে ফিফটি স্পর্শ করেছেন ৩৪ বলেই। ৭ চারের সঙ্গে ইনিংসে ছক্কা ছিল ১টি।

শুরুর ধাক্কা সামাল দিয়ে ম্যাচে ভালোভাবেই টিকে আছে বাংলাদেশ। নাঈম ও মিঠুনের জুটিতে ১০ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ২ উইকেটে ৭৪।

১০ ওভার শেষে ভারতের রান ছিল ২ উইকেটে ৭১।

জুটির ফিফটি

দ্রুত ২ উইকেট হারানোর পর নাঈম শেখ ও মোহাম্মদ মিঠুনের জুটিতে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। জুটির শুরুতে ছিল প্রতিরোধ। পরে সময়ের সঙ্গে বেড়েছে রানের গতি। তৃতীয় উইকেটে দুজনের জুটির ফিফটি এসেছে ৩৭ বলে।

ফিফটি জুটিতে ৩৯ রানই এসেছে নাঈমের ব্যাট থেকে।

নাঈমের এগিয়ে চলা

শুরুটা নড়বড় হলেও সময়ের সঙ্গে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। যুজব্রেন্দ্র চেহেলকে টানা তিনটি বাউন্ডারির পর টানা দুই বলে বাউন্ডারি মেরেছেন শিবম দুবের বলে।

৭ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ২ উইকেটে ৪৫। নাঈমের ব্যাট থেকে এসেছে ২৪ বলে ৩২।

বাংলাদেশের নড়বড়ে শুরু

মন্থর উইকেটে ১৭৫ রান তাড়া করায় প্রয়োজন ছিল ভালো শুরু। পাওয়ার প্লেতে প্রয়োজন ছিল ঝড় তোলা। হয়েছে উল্টো। তৃতীয় ওভারে দুই উইকেট হারানো বাংলাদেশ তুলতে পারেনি খুব বেশি রান।

ইনিংসের প্রথম ওভারে খলিল আহমেদকে দুটি চার মেরেছিলেন লিটন। ষষ্ঠ ওভারে যুজবেন্দ্র চেহেলকে টানা তিনটি চার মারেন নাঈম শেখ। মাঝের চার ওভারে আসেনি একটিও বাউন্ডারি।

১৭৫ রান তাড়ায় বাংলাদেশ ২ উইকেটে ৩৩। ২০ বলে ২২ রান নিয়ে খেলছেন নাঈম।

গোল্ডেন ডাক সৌম্য

লিটনের বিদায়ের পর সৌম্য সরকার উইকেটে এলেন ও গেলেন। ক্যাচ দিলেন প্রথম বলেই।

অফ স্টাম্পের বাইরে, ফুল লেংথ থেকে একটু টেনে বল করেছিলেন দিপক চাহার। সৌম্য জায়গায় দাঁড়িয়ে খেললেন হাওয়ায় ভাসিয়ে। বল গেল না গ্যাপে, মারেও হলো না জোর। মিড অফে সহজ ক্যাচ নিলেন শিবম দুবে।

পরপর দুই বলে উইকেট হারাল বাংলাদেশ।

বল হাতে দারুণ করা সৌম্য ব্যাটিংয়ে ফিরলেন প্রথম বলেই আউট হয়ে। টি-টোয়েন্টিতে এই নিয়ে ৮ বার শূন্য রানে ফিরলেন সৌম্য, গোল্ডেন ডাক চারবার।

১৭৫ রান তাড়ায় বাংলাদেশ ২ উইকেটে ১২।

পারলেন না লিটন

প্রথম ওভারে দারুণ দুটি শটে চার মেরেছিলেন লিটন দাস। কিন্তু আরও একবার জেগে ওঠা পূর্ণতা পেল না তার ব্যাটে। ফিরে গেলেন দুই অঙ্ক না ছুঁয়েই।

দিপক চাহারের শর্ট অব লেংথ বলটিতে পুল করেছিলেন লিটন। ধারাভাষ্যকক্ষে সঞ্জয় মাঞ্জরেকার বললেন, দারুণ শট। কিন্তু মারে জোর ছিল না যথেষ্ট। বল গেল সোজা সীমানায় ওয়াশিংটন সুন্দরের হাতে।

৮ বলে ৯ রানে ফিরলেন লিটন। বাংলাদেশ ১ উইকেটে ১২।

বাংলাদেশের সামনে বড় লক্ষ্য

সিরিজে প্রথমবার সুযোগ পাওয়া মনিশ পান্ডের সৌজন্যে ভারত শেষটাও করল ভালো। ১৩ বলে ২২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। জয়ের জন্য বাংলাদেশকে ১৭৫ রানের চ্যালেঞ্জ দিল ভারত।

রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ানকে দ্রুত ফিরলেও লোকেশ রাহুল ও শ্রেয়াস আইয়ার ভারতকে নিয়ে গেছেন বড় স্কোরের পথে। ৩৫ বলে ৫২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন রাহুল। শূন্য রানে জীবন পেয়ে শ্রেয়াস চোখধাঁধানো সব শটে করেছেন ৩৩ বলে ৬২।

বাংলাদেশের হয়ে সৌম্য সরকারের বোলিং ছিল দারুণ বোনাস। আল আমিন, শফিউলও ছিলেন যথেষ্ট কার্যকর। কিন্তু আবারও হতাশ করেছে মুস্তাফিজ। নিজের প্রথম তিন টি-টোয়েন্টিতে দুটি করে উইকেট পাওয়া আমিনুল এবার উইকেটশূন্য।

মন্থর উইকেটে এই রান তাড়া করা বাংলাদেশের জন্য হবে অনেক বড় পরীক্ষা। তবে শিশির পড়তে পারে পরের দিকে। ভারতের বোলিং আক্রমণে একজন বোলারের কমতিও আছে। এসবই বাংলাদেশের আশার জায়গা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত: ২০ ওভারে ১৭৪/৫ ( রোহিত ২, ধাওয়ান ১৯, রাহুল ৫২, শ্রেয়াস ৬২, পান্ত ৬, মনিশ ২২*, দুবে ৯*; আল আমিন ৪-০-২২-১, শফিউল ৪-১-৩২-২, মুস্তাফিজ ৪-০-৪২-০, আমিনুল ৩-০-২৯-০, সৌম্য ৪-০-২৯-২, আফিফ ১-০-২০-০)।

স্বাআলো/এম