রংপুরে মুখোমুখি আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পাটি

রংপুর ব্যুরো : রংপুর মহানগর জাতীয় যুব সংহতির সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির মিছিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জড়িয়ে শ্লোগান দেয়ার অভিযোগ নিয়ে আজ শুক্রবার তুলকালাম কান্ড ঘটেছে রংপুরে। বিষয়টি নিয়ে এখন মুখোমুখি অবস্থানে জাতীয় যুব সংহতি ও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ। ইতোমধ্যেই এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছে ছাত্রলীগ। আজ শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে করে ৬ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে যুবলীগ ছাত্রলীগ, মহিলা যুবলীগ। আর এই প্রচারণাকে মিথ্যা দাবি করে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহবান জানিয়েছে মহানগর জাতীয় যুব সংহতি।

রংপুর কোতয়ালী থানায় দায়ের করা জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদী হাসান রনির সাধারণ ডায়েরীতে উল্লেখ করা হয়, বৃহস্পতিবার সন্ধা  পৌনে ৬ টা থেকে পৌনে ৭ টার মধ্যে জাতীয় পার্টির অঙ্গ সংগঠন যুব সংহতির একটি মিছিল দলীয় কার্যালয় থেকে প্রেসক্লাব হয়ে দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলটি বিভিন্ন জায়গা প্রদক্ষিণের সময় নেতাকর্মীরা তাদের নিজ দলীয় এমপি কাজী ফিরোজ রশিদ ও প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়ার পাশাপাশি শেখ হাসিনার দুই গালে জুতা মারো তালে তালে বলে শ্লোগান দেয়। যা জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু পরিবারের মানহানি বলে আমি ও আমার সংগঠন মনে করি। বিষয়টি আমি আমার অভিভাবক সংগঠনের সাথে আলাপ করে সাধারণ ডায়েরীভূক্ত করলাম এবং পরবর্তীতে কর্মসূচি ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে রংপুরে এখন মুখোমুখি আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠন।  আজ শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনার প্রতিবাদে নগরীতে বিক্ষোভ করেছে মহানগর ও জেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা যুবলীগসহ বিভিন্ন সংগঠন। এরমধ্যে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা যুব মহিলা লীগ, মহানগর অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনগুলো মিছিল বের করে নগরীর বেকপট্রিস্থ দলীয় কার্যালয় থেকে। আর জেলা অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনগুলো মিছিল কের করে নগরীর চাউল আমোদ রোডের ছাত্রলীগ কার্যালয় থেকে। জেলার মিছিলটি নগরীর সিটি করপোরেশন এলাকা থেকে ঘুরে জাহাজ কোম্পানী মোড়ে সমাবেশ করে। সেখানে ৬ ঘন্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের আল্টিমেটাম দিয়ে বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদী হাসান সিদ্দিকী রনি।

অন্যদিকে মহানগর কমিটির মিছিলগুলো বেতপট্রি থেকে শাপলা চত্বর হয়ে দলীয় কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। সেখানে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মহানগর যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মুরাদ হোসেন ও ছাত্রলীগ সভাপতি স্বাধীন। সেখান থেকেও একই আল্টিমেটাম দেয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা না হলে লাগাতর অবরোধ দেয়ার ঘোষনা দেয়া হয় উভয় সমাবেশ থেকে।

আরো পড়ুন>> রংপুর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত, ২ বগিতে আগুন

অন্যদিকে মহানগর জাতীয় যুব সংহতি সাংবাদিক সম্মেলন করে এ ধরনের অভিযোগকে বিকৃত ও বিভ্রান্তিমুলক প্রচারণা বলে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। আজ শুক্রবার সন্ধা  সাড়ে ৬ টায় নগরীর সেন্ট্রাল রোডস্থ জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মহানগর জাতীয় পার্টির সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহবায়ক শাহীন হোসেন জাকির জানান,  রংপুর মহানগর যুব সংহতির সুস্পস্ট বক্তব্য হলো-জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার নেতৃত্বাধীন সরকারের সাথে জাতীয় পার্টি এবং অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠন মহাজোটবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতিতে ভূমিকা পালন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে সন্ধায় রংপুর মহানগর জাতীয় যুব সংহতির সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির একটি শান্তিপুর্ন মিছিল দলীয় কার্যালয় থেকে বের হয়ে প্রেসক্লাবে ঘুরে আবারও দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলের ফাঁকে প্রেসক্লাব চত্বরে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গার বিরুদ্ধে কাজী ফিরোজ রশিদের আপত্তিকর বক্তব্যের জন্য তার কুশপুত্তলিকা দাহ করেন নেতাকর্মীরা। কিন্তু ওই মিছিল ও কর্মসূচি নিয়ে একটি চিহ্নিত চক্রের মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে শ্লোগান দেয়ার বিভ্রান্তিমুলক প্রচারণা চালানো হয়। এ বিষয়ে রংপুর কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরীও করা হয়েছে আমাদের বন্ধু প্রতিম ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জেলা কমিটির পক্ষ থেকে। সাংবাদিক সম্মেলনে শাহীন হোসেন জাকির আরো জানান, জাতীয় যুব সংহতির ওই মিছিল থেকে প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে কোন ধরনের শ্লোগান প্রদান করা হয় নি। এ ধরনের শ্লোগান দেয়ার কোন প্রশ্নও উঠে না। একটি অশুভ চক্র দীর্ঘদিন থেকে রংপুরে জাতীয় পার্টি এবং অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করে আসছে।

স্বাআলো/এম