কলকাতার গোলাপি রাজ্যে বইবে লাল-সবুজের ঢেউ

স্পোর্টস ডেস্ক: এর আগেও বেশ কয়েকবার দিবারাত্রির টেস্ট ম্যাচ খেলার প্রস্তাব পেয়েছিল ভারত। নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ দলকেও দেয়া হয়েছিল এমন প্রস্তাব। কিন্তু কারও ডাকেই সাড়া দেয়নি ভারত-বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড।

কিন্তু মাসখানেক আগে সৌরভ গাঙ্গুলি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নতুন সভাপতি হওয়ার পরই বদলে গেছে সবকিছু। আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়া হয় ভারতের পক্ষ থেকে খুব বেশি দিন অনুশীলনের সময় পাবে না জেনেও, তাতে রাজি হয়ে যায় বাংলাদেশ।

যার ধারাবাহিকতায় আগামীকাল শুক্রবার কলকাতার ঐতিহাসি ইডেন গার্ডেনসে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম দিবারাত্রির টেস্ট ম্যাচ খেলতে নামবে ভারত ও বাংলাদেশ। আর এ ম্যাচটিকে আরও জমকালো, স্মরণীয় করে রাখতে নানান আয়োজন করছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি) এবং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।

এরই মধ্যে পুরো কলকাতাকে গোলাপি রঙে সাজিয়ে তুলেছে সিএবি। দিবারাত্রির টেস্টের গোলাপি বলের জন্যই করা হয়েছে এমন আয়োজন। শুধু তাই নয়, ম্যাচ চলাকালীন ইডেন গার্ডেনসের গ্যালারিগুলোতেও থাকবে গোলাপির ছোঁয়া। যেখানে গলা ফাঁটাবে অন্তত ৬০-৬৫ হাজার দর্শক।

স্বাভাবিকভাবেই স্বাগতিক দেশ হিসেবে ইডেনের দিবারাত্রি টেস্টে আধিক্য থাকবে ভারতীয় দর্শকদের। তবে কম যাবে না বাংলাদেশের দর্শকরাও। ইডেনের গোলাপি রাজ্যে লাল-সবুজের ঢেউ তুলতে অন্তত ৬-৭ হাজার বাংলাদেশি দর্শক এখন পাড়ি জমিয়েছেন কলকাতায়। যাদের মধ্যে ৫ হাজার দর্শক পেয়ে গেছেন ইডেনে বসে সরাসরি খেলা দেখার টিকিট নামক সোনার হরিণ।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি জানিয়েছেন টেস্টের প্রথম চারদিনের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। যা দেখে আয়োজকদের মনে এসেছে স্বস্তি। এখনও টিকিটের জন্য ইডেনের গেটের বাইরে দেখা যায় মানুষের ভিড়। যার ফায়দা নিয়ে ৩৫০ রুপির টিকিট ৫০০ রুপিতে ব্ল্যাকে বিক্রির চেষ্টাও করছেন অনেকে।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে তিনি বলেন, ‘আমি ২০০০ সালে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট ম্যাচটি মাঠে বসে দেখেছি। এবার কলকাতায় বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম দিবারাত্রির টেস্ট ম্যাচ খেলবে। আমি মনে করি এটা ঐতিহাসিক মুহূর্ত এবং সেই ইতিহাসের অংশ হতেই এসেছি। তবে আমি শুধু প্রথম দুই দিনের খেলা দেখবো। এরপর ঢাকায় ফিরে যাবো নিজের কর্মক্ষেত্রে।’

হাসিবের মতোই বাংলাদেশ থেকে ইতিহাসের অংশ হতে কলকাতায় পা রেখেছেন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম পরিচিত মুখ বুলু দাস। যার প্রাতিষ্ঠানিক পদবী হয়তো বড় কিছু নয়। তবে খেলোয়াড় এবং সংবাদকর্মীদের সেবা-যত্ন করার ক্ষেত্রে তার জুরি মেলা ভার।

স্বাআলো/আরবিএ