ধানের ম-ম গন্ধে মন ভরেনি কৃষকের, মণ প্রতি ক্ষতি ৩০০ টাকা

এম আর মাসুদ, ঝিকরগাছা (যশোর): যশোরের ঝিকরগাছায় মাঠে হেমন্তের রোপা আমনের ম ম গন্ধ থাকলেও বাড়িতে নেই নতুন ধানকে ঘিরে নবান্ন উৎসব। বরং ধানের দাম না থাকায় কৃষকের কপালে দেখা গেছে চিন্তার রেখা। নতুন ধানের দাম নিয়ে কৃষক রীতিমতো বিপাকেও পড়েছেন।

চলতি বছর উপজেলায় রোপা আমন ধান চাষে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৮ হাজার হেক্টর। চাষ হয়েছে ১০০ হেক্টর বেশি জমিতে। উৎপাদিত ধানের পরিমাণ ৮৫ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন।

আরো পড়ুন>>> পরিবারের সাত প্রতিবন্ধী নিয়ে কী করবেন চৌগাছার সরলা?

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় কৃষক মাঠ থেকে ধান কেটে বাড়ি আনার পরপরই দাম পড়তে শুরু করেছে। অনেক হাট-বাজারে ধান বিক্রি না হওয়ারও অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার বাঁকড়া, ছুটিপুর, গদখালীসহ ছোট বড় হাট-বাজারে নতুন ধান বিক্রি হচ্ছে ৫৫০-৫৭০টাকা মণ। তাও আবার যেচে দিতে হচ্ছে আড়ৎদারদেরকে। অপর দিকে ভরা মৌসুমেও শীতকালীন শাকসবজীর দাম আকাশ ছোঁয়া। পেঁয়াজের দাম এখনো ২২০টাকা কেজি। ফলে এক মণ ধানের টাকায় কৃষক আড়াই কেজি পেঁয়াজ কিনছেন।

উপজেলার ফতেপুর গ্রামের কৃষক বিজয় কুন্ডু জানান, এক বিঘা জমিতে ১৪ মণ ধান পেয়েছেন। ধান বিক্রি করেছেন ৫৬০ টাকা করে। তার দাবি এক মণ ধান বিক্রি করে আড়াই কেজি পেঁয়াজ হচ্ছে।

উপজেলার বল্লা গ্রামের কৃষক ইজহারুল ইসলাম জানান, ১০ বিঘা জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ করেছেন। বাজার দর হিসেবে ধান কাটা, বাঁধা, মাড়াই করে আড়তে পৌছাতে যে খরচ হচ্ছে, সে টাকায়ও ধান বিক্রি হচ্ছে না। ফলে প্রতি মণ ধানে কৃষককে গচ্চা গুণতে হচ্ছে ২৫০-৩০০ টাকা। ঝিকরগাছা বাজারের বোটঘাট রোডের ধান ব্যবসায়ী আবু বাক্কার সিদ্দিক জানান, বর্তমান ধানের বাজারদর ৫৫০-৫৭০ টাকা। যা কিছুদিন আগেও ছিল সাড়ে ৭০০ টাকা করে।

স্বাআলো/এসএ