ভিক্ষুক মনোয়ারার শেষ আশ্রয়টি কেড়ে নিল বুলবুল

জেলা প্রতিনিধি, পটুয়াখালী : পঁচাত্তর বছরের বৃদ্ধা মনোয়ারা বেগম। সংসারে তার ছেলে সন্তান কিংবা স্বামী নেই। শুধু আছে মানষিক প্রতিবন্ধী মেয়ে ফরিদা বেগম। আর তাকেই নিয়ে তার সংসার। বাড়িতে বাড়িতে ভিক্ষা করে সংসার চালান তিনি। থাকতেন স্বামীর রেখে যাওয়া খরকুটোর ছোট্ট একটি ঘরে। দীর্ঘদিন জীবন-যাপন করে আসছিলেন মনোয়ারা। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় বুলবুল তার অভাবের এই সংসারটিকেও ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। শনিবার ভোর রাতে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে মনোয়ারার ঝুপড়ি ঘরটি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। তবে সাইক্লোন শেল্টারে গিয়ে আশ্রয় নেয়ার কারণে প্রাণে বেঁচে যান তিনি ও তার প্রতিবন্ধী মেয়ে ফরিদা। ঘরটি হারিয়ে যাওয়ায় এখন তাদের মাথা গোঁজার যায়গাটুকুও নেই। এমন ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নেরর টুঙ্গিবাড়িয়া গ্রামে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আঘাত হানার প্রায় এক সপ্তাহ পার হলেও রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেয়া হয়নি কোন প্রকার ত্রাণ সহায়তা।

জানা গেছে, মনোয়ারার স্বামী কৃষক শামসুল হক বয়াতী। ১০ থেকে ১২ বছর আগে মারা যান তিনি। শামসুল হক বয়াতীর মৃত্যুর পর একমাত্র ছেলে নাসির বয়াতী কিছুদিন সংসারের হাল ধরেছিল। অভাব-অনাটনের মধ্যে কয়েক বছর মা ও বোনকে নিয়ে সংসার চালায় তিনি । এর পর গত ৫ বছর আগে সংসার ফেলে  ঢাকা চলে যান নাসির। এদিকে ছেলে চলে যাওয়ার পর মা মনোয়ারা অসহায় হয়ে পড়েন। মানষিক প্রতিবন্ধী মেয়ে ফরিদাকে নিয়ে নতুন করে শুরু করেন তার সংগ্রাম। অন্যের বাড়িতে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তা দিয়েই কোনভাবে মেয়ে ফরিদাকে নিয়ে আসছিলেন মনোয়ারা বেগম। এভাবে দীর্ঘ কয়েক পার করছিলেন তিনি।  কিন্তু গত ৯ নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড় বুলবুল কেড়ে নেয় মনোয়ারার বেগমের খরকুটোর সেই ঘরটি।  ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ঘরটি কেড়ে নেয়ায় এবার মাথাগোঁজার ঠাইও রইলোনা অসহায় এই বৃদ্ধার। ঘর হারিয়ে এখন পাশের একটি বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। গত ৫-৬ দিন যাবৎ সেখানেই কোনভাবে আছেন। ঘূর্ণিঝড় পরবর্তি সময়ে কোন প্রকার ত্রাণও পায়নি এই বৃদ্ধা। আগামী দিনে কোথায় থাকবেন, কি খাবেন এনিয়ে চিন্তিত সে।  এভাবেই অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন মনোয়ারা বেগম ও তার প্রতিবন্ধি মেয়ে ফরিদা বেগম।

আরো পড়ুন>> পটুয়াখালীতে ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় প্রস্তুতি সভা, একজন নিখোঁজ

মনোয়ারা বেগম জানান, ‘বাবা এ্যাকে এ্যাকে সব আরাইলাম। সব আরাইবার পর ভিক্ষা কইরা নাবুঝ মাইডারে লাইয়া খাইছি। আর ভাঙ্গা ঘরে থাকছি। বইন্নায় (বন্যা) হেই ভাঙ্গা ঘরডাও লইয়া গ্যাছে। এ্যাহন আমাগো মাথা রাহার যায়গাডাও নাই। এ্যাত বড় বইন্নাডা গ্যাল কেউ আমাগো খবর লইতে আইলোনা। সাহায্যতো পরের কতা বইন্নায় আমরা আছি না মরছি কেউ দ্যাখতেও আয় নাই।’

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাশফাকুর রহমান জানান, বিষয়টি আসলেই কষ্টের। আমরা খোঁজ নিয়ে তাড়াতাড়ি  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

স্বাআলো/এম