রায় বুধবার : নিরাপত্তা চাদরে আদালত চত্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা মামলার ঘটনায় ৩ বছর ৪ মাস পর আগামীকাল বুধবার রায় ঘোষণা করা হবে। আর রায়কে কেন্দ্র করে বুধবার আদালতে থাকবে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

আজ মঙ্গলবার আদালতের উপ পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) জাফর হোসেন বলেন, রায়কে কেন্দ্র করে আমরা আদালত পাড়ায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। বুধবার সকাল থেকে চেকিংয়ের মাধ্যমে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ঢোকানো হবে। মেটাল ডিটেক্টর ও আর্চওয়ে বসানো হবে।

তিনি বলেন, রাত থেকেই কোতয়ালী থানা পুলিশকে আদালতে নজরদারি করতে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যেই ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মীর রেজাউল আলম ও কৃষ্ণ পদ রায় আদালত পরিদর্শন করেছেন। তারা সংশ্লিষ্টদের দিক নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। রায় শেষের পরও যতক্ষণ প্রয়োজন এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল থাকবে।

আজ মঙ্গলবার র‍্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, রায়ের কথা মাথায় রেখে আমরা আজ মঙ্গলবার থেকেই সর্তকতা অবস্থানে রয়েছি। আগামীকাল বুধবার রায়ের দিন আমাদের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। জঙ্গিরা যেন কোনো ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজ না করতে পারে সে জন্য আমরা সব সময় সতর্ক থাকি।

আরো পড়ুন>> হলি আর্টিজান মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ ৬ ফেব্রুয়ারি

তিনি বলেন, আগামীকালের রায় আমাদের জন্য একটি মাইলফলক। হলি আর্টিজানের ঘটনায় দেশ-বিদেশে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলো। এদেশে এই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে মানুষ কখনো কল্পনা করেনি। আগামীকালের রায়ে আমরা আশা করব যারা নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে। নিহতদের স্বজনরাও ন্যায়বিচার পাবেন বলে আমাদের প্রত্যাশা।

২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে (স্প্যানিশ রেস্তোরাঁ) হামলা চালায় জঙ্গিরা। ওই হামলায় ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে তারা। নিহতের মধ্যে নয়জন ইতালি, সাতজন জাপানি ও একজন ভারতীয় ছিলেন।

এর আগে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপর গ্রেনেড হামলা চালায় জঙ্গিরা। গ্রেনেড হামলায় ডিবি পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ওসি সালাউদ্দিন আহমেদ নিহত হন।

পরদিন সকালে যৌথ বাহিনী কমান্ডো ‘অপারেশন থার্ডারবোল্ট’ নামক অভিযান চালায়। এতে পাঁচ হামলাকারী নিহত হয়। অভিযানে রেস্তোরাঁর প্রধান শেফ সাইফুল ইসলাম মারা যান। গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রেস্তোরাঁটির সহকারী শেফ জাকির হোসেন। ২০১৬ সালের ৪ জুলাই নিহত ৫ জঙ্গিসহ অজ্ঞাতদের আসামি করে গুলশান থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

ঘটনায় জড়িত ২১ জনকে চিহ্নিত করে জীবিত আটজনের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজম বিভাগের পরিদর্শক হুমায়ূন কবির ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। বাকি ১৩ জন মামলা তদন্ত চলাকালীন বিভিন্ন সময় মারা যান।

স্বাআলো/এম