লবণের গুজব ঠেকাতে রংপুর জুড়ে মাইকিং

রংপুর ব্যুরো : রংপুর নগরীসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় লবণের দাম বৃদ্ধি নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। গুজবে কান না দিতে রংপুর জুড়ে করা হচ্ছে মাইকিং। বাস্তবে লবণের দাম না বাড়লেও গুজবের কারণে ক্রেতা সমাগম বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়ে গেছে লবণের দাম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল সোমবার প্রতি কেজি লবণ ৩০ টাকায় বিক্রি হলেও আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন বাজারে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কিন্তু গুজব ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়ে বিকালেই তা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি ছাড়িয়েছে। বিভিন্ন কোম্পানির প্যাকেট লবণের পাশাপাশি খোলা লবণও ব্যাপক হারে বিক্রি হচ্ছে।

গুজবের কারণে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী রংপুর নগরীর লালবাগ, সিটি বাজার, মাহিগঞ্জ, মর্ডাণ মোড়, চকবাজার, দমদমা, সিও বাজার, সাতমাথাসহ জেলার পীরগাছা, চৌধুরানী, দামুরচাকলা, পাওটানাহাট, টেপামধুপুর, কাউনিয়া, হারাগাছ, খানসামা, মিঠাপুকুর, বৈরাতি, বালারহাট, জায়গীরহাট, ভাংনী মাটেরহাট, বৈরাগীগঞ্জ, পীরগঞ্জ, খালশপীর, ভেন্ডাবাড়ি, গংগাচড়া, পাগলাপীর, পালিচড়া, শ্যামপুর, বদরগঞ্জসহ নগরী ও জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে লবণ বেশি দামে বিক্রি শুরু হয়। লবণের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে এমন খবরে সাধারণ মানুষ মুদি দোকানগুলোতে লবণ ক্রয়ের জন্য ভিড় জমাচ্ছেন। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

পীরগাছা সদরে বাজার করতে আসা তাজুল ইসলাম বলেন, ‘লবণের দাম ২০০ টাকা কেজি হবে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকে ক্রেতারা দোকানে ভিড় করছে লবণ ক্রয়ের জন্য। আমিও লবণ কিনে রাখছি, যাতে দাম বাড়লেও আর কিনতে না হয়।’

নগরীর মর্ডাণ মোড়ের আনিছ মিয়া ও বাহার কাছনার মাহমুদুল ইসলাম মানিক দুই ক্রেতা বলেন, ‘ফেসবুকে লবণের দাম বৃদ্ধি হচ্ছে এমন খবর দেখে ৫ কেজি করে লবণ কিনি। তবে শুনলাম এটা গুজব।’

রংপুর সিটি বাজারের হালিম এন্ড সন্স নামে পাইকারী লবণ সরবরাহকারী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘লবণের দাম বাড়েনি। প্রচুর লবণ মজুদ রয়েছে। সাধারণ জনগণ গুজবে কান দিয়েছে বলেই এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে বাজারে খোলা লবণ পাইকারী প্রতি বস্তা (৬৫ কেজি) ৭০০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। তিস্তা লবণের প্রতি আধা কেজি প্যাকেট ১০ টাকা চল্লিশ পয়সা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও একই দাম ছিল।

এব্যাপারে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল আলীম মাহমুদ জানান, গুজব রুখতে মাইকিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাজার মনিটরিং করতে কর্মকর্তাদের নিদের্শনা দেয়া হয়েছে। কেউ যাতে গুজবকে কাজে লাগিয়ে বেশি দামে লবণ বিক্রি করতে বা মজুদে রাখতে না পারে সেজন্য নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

স্বাআলো/ডিএম