সব দুর্নীতিবাজকে আইনের আওতায় আনা হবে  : শেখ হাসিনা

রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমি রাখাইনে ফেরত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : ঢাকার ক্রীড়া ক্লাবগুলোতে ক্যাসিনো বন্ধের মধ্য দিয়ে যে ‘শুদ্ধি’ অভিযান শুরু হয়েছে, তা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেড় মাস আগে এই অভিযান শুরুর পর তাতে কিছুটা ভাটা দেখা দেওয়ার মধ্যে বুধবার সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে সরকার প্রধান বলেন, “এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

গত সেপ্টেম্বরে মতিঝিলের ক্রীড়া ক্লাবে র‌্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার তথ্য বেরিয়ে আসে। এতে জড়িত কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, “ক্যাসিনোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে কঠোর অভিযান পরিচালনা করে ক্যাসিনোর আস্তানাগুলো উচ্ছেদ করে। সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে আদালতে সোপর্দ করেছে। ভবিষ্যতে যাতে কেউ এ ধরনের অবৈধ কর্মকান্ড পরিচালনা করতে না পারে সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি অব্যাহত আছে। “দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস, জুয়াসহ সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে জেলা,উপজেলা ও পৌরসভাসহ সকল সেক্টরে এবং স্থানে সরকারের চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

জাতীয় পার্টির রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মাদক ও জুয়াসহ সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে। মাদক কারবারি ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর কঠোর অভিযান চলমান রয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

“সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর অব্যাহত অভিযানে অনেক সন্ত্রাসী আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। সন্ত্রাস নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর অভিযান চলবে।

“সব দুর্নীতিবাজকে আইনের আওতায় আনতে দুর্নীতি দমন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে রাজনৈতিক ব্যক্তি ছাড়া সরকারি কর্মচারীসহ অন্য যে সব ব্যক্তি জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ১০ বছরে দুর্নীতি দমন কমিশন ১৩ হাজার ২৩৮টি অভিযোগের অনুসন্ধান, ৩ হাজার ৬১৭টি মামলা দায়ের এবং ৫ হাজার ১৭৯টি অভিযোগপত্র দিয়েছে।

জাতীয় পার্টির মুজিবুল হকের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ক্যাসিনো ও দুর্নীতির সাথে যেই জড়িত থাকুক না কেন, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।

““সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন ক্যাসিনোর সাথে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তির সম্পদের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশের কোন কোন ব্যক্তি সিঙ্গাপুরে ক্যাসিনো খেলেছে, সে সম্পর্কিত তথ্য প্রেরণের জন্য দুদক সিঙ্গাপুর সরকারকে অনুরোধ করেছে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখতে দুদক বদ্ধপরিকর। এছাড়া কারা কারা অভিজাত গাড়ি কিনেছে, সেই সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে।”

আরো পড়ুন>> সভাপতির পদ ছাড়ছেন শেখ হাসিনা !

সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবির প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, দলমত নির্বিশেষে সব ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। সারাদেশের এ ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী অভিযান পরিচালনা করছে।

জাতীয় পার্টির সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দুর্নীতির বিষবৃক্ষ সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলে দেশের প্রকৃত আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য একটি সুশাসনভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”

জাতীয় পার্টির মসিউর রহমান রাঙ্গাঁর প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, ভারতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রাজ্যগুলোতে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপর।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ থেকে ভারতের ত্রিপুরায় বাল্ক এলপিজি রপ্তানির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আমাদের বেসরকারি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বিদেশ হতে আমদানি করা এলজিপি গ্যাস সিলিন্ডারে ভরে ভারতে রপ্তানি করে মুনাফা অর্জন করতে পারবে। এতে বাংলাদেশে কোনো ধরনের জ্বালানি সমস্যার সৃষ্টি তো হবেই না, উপরন্তু আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের আরও একটি নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হল।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারত থেকে পণ্য আমদানি ও রপ্তানির জন্য এসওপি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর ফলে ভারত আমদানি-রপ্তানির জন্য এ বন্দর দুটি ব্যবহার করতে পারবেন। যা উভয় দেশের জন্যই লাভজনক।

“অদূর ভবিষ্যতে ভারতের পাশাপাশি নেপাল ও ভুটান আমাদের বন্দর ব্যবহারের সুযোগ গ্রহণ করবে আশা করি। এমনকি চীনের দক্ষিণ-পঞ্চিমাঞ্চলের রাজ্যগুলো এ বন্দর দুটি ব্যবহার করতে চাইলে স্বাগত জানাবো।”

স্বাআলো/এম