ওয়ার্কার্স পার্টি মতাদর্শ রক্ষা সমন্বয় কমিটির কেন্দ্রীয় সম্মেলন ২৯ ও ৩০ ডিসেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর:  বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি মতাদর্শ রক্ষা সমন্বয় কমিটির বর্ধিতসভা যশোর জেলা পার্টি কার্যালয়ে শুক্রবার দুপুরে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্কার্স পার্টির কন্ট্রোল কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কমরেড অনিল বিশ্বাস। উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাম আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা কমরেড বিমল বিশ্বাস।

সভার শুরুতেই মতাদর্শ রক্ষা সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক কমরেড ইকবাল কবির জাহিদ কোন পরিস্থিতিতে এবং কেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের একাংশ ১০ম কংগ্রেস বর্জনের আহবান জানান তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন।

কমরেড ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, বিভক্ত কমিউনিস্টদের ঐক্যবদ্ধ করা, বামগণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করা, শ্রেণি সংগ্রাম, গণসংগ্রাম, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন লুটেরা বুর্জোয়া শ্রেণির সরকারের বিকল্প মৌলবাদী চরম দক্ষিণপন্থি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি নয়- জনগণের বিকল্প শক্তি এবং বামগণতান্ত্রিক শক্তির সমাবেশ গড়ে তোলার লড়াই জরুরি হয়ে পড়েছে। সে কারণে পার্টির কেন্দ্রে থাকা সুবিধাবাদী বুর্জোয়া লেজুড়বাদের মতাদর্শবিরোধী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে এই বিদ্রোহ একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসাবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, এই সরকার ব্যবসায়ী, লুটেরা ধণিক শ্রেণি, ঘুষখোর আমলা ও দুর্নীতিবাজদের সরকার। পিঁয়াজ- রসুন থেকে শুরু করে জনগণের নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছু নিয়েই ব্যবসা করছে সরকারের লোকজন। তারা একদিকে যেমন জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছে, তেমনি লুটপাট, দলীয়করণ, শোষন নির্যাতনের মাধ্যমে উন্নয়নের সুফল গুটিকতক ব্যক্তির পকেটে ঢুকছে। ফলে সমাজে দেখা দিয়েছে সীমাহীন বৈষম্য। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য তারা জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিতেও কুণ্ঠা করছে না। পাটকল, বস্ত্রকলসহ লক্ষ কোটি শ্রমিকের ন্যায়সঙ্গত দাবি দাওয়া উপেক্ষা করে কোনও উন্নয়নই সুফল বয়ে আনতে পারে না। তিনি বলেন, এমন একটি শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে লুটেরা বুর্জোয়াদের নেতৃত্বে নয়-বামগণতান্ত্রিক শক্তির নেতৃত্বে জনগণের বিকল্পশক্তির মহাউত্থান ঘটাতে হবে, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।  সভায় জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আগামী ২৯-৩০ নভেম্বর যশোরে অনুষ্ঠিতব্য মতাদর্শ রক্ষা সমন্বয় কমিটি কেন্দ্রীয় সম্মেলন সফল করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় খুলনা বিভাগের সকল জেলা কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স্বাআলো/টিআই