বেদে পরিবারে ডিজিটালের ছোঁয়া

রংপুর ব্যুরো: পলিথিনের মোড়ানো ঝুপড়ি ঘরে ঝলমল করছে সৌর-বিদ্যুতের আলো। প্রতিটি অস্থায়ী ঘরের ওপরে লাগানো হয়েছে সোলার প্লান্ট। যাযাবর জীবনের অন্ধকারে কেটে আলোকিত হয়ে উঠছে এসব বেদে পরিবারের জীবন। এখন সবার  হাতে হাতে মুঠোফোন। সেই মুঠোফোন এখন সৌর বিদ্যুৎ দিয়েই চার্জ দেয়া হয়। সেই ফোনে মেমোরি কার্ড লাগিয়ে চলছে বিনোদন। এই আলোতেই পড়ালেখা করছে বেদে পরিবারের ছেলে-মেয়েরা । বর্তমানে এই বেদেরা আলোকিত ঘরে ডিজিটালের ছোঁয়া লেগেছে।

এমন বেদে পরিবারের দেখা মেলে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পশ্চিমদেবু গ্রামে। সেখানে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছে ২০টি বেদে পরিবার। তারা জানান, বংশ পরম্পরায় বেদে সম্প্রদায়ের লোকজনের পেশা সাপ ধরা, সাপ খেলা দেখানো এবং নানা তাবিজ-কবজ ও কবিরাজি ওষুধ বিক্রি করা। নৌকার ভাসমান যাযাবর জীবন ছেড়ে এখন উঠে এসেছেন ডাঙায়। অনেকে এখন বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে অন্য কাজ করছে। সাপ কেনা-বেচা ও সাপ খেলার ব্যবসা আগের মতো চলে না। ছেলে-মেয়েরাও আর এ পেশায় আসতে চায় না। তারা পড়ালেখা করে মানুষের মতো মানুষ হতে চায়। ভবঘুরে জীবন ছেড়ে নিয়মিত স্কুলে যেতে চায়।

আরো পড়ুন>>> বাসচাপায় সড়কে রাজীব-দিয়ার মৃত্যু, বিচারের রায় বিকেলে

আদম আলী  নামে একজন বেদে বলেন, খোলা আকাশের নিচে গাছ তলায়, আমরা দলবেধে বসবাস করি। আগে অন্ধকার রাতে কুপির আলো ছিল আমাদের ভরসা। কিন্তু এখন সৌর বিদ্যুতের আলো আছে।

বেদে সরদার নুনু মিয়া বলেন, আমরা বছরের ১০ মাস দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াই আর দু’মাস ঢাকার সাভারে নিজ ভিটায় থাকি। যখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অস্থায়ী বসবাস করি তখন রাতে কেরোসিনের বাতিই ভরসা ছিল। এখন রাতে সৌর বিদ্যুতের বাতি জ্বলে। এখান থেকে মোবাইলে চার্জ দিতে পারি। মেমরি কার্ড দিয়ে ভিডিও দেখতে পারি।

স্বাআলো/এসএ