তারেকের প্রতি ৪৩ জেলা বিএনপির অনাস্থা : ৬ জনকে লন্ডনে তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : বিএনপিতে এখন পদত্যাগের হিড়িক চলছে। স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ দলের সিনিয়র হেভিওয়েট নেতারা একের পর এক পদত্যাগ করছেন। পাইপলাইনে রয়েছে আরও কয়েকজন যারা যেকোনো সময়ে পদত্যাগ করতে পারেন বা পদত্যাগপত্র দলের মহাসচিবের কাছে জমা দিয়েছেন। মূলত তারেকের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়েই এই গণপদত্যাগ চলছে।

শুধু কেন্দ্রীয় কমিটিতে নয়, পাড়া মহল্লায় বিএনপির নেতারাও এখন পদত্যাগ করছেন। তারেকের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপনই এই পদত্যাগের মূল কারণ বলে তৃণমূলের বিএনপি নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন। তারা বলছেন যে, তারেক জিয়ার ভুল নেতৃত্ব এবং অতি লাভ, মনোনয়ন বাণিজ্য, কমিটি বাণিজ্যের কারণেই বিএনপি আজ ধ্বংসের দারপ্রান্তে। এই অবস্থায় বিএনপি করার মতো কোনো যৌক্তিকতা নেই।

বিএনপির অনেক নেতাই বলছেন যে, বিএনপিতে যারা দুর্দিনে কাজ করছেন তাদেরকে মূল্যায়ন না করে তারেক জিয়া এমন সব ব্যক্তিদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছেন যারা বিএনপির জন্য কোনো কল্যাণই বয়ে আনবে না। এমন ব্যক্তিদের কারণে বিএনপিতে যারা আন্দোলন সংগ্রাম করতো না, তারা দল ছেড়ে চলে যাচ্ছে।

বিএনপির ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানাচ্ছে, অন্তত ৪৩টি জেলা রয়েছে, যেখানকার নেতারা তারেকের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন এবং তারা তারেকের সঙ্গে কোনোরকম যোগাযোগও করছেন না। এরকম পরিস্থিতিতে বিএনপিকে বাঁচাতে তারেক জিয়া শেষ পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি ৬ নেতাকে লন্ডনে তলব করেছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করছে।

যে ৬ জনকে লন্ডনে ডাকা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ঢাকা উত্তরের সম্ভাব্য মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল এবং মহিলা কোটায় জাতীয় সংসদে বিএনপির এমপি রুমিন ফারহানা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, তাদেরকে ডেকে তারেক জিয়া বিএনপির করণীয়, ভবিষ্যত এবং গণপদত্যাগ ঠেকানোর শেষ চেষ্টা করবে। তবে লন্ডনে তারেকের সঙ্গে যোগাযোগ করে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন যে, দলে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রতি সাধারণ নেতাকর্মীদের কোনো আস্থা নেই। এই আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে মূলত চারটি কারণে।

আরো পড়ুন>> বিএনপিতে তারেক ছাড়ো আন্দোলন

প্রথম কারণ হলো, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য কোনো জোরালো আন্দোলন বিএনপি করছে না। বিএনপির অনেকে এটাও মনে করছেন যে তারেকের বাধার কারণেই এই আন্দোলন করা যাচ্ছে না। দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে কোনো দাবি দাওয়া অর্জন ছাড়াই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা। তৃতীয় কারণ, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর বিএনপি যখন প্রথম ঘোষণা দিলো যে সংসদে যাওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না, কিন্তু তারপরেও সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্তও তারেক জিয়া নিয়েছিলেন বলেই মনে করছেন দলের অনেক নেতাই। চতুর্থ এবং সর্বশেষ কারণ হলো, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নয়, এটা বলার পরেও আবার উপনির্বাচন এবং বিভিন্ন স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত বিএনপির জন্য আত্মঘাতী হয়ে দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই সমস্ত বিষয় নিয়ে তারেকের বক্তব্য স্পষ্ট নয়। বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, তারেক জিয়া সকালে একরকম বক্তব্য দিয়ে বিকেলে তা পাল্টে ফেলে অন্যরকম কর্মপন্থা বাতলে দেন। এর ফলে বিএনপি দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ছে এবং বিএনপির কোনো নির্দেশনাই কাজে লাগছে না। এই পরিস্থিতিতে তারেক জিয়াকেই এখন বিএনপির নেতাকর্মীরা বিশ্বাস করতে পারছেন না।

তাই লন্ডনে যে ৬ নেতাকে ডাকা হয়েছে, সেই বৈঠকে শেষ পর্যন্ত কি হবে সেটাই দেখার বিষয়। তারেক জিয়া দলের মূলশক্তি তৃণমূলকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র উচ্চপর্যায়ের ৬ নেতাকে নিয়ে বৈঠক করে কি তারেক জিয়া পারবেন বিএনপিকে বাঁচাতে? এই প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে।

স্বাআলো/এম